Bartaman Logo
২৭ মে, ২০২৬

ক্রেডিট কার্ডে বকেয়া ঋণও বাড়ছে দেশে

ক্রেডিট কার্ডে বকেয়া ঋণও বাড়ছে দেশে
  • ১৬ ডিসেম্বর, ২০২৪ ০০:০০
নয়াদিল্লি: মোদি জমানায় ‘আচ্ছে দিনে’র ফানুস আগেই ফেটে গিয়েছে। বিভিন্ন পরিসংখ্যান থেকে দেখা যাচ্ছে, মূল্যবৃদ্ধির চাপে হাঁসফাঁস অবস্থা মধ্যবিত্তের। কোপ পড়েছে রোজগারেও। কাজেই ঘর সংসারের খরচ সামলাতে  হাত পড়েছে সঞ্চয়ে। বাড়ছে ঋণের বোঝা। এমনকী চলতি অর্থবর্ষের প্রথম সাত মাসে সোনা বন্ধক রেখে ঋণের পরিমাণ দেশে বৃদ্ধি পেয়েছে ৫০ শতাংশেরও বেশি। সঠিক হিসেবে ৫০.৪ শতাংশ। এবার সামনে এল নতুন তথ্য। ক্রেডিট কার্ডেও বকেয়া ঋণের পরিমাণ বাড়ছে। গত বছরের জুন মাসের তুলনায় চলতি বছরের জুনে ক্রেডিট কার্ডে ডিফল্ট বা ঋণ খেলাপের হার ১.১০ শতাংশ বেড়েছে। সবমিলিয়ে এই হার বেড়ে হয়েছে ৭.৬ শতাংশ। 
Advertisement
বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, ক্রেডিট কার্ডে মাসিক কিস্তিতে জিনিস কেনার পরে ঋণ পরিশোধ করতে  না পারায় বকেয়ার পরিমাণ বাড়ছে।। ক্রেডিট কার্ড দেওয়া হয় মাসিক আয় বা বেতন ও  ঋণ শোধের সক্ষমতা সংক্রান্ত আনুষঙ্গিক শর্ত বিবেচনা করে। এই ক্ষেত্রের গ্রাহকদেরও ধার মেটাতে না পারার হার বৃদ্ধি অত্যন্ত উদ্বেগজনক বলেই মনে করা হচ্ছে। 
ক্রেডিট ইনফরমেশন ব্যুরো ক্রিফ হাইমার্কের তথ্য অনুযায়ী, জুন ত্রৈমাসিকের রিপোর্টে ব্যাঙ্কগুলির ক্রেডিট কার্ডের এই বড়সড় বোঝার বিষয়টির উল্লেখ ছিল না। কিন্তু দ্বিতীয় ত্রৈমাসিকের রিপোর্টে বিষয়টি উল্লেখ করে প্রায় প্রতিটি ব্যাঙ্ক। তথ্য বলছে, প্রতি ক্রেডিট কার্ড পিছু গড়  ব্যালেন্স বা খরচও গত এক বছরে উল্লেখযোগ্য বেড়েছে। ২০২৩ সালের জুনে যা ছিল ২৮ হাজার ৯১৯ টাকা। ২০২৪ সালের একই সময়ে তা বেড়ে হয়েছে ৩২ হাজার ২৩৩ টাকা।এই গ্রাহকরা আরও বেশি ঋণের জালে জড়িয়ে পড়ছেন, তা এই তথ্য তুলে ধরেছে। 
ক্রেডিট কার্ড গ্রাহকদের মাসিক খরচও অনেকটাই বেড়ে দেড় লক্ষ কোটি টাকার গণ্ডি ছাড়িয়েছে। ২০২১ সালের মার্চে এই খরচ ছিল ৭২,৩১৯ কোটি টাকা। চলতি বছরের সেপ্টেম্বরে তা বেড়ে হয়েছে ১ লক্ষ ৭৬ হাজার ২০২ কোটি টাকা। সেইসঙ্গে ক্রেডিড কার্ড জারির সংখ্যাও ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বরে বেড়ে ১০.৬১ কোটি হয়েছে।  ২০২৩ সালের সেপ্টেম্বরে এই সংখ্যা ছিল ৯.৩  কোটি। ২০২১ সালের মার্চে তা ছিল ৬.২০ কোটি। 
যদিও গত সপ্তাহে একটি বেসরকারি রিপোর্ট অনুসারে কার্ড ইস্যুর পরিমাণ গত অক্টোবরে কমে অর্ধেক হয়েছে।  ক্রেডিট কার্ডে বকেয়া ব্যালেন্সের পরিমাণ ২০২২ সালের অক্টোবরে ছিল ২ লক্ষ ৪৯ হাজার ৬৩৫ কোটি। চলতি বছরের অক্টোবরে তা বেড়ে হয়েছে ২ লক্ষ ৮১ হাজার ৩৯২ কোটি টাকা।
সম্পর্কিত সংবাদ