Bartaman Logo
১৯ জুলাই, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

সাবেকিয়ানা রক্ষায় ব্রতী একডালিয়া, এভারগ্রিনের চমক আলোর ঝর্ণাধারা

দুর্গাপুজো তাঁর কাছে ছিল প্রাণের উৎসব। থিমের প্রাচুর্য এক্কেবারেই পছন্দ করতেন না সুব্রত মুখোপাধ্যায়। বহুবার তাঁকে বলতে শোনা গিয়েছে, ‘থিমের ঘাগড়া পরা দুর্গা আমাদের পুজোয় হবে না।

সাবেকিয়ানা রক্ষায় ব্রতী একডালিয়া, এভারগ্রিনের চমক আলোর ঝর্ণাধারা
  • ৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

রাহুল চক্রবর্তী  কলকাতা

Advertisement

দুর্গাপুজো তাঁর কাছে ছিল প্রাণের উৎসব। থিমের প্রাচুর্য এক্কেবারেই পছন্দ করতেন না সুব্রত মুখোপাধ্যায়। বহুবার তাঁকে বলতে শোনা গিয়েছে, ‘থিমের ঘাগড়া পরা দুর্গা আমাদের পুজোয় হবে না। মা পরবেন বেনারসি, পুজোর ছত্রে ছত্রে থাকবে সাবেকিয়ানা। মানুষ এখানে আসবেন শারদোৎসবের গন্ধ নিতে।’ 
প্রয়াত নেতার আদর্শ মেনেই এগিয়ে চলেছে একডালিয়া এভারগ্রিন। ব্যতিক্রম হচ্ছে না এবারও। তবে রয়েছে সংযাজনের পালা। আসন্ন শারদোৎসবে ‘আলোর মেলায়’ রঙিন হয়ে উঠবে পুজো প্রাঙ্গণ। আসলে কল্লোলিনী তিলোত্তমায় থিমের রমরমার মধ্যে মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়ে সুব্রত মুখোপাধ্যায়ের পুজো। বিশাল মণ্ডপ, আলোর রোশনাইয়ের সঙ্গে বাড়তি আকর্ষণ দেবীর রুদ্রাণী মূর্তি। যা দেখে আপনাআপনি দু’হাত এক হয়ে কপালে ঠেকতে বাধ্য। এই পুজোয় তাই বিজ্ঞাপনের মাধ্যমে লোক ডাকতে হয় না। ফ্লেক্স-হোর্ডিংও আপনার চোখে পড়বে না। ঐতিহ্য ও পরম্পরা রক্ষা করাই একডালিয়া এভারগ্রিনের ইউএসপি। এবার তাদের ৮৩ তম বর্ষ। মণ্ডপ তৈরি হচ্ছে অরুণাচলম পাহাড়ে শিবের একটি মন্দিরের আদলে। মাতৃমূর্তি রূপদানে শিল্পী সনাতন রুদ্র পাল। উজ্জ্বল গোলাপি রংয়ের বেনারসিতে সেজে উঠবেন মা দুর্গা। বাড়তি পাওনা মধুবনী চিত্রকলা সমৃদ্ধ চালচিত্র। এভারগ্রিনের বিশেষ নিবেদন, আলোর ঝর্ণাধারা। ফি বছরই পুজোপ্রেমীদের মন ভরিয়ে দেয় ঝাড়বাতি। এবারও তা আনা হচ্ছে জয়পুরের আজমীর থেকে। এখানেই শেষ নয়। মণ্ডপের প্রবেশদ্বার থেকে মূল মঞ্চ পর্যন্ত প্রায় ২০ ফুট লম্বা ঝাড়বাতি থাকছে। আর মণ্ডপে প্রবেশের আগে দর্শনার্থীদের পেরতে হবে আলোর মেলা, যার দৈর্ঘ ২৮ ফুট।
অন্যদিকে, ৮৪ বছরে পা রাখা সিংহি পার্ক পুজো কমিটি এবার  অকালবোধন নিয়ে তৈরি। রামচন্দ্রের দুর্গা পুজোর ইতিহাসকে সামনে রেখেই তৈরি হচ্ছে প্রেক্ষাপট। উদ্যোক্তাদের বক্তব্য, প্রত্যেকটি মানুষের মধ্যেই রাবণ রয়েছে। কাম, ক্রোধ, লোভ, অহংকার সবই ছিল লঙ্কেশ্বরের মধ্যে। আধুনিক জীবনও তার ব্যতিক্রম নয়। তাই সিংহি পার্ক এবার মানুষের ভিতরের রাবণকে তুলে ধরে তার বিনাশ ঘটানোর বার্তা দিতে চাইছে। তাই থিমের ক্যাচলাইনে ‘নবচেতনায়’ শব্দটির উল্লেখ করা হয়েছে। রাবণকে বৃহৎ আকারে দেখিয়ে পুজো কমিটি উপস্থাপনা— দোষের পাল্লা ভারী হয়ে গেলে বিনাশ অবশ্যম্ভাবী। ক্ষমতার দম্ভে মানুষ যেন ভুল কাজ না করে। মণ্ডপ ভাবনায় শিল্পী সুদীপ্ত মাইতি। প্রতিমায় প্রদীপ রুদ্র পাল। আবহ সংগীতে পণ্ডিত শুভেন চট্টোপাধ্যায়।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ