Bartaman Logo
২৮ জুলাই, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

কলকাতা পুরসভা: রাস্তাঘাটের সার্বিক সংস্কার দূরঅস্ত, বর্ষায় খানাখন্দ মেরামতিতে ভরসা প্যাচওয়ার্কই!

কলকাতা পুরসভা বর্ষায় রাস্তার সংস্কার নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। প্যাচওয়ার্কের মাধ্যমে সমস্যা সামাল দেওয়া হচ্ছে। বিস্তারিত পড়ুন।

কলকাতা পুরসভা: রাস্তাঘাটের সার্বিক সংস্কার দূরঅস্ত, বর্ষায় খানাখন্দ মেরামতিতে ভরসা প্যাচওয়ার্কই!
  • ২৮ জুলাই, ২০২৬ ০০:৪৬
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: শহরের বেশ কয়েকটি রাস্তা ‘মেকানিক্যাল ম্যাস্টিক’ করার পরিকল্পনা নিয়েছিল কলকাতা পুরসভা। প্রথম ধাপে একটি রাস্তায় সেই কাজ হয়। যেসব রাস্তায় জল জমার সমস্যা রয়েছে, সেখানে কংক্রিট ব্লক বসানোর সিদ্ধান্তও হয়। কাজগুলি চলছিল গত বছর থেকেই। কিন্তু পালাবদলের পর গত কয়েক মাসে শহরের রাস্তাঘাটের সার্বিক সংস্কার বা মেরামতির কাজ গতি হারিয়েছে বলেই অভিযোগ। আপাতত রাস্তার খানাখন্দ ভরাট করতে প্যাচওয়ার্ক বা জোড়াতাপ্পি দেওয়ার কাজ চলছে। অনেক জায়গায় কয়েকদিনের মধ্যেই প্যাচওয়ার্কের পিচ উঠে যাচ্ছে। 

Advertisement

বৃষ্টিতে বিভিন্ন রাস্তায় তৈরি হয়েছে গর্ত। এমনকি, একাধিক রাস্তার বেহাল দশা নিয়ে পুলিশের থেকেও ফোন আসছে পুরসভায়। গত কয়েক বছর ধরেই কলকাতা পুরসভার সড়ক বিভাগ এই ধরনের গর্ত মেরামত করতে মোবাইল ভ্যান ব্যবহার করে। যেখানে গর্ত দেখা যায়, সেখানে ভরাট করে দেওয়া হয় পিচ দিয়ে। পুরসভা সূত্রে খবর, মাঝখানে কিছুদিন সেই কাজও লাটে উঠেছিল। কিন্তু চলতি বর্ষায় বিভিন্ন রাস্তায় গর্ত তৈরি হয়েছে নতুন করে। এই পরিস্থিতিতে গত কয়েকদিন ধরে গর্তগুলি বোজানোর কাজ চালাচ্ছে পুরসভার সড়ক বিভাগ। বেনিয়াপুকুর, পার্ক সার্কাস, লেনিন সরণি, বড়বাজার, বউবাজার, তালতলা, এসপ্ল্যানেড, বো বারাক, বি বি গাঙ্গুলি স্ট্রিট, শিয়ালদহ, টালিগঞ্জ, রাসবিহারী অ্যাভিনিউসহ শহরের বিভিন্ন অঞ্চলে রাস্তার বহু গর্ত মেরামত করা হয়েছে। বেশ কিছু জায়গায় দেওয়া হয়েছে জোড়াতাপ্পি। বালিগঞ্জের বাসিন্দা সৌমেন্দু চক্রবর্তী বলছিলেন, ‘অন্যান্য বছর তাও রাস্তাঘাটের কিছু কাজ হয়। পুরানো পিচ কেটে ফেলে নতুন করে রাস্তা সমান করতে দেখেছি। কিন্তু এ বছর বর্ষার আগে তো কোনো কাজই হল না।’
পুরসভার আধিকারিকদের একাংশের বক্তব্য, অন্যান্য বছর বর্ষার আগে সার্বিকভাবে শহরের রাস্তা সংস্কারের কাজ চলে। কিন্তু চলতি বছর প্রথমে নির্বাচনি আচরণবিধি লাগু থাকার কারণে, পরে সরকারি সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ঠিকাদারদের পাওনা মেটানোর ছাড়পত্র আপাতত না থাকায় বড়ো আকারে রাস্তা সংস্কারের কাজে হাত দেওয়া যায়নি। কিন্তু টানা বৃষ্টিতে বহু জায়গাতেই রাস্তায় গর্ত তৈরি হয়েছে। অভিযোগ আসতে শুরু করেছে অহরহ। এই অবস্থায় জোড়াতাপ্পি দিয়ে গর্ত বুজিয়ে রাস্তা কোনোরকমে যাতায়াতের যোগ্য করে দেওয়া হচ্ছে। পুরকর্তাদের আশা, অন্যান্য বছরের মতো এবারও পুজোর আগে সার্বিকভাবে শহরের সর্বত্র রাস্তা সারাইয়ের কাজ হবে। 

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ