নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: রাজ্যে পালাবদল ও পরবর্তী ডামাডোল পরিস্থিতিতে কলকাতা পুরসভার রাজস্ব আদায় ধাক্কা খেল। সম্পত্তি কর খাতে রাজস্ব আদায় একেবারে তলানিতে এসে ঠেকেছে। সার্বিকভাবে এই খাতে আয়বৃদ্ধি হলেও বৃদ্ধির হার বেশ কম। তথ্য বলছে, গতবার মে মাসের শেষে যেখানে ১০ থেকে ১২ শতাংশ কর আদায় বৃদ্ধি পেয়েছিল, সেখানে চলতি বছর এই সময়কালে সেই হার এসে দাঁড়িয়েছে মাত্র আড়াই শতাংশে। একদিকে আছে কর্মী ও অবসরপ্রাপ্তদের বেতন ও পেনশন দেওয়ার চাপ, অন্যদিকে উন্নয়নের খাতে খরচ। এই অবস্থায় রাজস্ব আদায় না বাড়ানো গেলে বিপুল খরচের বোঝা চাপবে পুরসভার ঘাড়ে। সেই চাপ কীভাবে সামলানো যাবে, সংশয় প্রকাশ করছেন পুরকর্তারাই। তাঁদের একাংশের দাবি, একদিকে অন্নপূর্ণা যোজনা, অন্যদিকে সেন্সাস—এই দুই কাজের জন্য সম্পত্তি কর বিভাগের কাজকর্ম কার্যত লাটে উঠেছে। সেই সঙ্গে রয়েছে নানা প্রশাসনিক জটিলতা।
পুরসভার আয়ের ক্ষেত্রে সম্পত্তি কর মূল্যায়ন এবং রাজস্ব আদায় বিভাগের গুরুত্ব সর্বাধিক। এই খাতেই সবথেকে বেশি রাজস্ব আসে পুরসভার ভাঁড়ারে। এর বাইরে বিল্ডিং, পার্কিং, লাইসেন্স, জঞ্জাল সাফাই, বিনোদন কর সহ একাধিক খাতে আয় হয়। পুরসভা সূত্রে খবর, চলতি অর্থবর্ষের (২০২৬-২৭) ৩১ মে পর্যন্ত সম্পত্তি কর খাতে ৪৭৮ কোটি টাকার কিছু বেশি রাজস্ব আদায় হয়েছে। গত অর্থবর্ষে (২০২৫-২৬) এই সময়কালে আদায় হয়েছিল ৪৬৬ কোটি টাকা। অর্থাৎ গতবারের তুলনায় এবার মাত্র ১২ কোটির কিছু বেশি টাকা আদায় হয়েছে। কিন্তু পুরসভার তথ্য বলছে, তার আগের বছর অর্থাৎ ২০২৪-২৫ অর্থবর্ষে ৩১ মে পর্যন্ত আদায় হয়েছিল ৪১৬ কোটি টাকা। অর্থাৎ গত অর্থবর্ষে (২০২৫-২৬) তার আগের বছরের তুলনায় প্রায় ৫০ কোটি টাকা অতিরিক্ত আদায় হয়েছিল। শতাংশের বিচারে যেখানে ২০২৪ সাল থেকে ২৫ সালে ১২ শতাংশ আদায় বৃদ্ধি হয়েছিল, সেখানে ২৬-এ আয় বেড়েছে মাত্র মাত্র আড়াই শতাংশ।
কেন এই পরিস্থিতি? কেন বছরের শুরুতেই এভাবে মুখ থুবড়ে পড়ছে কর আদায়? পুরসভা সূত্রে খবর, সম্পত্তি কর আদায় বিভাগের প্রায় সব অফিসার অন্নপূর্ণা যোজনার কাজে ব্যস্ত। যে কারণে কর সংগ্রহের কাজ হচ্ছে না বললেই চলে। আধিকারিকরা জানাচ্ছেন, স্বাভাবিক নিয়মে যাঁরা কর দিয়ে থাকেন, সেই ‘রেগুলার’ করদাতারা পুরসভার বিভিন্ন অফিসে এসে কিংবা অনলাইনে ট্যাক্স জমা করছেন। কিন্তু এর বাইরেও বিপুলসংখ্যক করদাতা রয়েছেন, যাঁদের আলাদা করে নোটিস পাঠানো হয়। তাগাদা দেওয়া হয়। জরিমানা করা হয়। কখনও কখনও সম্পত্তিতে তালাও মেরে দেয় পুরসভা। এসব পদক্ষেপের কারণে বকেয়া টাকা পুর কোষাগারে ঢোকে। পাশাপাশি, বয়স্ক করদাতাদের ক্ষেত্রে আলাদা ওয়েভারের নিয়ম রয়েছে। অন্যান্য ক্ষেত্রেও বছরভর বিশেষ ‘ওয়েভার স্কিম’ চলে। কিন্তু অভিযোগ, ওয়েভার সংক্রান্ত ফাইলে অনুমোদন মিলছে না। অন্যান্য ফাইল নিয়েও কার্যত কোনো কাজ হচ্ছে না। ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে ফাইল পাঠালেও তা ঝুলিয়ে রাখা হচ্ছে। ফলে আলাদা করে ড্রাইভ দিয়ে, শিবির করে প্রতি বছর যেভাবে কর আদায় করা হয়, সেই কাজকর্ম লাটে উঠেছে।