Bartaman Logo
৮ জুন, ২০২৬
বর্তমান / সম্পাদকীয়

কৃষ্ণ

কৃষ্ণ বলছেন, পরমপুরুষের কাছে কেবল তাঁকে চাইতে হবে। এই শিক্ষা আমাদের জীবনকে বদলে দিতে পারে। বিস্তারিত পড়ুন।

কৃষ্ণ
  • ৮ জুন, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

কৃষ্ণ বলছেন, “যে যথা মাং প্রপদ্যন্তে”। অর্থাৎ এই বিশ্বে আমরা যা কিছু স্পর্শ করি, দেখি তা সবেরই স্রষ্টা হলেন কৃষ্ণ। মানুষ তাঁর কাছ থেকে যে জিনিসটা প্রার্থনা করে থাকে তিনি তা যোগান দেন। তাই কৃষ্ণ বলছেন, যে যে রকম বাসনা-কামনা নিয়ে আমার কাছে যা চাইবে আমি তার যোগান দিয়ে থাকি। আমি সেইভাবে তার মনস্কামনা পূর্ণ করে থাকি। কেউ যদি তাঁর কাছ থেকে ধনদৌলত চেয়ে থাকে সে হয়তো তা পেয়েও যাবে কিন্তু সে পরমপুরুষকে পাবে না। কারণ, সে তো ধনদৌলতই চাইছে, পরমপুরুষকে চাইছে না। তেমনি কেউ যদি পরমপুরুষের কাছ থেকে যশঃ-প্রতিপত্তি চায় সে তা পেলেও পেতে পারে, কিন্তু পরমপুরুষকে পায় না কারণ সে যশঃ-প্রতিপত্তি চাইছে, পরমপুরুষকে নয়। মানুষ হয়তো চাইল যে পরমপুরুষ তার শত্রুর নিধন করুন। এখন মানুষ যদি ধর্মপথে থাকে অর্থাৎ তার দাবীদাওয়াগুলি যদি ধর্মসঙ্গত হয় পরমপুরুষ হয়তো তার শত্রু নিধন করবেন। কিন্তু সে পরমপুরুষকে পাবে না কারণ পরমপুরুষকে তো সে চায়নি। ঠিক তেমনি মানুষ যদি পরমপুরুষের কাছ থেকে মুক্তি-মোক্ষ চায় তাহলে যদি সে মুক্তি-মোক্ষ লাভের উপযুক্ত পাত্র বিবেচিত হয় তবে তা’ সে পেয়ে যাবে, কিন্তু পরমপুরুষকে পাবে না কারণ সে তো আর পরমপুরুষকে চাইছে না। কাজেই যে সাধক বুদ্ধিমান সে বলবে, “হে পরমপুরুষ আমি তোমাকেই চাই—অন্য কিছু নয়, অন্য কাউকেই নয়। যদি বলো আমি কেন তোমাকেই চাই তাহলে বলব তুমি আমাকে আনন্দ দেবে এই জন্যে আমি তোমাকে চাইছি না, তোমার উপস্থিতি আমাকে তোমার সেবা করবার সুযোগ দেবে বলে চাইছি। তোমাকে কাছে পেয়ে আমি তোমাকে আনন্দ দেবার সুযোগটা নিতে চাই। তোমার আনন্দ দিয়ে আমার আনন্দ। আমি নিজে আনন্দ পাবার জন্যে চেষ্টা করছি না”। তাই বুদ্ধিমান আধ্যাত্মিক সাধক বলবেন—“আমি তোমার কাছ থেকে কোন স্থূলে পাঞ্চভৌতিক জিনিস চাই না, আমি শুধু তোমাকে চাই”।

Advertisement

রামায়ণে একটা গল্প আছে। এটা নিছক গল্প—একটা বিশেষ লোকশিক্ষার গল্প। একবার মহর্ষি বিশ্বামিত্র রাম ও লক্ষ্মণকে সঙ্গে নিয়ে গঙ্গা পেরিয়ে মিথিলার দিকে যাচ্ছিলেন। গঙ্গা নদীর অপর পারে গিয়ে মাঝি নৌকাটা ঘাটে ভিড়াল। দেখল—নৌকাটা আর কাঠের নৌকা নেই, সেটা সোণা হয়ে গেছে। মাঝি ভাবল ‘রাম’ নামের ওই ছোট্ট ছেলেটি নিশ্চয় সাধারণ বালক নয়। সে ভাবল এই অসাধারণ বালকেরই অলৌকিক পাদস্পর্শে কাঠের নৌকা সোণার নৌকায় রূপান্তরিত হয়েছে। তখন মাঝির স্ত্রী বাড়ী থেকে যত কাঠের আসবাবপত্র নিয়ে এসে রামচন্দ্রের চরণপ্রান্তে এনে জড় করল। সে ঘর থেকে এক একটা কাঠের জিনিসকে নিয়ে এসে রামচন্দ্রের পায়ে স্পর্শ করিয়ে সোণায় পরিণত করে নিল। তাই দেখে মাঝি তার স্ত্রীকে বলল—দেখো, তুমি কি বোকা মেয়েমানুষ, কী করতে হয় সেই আক্কেলটাই তোমার নেই। তোমার বাস্তব বুদ্ধির বড্ড অভাব। তুমি দেখেছ রামচন্দ্রের ওই চরণ দু’টির কী বিরাট গুণ। যদি তুমি বুদ্ধিমতী হয়ে থাকো, যদি ঘটে তোমার বুদ্ধি থাকে, তাহলে ওই চরণযুগলকেই বাড়ীতে নিয়ে যাও আর সব কিছুকে সেই শ্রীচরণে ছুঁইয়ে সোণায় পরিণত করে নাও। এটাই হ’ল সিদ্ধির গুপ্ত রহস্য।
শ্রীশ্রীআনন্দমূর্ত্তির ‘কৃষ্ণতত্ত্ব ও গীতাসার’ থেকে

সম্পর্কিত সংবাদ