নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: সোমবার রাত থেকে শুরু হয়েছে বৃষ্টি। তবে মুষলধারে নয়। বেশিরভাগ সময় ইলশে গুঁড়ি, মাঝেমধ্যে একটু বেশি। আর তাতেই উধাও হয়েছে ভ্যাপসা গরমের অস্বস্তি। কলকাতা ও সংলগ্ন জেলাগুলি সিক্ত হয়েছে স্বস্তির বৃষ্টিতে। যে নিম্নচাপের প্রভাবে এই বৃষ্টি চলছে, সেটি এদিন কার্যত কলকাতার কান ঘেঁষে, উত্তর ও দক্ষিণ ২৪ পরগনার উপকূলবর্তী অঞ্চলের উপর দিয়ে উত্তর ও উত্তর-পশ্চিম দিকে সরে গিয়েছে। সেই কারণে মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ৮টা পর্যন্ত গত ২৪ ঘন্টায় রাজ্যে সর্বাধিক বৃষ্টিপাত হয়েছে দক্ষিণ ২৪ পরগনার সাগরদ্বীপে (১২৩.৪ মিমি)। এর পরেই রয়েছে রয়েছে উত্তর ২৪ পরগনার বসিরহাট (৬১.২ মিমি)। আবহাওয়াবিদরা বলছেন, নিম্নচাপটির অবস্থানজনিত কারণেই দুই ২৪ পরগনার উপকূলবর্তী এলাকায় বেশি বৃষ্টি হয়েছে। আলিপুর আবহাওয়া অফিসের অধিকর্তা হবিবুর রহমান বিশ্বাস জানিয়েছেন, মঙ্গলবার দুই ২৪ পরগনার কোনও কোনও জায়গায় অতি ভারী বৃষ্টির পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছিল। উত্তর-পশ্চিম বঙ্গোপসাগরের উপর থাকা ঘূর্ণাবর্তের প্রভাবে যে নিম্নচাপ তৈরি হয়, মঙ্গলবার ভোরে সেটির অবস্থান ছিল দক্ষিণ-পশ্চিম বাংলাদেশ ও সংলগ্ন গাঙ্গেয় পশ্চিমবঙ্গের উপর। এই অবস্থানের কারণেই দুই ২৪ পরগনার উপকূলবর্তী এলাকার বেশি বৃষ্টি হয়েছে। কলকাতা ও শহরতলিজুড়ে টানা চলেছে হাল্কা থেকে মাঝারি মাত্রার বৃষ্টিপাত।
মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ৮টা পর্যন্ত গত ২৪ ঘণ্টায় কলকাতা ও দমদমে যথাক্রমে ১৯.৪ ও ২২.৯ মিমি বৃষ্টিপাত হয়েছে। হাওড়ার উলুবেড়িয়ায় বৃষ্টির পরিমাণ ৫৯.২ মিমি। তবে উপকূলবর্তী এলাকা হলেও পূর্ব মেদিনীপুরের দীঘায় এই সময় ৪৪.৯ মিমি বৃষ্টি হয়েছে। পূর্ব মেদিনীপুর উপকূল থেকে নিম্নচাপের অবস্থান অনেকটা দূরে সাগরদ্বীপের উপর হওয়ার কারণেই দীঘায় কম বৃষ্টি হয়েছে বলে মনে করছেন আবহাওয়াবিদরা। এদিন বেলা বাড়ার পর কলকাতায় বৃষ্টি কিছুক্ষণ থামলেও বিকেল থেকে রাত পর্যন্ত ফের ঝিরঝিরে বৃষ্টি চলে। বারাকপুর এলাকায় সকাল সাড়ে ৮টা থেকে বিকেল সাড়ে ৫টা পর্যন্ত ৫১ মিমি বৃষ্টিপাত রেকর্ড হয়েছে।
নিম্নচাপের প্রভাবে সাগরদ্বীপের পাশাপাশি কাকদ্বীপ, নামখানা, গোসাবা, ডায়মন্ডহারবারে ব্যাপক বৃষ্টিপাত হয়। কাকদ্বীপ স্টেশন রোড, গান্ধীনগর, স্টেশন সংলগ্ন বিস্তীর্ণ এলাকা জলমগ্ন হয়ে পড়ে। রাজপুর-সোনারপুর পুরসভার একাধিক জায়গায় জল জমে যাওয়ায় মানুষকে দুর্ভোগে পড়তে হয়েছে। মহেশতলা পুরসভায়ও একই পরিস্থিতি হয়। উত্তর ২৪ পরগনার বসিরহাট, বনগাঁ, হাসনাবাদ এলাকায় ভালো বৃষ্টি হয়েছে। বারাকপুরের কিছু জায়গায় জমে যায় সোমবার রাতের বৃষ্টিতে। কল্যাণী এক্সপ্রেসওয়ের দু’ধারে জল জমার কারণে দুর্ভোগ বেড়েছে আম জনতার। হুগলিতে বৃষ্টির দাপট ততটা না থাকলেও চন্দননগর পুরসভার ১৫, ১৯ ও ২২ নম্বর ওয়ার্ডের বিভিন্ন অংশে জমা জলে জেরবার হতে হয় বাসিন্দাদের। বৈদ্যবাটি, চুঁচুড়া, শ্রীরামপুর, বাঁশবেড়িয়ার কিছু এলাকায়ও জল জমেছিল এদিন সকালে।