নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: কয়েক সপ্তাহ আগের কথা। কলকাতা পুরসভার কেন্দ্রীয় ভবনে সম্পত্তি কর মূল্যায়ন এবং রাজস্ব আদায় বিভাগের এক অফিসারের ঘরে রীতিমতো ক্লাস চলছে! রীতিমতো ওয়ার্ড ধরে ধরে রাজস্ব আদায় নিয়ে আলোচনা করছেন পদস্থ আধিকারিক এবং বিভাগীয় কর্মীরা। যে ‘টার্গেট’ বেঁধে দেওয়া হয়েছিল, তা পূরণ করার ক্ষেত্রে কোন কর্মী ও আধিকারিক কতটা এগিয়েছেন, চলছে তার চুলচেরা বিশ্লেষণ। সেই সঙ্গে আরও একবার অ্যাসেসর -কালেক্টরদের সতর্ক করে দিচ্ছেন পদস্থ কর্তারা—যেভাবেই হোক লক্ষ্যমাত্রায় পৌঁছতে হবে বা ছাপিয়ে যেতে হবে। এসব দেখে কারও মনে হতে পারে, এ যেন সরকারি অফিস নয়, একেবারে কর্পোরেট জগতের ‘টার্গেট জব’! পুরসভার এই কড়াকড়ির সুফল মিলল হাতেনাতে। চলতি আর্থিক বছরের শেষ প্রান্তে এসে দেখা যাচ্ছে, ‘টার্গেট’ পূরণ হয়েছে। রাজস্ব খাতে আয় বৃদ্ধির রেকর্ড তৈরি করেছে কলকাতা পুরসভা। এই সাফল্যের জন্য আধিকারিক থেকে নিচুতলার কর্মী, প্রত্যেকেই আপ্রাণ পরিশ্রম করেছেন বলে মনে করছে পুর-কর্তৃপক্ষ। তাই তাঁদের প্রশংসাসূচক চিঠি দেওয়ার চিন্তাভাবনা শুরু হয়েছে। উদ্দেশ্য
হল কর্মী-অফিসারদের মনোবল ও উৎসাহ আরও বাড়িতে দেওয়া, যাতে আগামী দিনেও এই ধরনের সাফল্য অব্যাহত থাকে।
চলতি অর্থবর্ষের (২০২৪-২৫) মাঝামাঝি সময় পর্যন্ত সম্পত্তি কর খাতে পুরসভার আদায় মোটেও সন্তোষজনক ছিল না। দফায় দফায় বৈঠক করে মেয়র থেকে কমিশনার আয় বাড়াতে তাগাদা দিয়েছেন কর সংগ্রহ বিভাগের আধিকারিক-কর্মীদের। সেই মতো মাথার ঘাম পায়ে ফেলে ছুটে বেড়িয়েছেন তাঁরা। তার ফলেই ঘাটতি পুষিয়ে গিয়ে আয়ের ক্ষেত্রে রেকর্ড হয়েছে বলে মনে করছেন পুরকর্তারা। সূত্রের খবর, সম্পত্তি কর খাতে গতবারের তুলনায় এবার ২৯ মার্চ পর্যন্ত প্রায় ৫০-৫৫ কোটি টাকা বেশি আদায় হয়েছে।
পুরসভার সম্পত্তি কর বিভাগ মূলত ছ’টি ডিভিশনে বিভক্ত। নর্থ সেকশনে চলতি অর্থবর্ষে ভালো পরিমাণ রাজস্ব আদায় করেছে। গতবার যেখানে নর্থ সেকশন থেকে প্রায় ২৭৫ কোটি টাকা রাজস্ব এসেছিল, এবার তা প্রায় ৩০৫ কোটি টাকা ছুঁয়েছে। সাউথ সেকশন থেকে আয় সন্তোষজনক হচ্ছিল না। কিন্তু ‘টার্গেট’ বেঁধে দেওয়ায় সাফল্য আসে। এক আধিকারিক বলেন, ‘গত আর্থিক বছরে সাউথ সেকশন থেকে ৫২৫ কোটি টাকা রাজস্ব এসেছিল। এর মধ্যে একটি সম্পত্তি থেকেই ৪২ কোটি টাকা ট্যাক্স আদায় হয়েছিল। এবার প্রথম থেকে ঘাটতি চলছিল। তাছাড়া একলপ্তে ৪২ কোটি টাকা পাওয়ার মতো কোনও জায়গাও ছিল না।’ তারপরও ‘টার্গেট’ ধরে এগিয়ে শেষ লগ্নে এসে ঘাটতি পূরণ করতে সক্ষম হয়েছে সাউথ সেকশন। ২৯ মার্চ পর্যন্ত এই সেকশনে ৫২৭ কোটি টাকা কর আদায় হয়েছে। সব মিলিয়ে এখনও পর্যন্ত সম্পত্তি কর খাতে প্রায় ১২৫৫ কোটি টাকা ঘরে তুলেছে পুরসভা, যা রেকর্ড বলেই মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল। মার্চ শেষে এই হিসেব আরও কিছুটা বাড়বে।