নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: পাসপোর্ট কাণ্ডের কিংপিন মনোজ গুপ্তার তৈরি করা ভুয়ো নথি দিয়েই গুচ্ছ গুচ্ছ বাল্কে সিম তোলা হতো। সীমান্ত লাগোয়া বিভিন্ন মোবাইল পরিষেবা প্রদানকারী সংস্থার ডিলাররাই মনোজের কাছে গোছা গোছা সিম দিয়ে আসত। পাসপোর্টের জন্য জমা পড়া আবেদনপত্রে এই সিমের নম্বরই ব্যবহার করা হতো। মনোজকে জিজ্ঞাসাবাদ করে এই তথ্য পেয়েছে লালবাজার। পাশাপাশি এই সিম চলে যেত সীমান্ত পারাপারের কাজে যুক্ত ‘ধুর’ সহ বিভিন্ন এজেন্টদের কাছে। এমনকী নিজের চক্রের সদস্যদের এই সিম ব্যবহার করতে দিত মনোজ। নির্দেশ ছিল, প্রতি একমাস অন্তর পাল্টাতে হবে সিম কার্ড। পাসপোর্ট জালিয়াতি কাণ্ডের অন্যতম মাথা সমরেশ ও তার ছেলে গ্রেপ্তার হওয়ার পরই চক্রের নদীয়ার এজেন্ট ধীরেন ঘোষ তার সিমকার্ড বদলে ফেলে। যাতে পুলিস তার নাগাল না পায়। কিন্তু হ্যান্ডসেট বদল না করায় তাকে ধরা সম্ভব হয়েছে। তদন্তকারীরা জেনেছেন, পাসপোর্ট কাণ্ডের অসাধু চক্রের সঙ্গে যুক্ত রয়েছে পুলিসেরও কয়েকজন। কলকাতা পুলিসের এহেন দুই কর্মীর মোবাইল বাজেয়াপ্ত করে তা ফরেন্সিক পরীক্ষার জন্য পাঠানো হবে বলে সূত্রের খবর।
Advertisement
জেরায় মনোজ পুলিসকে জানিয়েছে, সীমান্তে সিম ব্যবসায় জড়িত ডিলারদের সঙ্গে তার যোগাযোগ ছিল। তার কাছ থেকে এসে নথি নিয়ে যেত এই ডিলাররা। অর্থের লোভে এই সমস্ত ডিলাররা নথিতে দেওয়া ঠিকানা পরীক্ষা করতেন না, সিম পাঠিয়ে দিত হরিদেবপুরে। তদন্তে উঠে আসছে প্রতি মাসে দেড় থেকে দু’হাজার সিম আসত মনোজের কাছে। অনেক সময় প্রি-অ্যাক্টিভেটেড সিমও ব্যবহার করত ধুর পাটি ও এজেন্টরা। ধৃতরা পুলিসকে জানিয়েছে, সিম বদলের পর সেই নম্বর বাংলাদেশে থাকা এজেন্টদের জানিয়ে দেওয়া হতো। নতুন নম্বরে যোগাযোগ করত সীমান্তের ওপারের এজেন্টরা। সিম পাল্টে ফেলায় অনুপ্রবেশকারী বাংলাদেশি ধরা পড়লেও, তার কল ডিটেইলস ঘেঁটে ধূর বা এজেন্টের নম্বর পেয়েও, তা পুলিসের কোনও কাজে লাগত না। পাশাপাশি বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারীরা ‘ভারতীয়’ বনে যাওয়ার পর টাকার বিনিময়ে তাঁদেরও এই সিম দেওয়া হতো। পাসপোর্টের জন্য আবেদন করার সময় মনোজ গুপ্তা প্রত্যেকের জন্য আলাদা নম্বর দিত। এই নম্বরগুলি কিংপিনের কাছে থাকত। যে কারণে আবেদনের পর নথি যাচাইয়ের জন্য পাসপোর্ট সেবা কেন্দ্র বা পুলিসের আসা ফোন মনোজই রিসিভ করত। এরপর মনোজের দুই ঘনিষ্ট সহচর সমরেশ বা মোক্তার সেখানে পৌঁছে গিয়ে নথি আপলোড করে দিত।



