কৃষ্ণ বলছেন, “যে যথা মাং প্রপদ্যন্তে”। অর্থাৎ এই বিশ্বে আমরা যা কিছু স্পর্শ করি, দেখি তা সবেরই স্রষ্টা হলেন কৃষ্ণ। মানুষ তাঁর কাছ থেকে যে জিনিসটা প্রার্থনা করে থাকে তিনি তা যোগান দেন। তাই কৃষ্ণ বলছেন, যে যে রকম বাসনা-কামনা নিয়ে আমার কাছে যা চাইবে আমি তার যোগান দিয়ে থাকি। আমি সেইভাবে তার মনস্কামনা পূর্ণ করে থাকি। কেউ যদি তাঁর কাছ থেকে ধনদৌলত চেয়ে থাকে সে হয়তো তা পেয়েও যাবে কিন্তু সে পরমপুরুষকে পাবে না। কারণ, সে তো ধনদৌলতই চাইছে, পরমপুরুষকে চাইছে না। তেমনি কেউ যদি পরমপুরুষের কাছ থেকে যশঃ-প্রতিপত্তি চায় সে তা পেলেও পেতে পারে, কিন্তু পরমপুরুষকে পায় না কারণ সে যশঃ-প্রতিপত্তি চাইছে, পরমপুরুষকে নয়। মানুষ হয়তো চাইল যে পরমপুরুষ তার শত্রুর নিধন করুন। এখন মানুষ যদি ধর্মপথে থাকে অর্থাৎ তার দাবীদাওয়াগুলি যদি ধর্মসঙ্গত হয় পরমপুরুষ হয়তো তার শত্রু নিধন করবেন। কিন্তু সে পরমপুরুষকে পাবে না কারণ পরমপুরুষকে তো সে চায়নি। ঠিক তেমনি মানুষ যদি পরমপুরুষের কাছ থেকে মুক্তি-মোক্ষ চায় তাহলে যদি সে মুক্তি-মোক্ষ লাভের উপযুক্ত পাত্র বিবেচিত হয় তবে তা’ সে পেয়ে যাবে, কিন্তু পরমপুরুষকে পাবে না কারণ সে তো আর পরমপুরুষকে চাইছে না। কাজেই যে সাধক বুদ্ধিমান সে বলবে, “হে পরমপুরুষ আমি তোমাকেই চাই—অন্য কিছু নয়, অন্য কাউকেই নয়। যদি বলো আমি কেন তোমাকেই চাই তাহলে বলব তুমি আমাকে আনন্দ দেবে এই জন্যে আমি তোমাকে চাইছি না, তোমার উপস্থিতি আমাকে তোমার সেবা করবার সুযোগ দেবে বলে চাইছি। তোমাকে কাছে পেয়ে আমি তোমাকে আনন্দ দেবার সুযোগটা নিতে চাই। তোমার আনন্দ দিয়ে আমার আনন্দ। আমি নিজে আনন্দ পাবার জন্যে চেষ্টা করছি না”। তাই বুদ্ধিমান আধ্যাত্মিক সাধক বলবেন—“আমি তোমার কাছ থেকে কোন স্থূলে পাঞ্চভৌতিক জিনিস চাই না, আমি শুধু তোমাকে চাই”।


