Bartaman Logo
৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

ভাসল কলকাতা, দক্ষিণবঙ্গে বন্যার ভ্রূকুটি, মৃত ৪

বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট নিম্নচাপের প্রভাবে নাগাড়ে বৃষ্টির ফলে বিপর্যস্ত কলকাতাসহ গোটা দক্ষিণবঙ্গ। সুস্পষ্ট নিম্নচাপটি বুধবার সকালে উত্তর-পূর্ব মধ্যপ্রদেশের দিকে সরে গেলেও বৃষ্টি অব্যাহত ছিল।

ভাসল কলকাতা, দক্ষিণবঙ্গে বন্যার ভ্রূকুটি, মৃত ৪
  • ৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি ও সংবাদদাতা: বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট নিম্নচাপের প্রভাবে নাগাড়ে বৃষ্টির ফলে বিপর্যস্ত কলকাতাসহ গোটা দক্ষিণবঙ্গ। সুস্পষ্ট নিম্নচাপটি বুধবার সকালে উত্তর-পূর্ব মধ্যপ্রদেশের দিকে সরে গেলেও বৃষ্টি অব্যাহত ছিল। আবহাওয়া দপ্তরের পূর্বাঞ্চলীয় অধিকর্তা হবিবুর রহমান বিশ্বাসের কথায়, ‘উত্তর-পশ্চিম উত্তরপ্রদেশ থেকে বাংলাদেশ পর্যন্ত বিস্তৃত একটি নিম্নচাপ অক্ষরেখা দক্ষিণবঙ্গের উপর দিয়ে গিয়েছে। এই কারণে দক্ষিণবঙ্গে যেমন বৃষ্টি হচ্ছে, তেমনই ঝাড়খণ্ডজুড়ে চলছে প্রবল বর্ষণ। আজ, বৃহস্পতিবার দক্ষিণবঙ্গের কোথাও কোথাও, বিশেষ করে পশ্চিমাঞ্চলে বেশি মাত্রায় বৃষ্টি হতে পারে।’ উৎসমুখ ঝাড়খণ্ডে প্রবল বৃষ্টি হওয়ার কারণে চাপ বেড়েছে মাইথন ও পাঞ্চেত জলাধারে। মঙ্গলবার একরাতের মধ্যেই এই দুই জলাধারে জলস্তর বেড়েছে পাঁচ ফুট। বাঁধের উপর চাপ বাড়ায় জল ছাড়া হচ্ছে ওই দুই জলাধার থেকে। এর সঙ্গে দক্ষিণবঙ্গের আরও কয়েকটি নদীর বাড়তি জল যোগ হয়ে চাপ বাড়িয়েছে ডিভিসির দুর্গাপুর জলাধারে। বুধবার সকাল থেকে ধীরে ধীরে পরিমাণ বাড়িয়ে সন্ধ্যা ৭টা থেকে ১ লক্ষ ২০ হাজার কিউসেক জল ছাড়া শুরু করেছে ডিভিসি। এই বিপুল পরিমাণ জলরাশিতে দক্ষিণবঙ্গের নিম্ন দামোদর অববাহিকায় বন্যার ভ্রূকুটি! 

Advertisement

নবান্ন সূত্রের খবর, ওই বিপুল জলরাশি হাওড়া ও হুগলি জেলার বিভিন্ন অংশে পৌঁছাতে প্রায় ৩০ ঘণ্টা সময় নেবে। অর্থাৎ কাল, শুক্রবার এই দুই জেলার আমতা, উদয়নারায়ণপুর, খানাকুল, আরামবাগের মতো এলাকার নীচু অংশগুলি প্লাবিত হতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। সম্ভাব্য সেই বিপত্তির কথা মাথায় রেখে সবরকম প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে বলে নবান্নের ওই সূত্র জানিয়েছে। নীচু এলাকা থেকে সরানো হচ্ছে বাসিন্দাদের। পর্যাপ্ত ত্রাণ সামগ্রীও মজুত রাখা হয়েছে। এই পর্বের বৃষ্টিতে বাঁকুড়ার সোনামুখী এবং সিমলাপালে দেওয়াল চাপা পড়ে মোট তিনজনের মৃত্যু হয়েছে। হাওড়ার ডোমজুড়ের মাকড়দহে জমা জলে ডুবে মৃত্যু হয়েছে এক যুবকের। 
নবান্ন সূত্রে জানা গিয়েছে, একদিকে ডিভিসি যেমন জল ছাড়ার পরিমাণ বাড়িয়েছে, তেমনই নাগাড়ে বৃষ্টিতে দক্ষিণবঙ্গের বিভিন্ন নদীতে ক্রমাগত বেড়ে চলেছে জলস্তর। দামোদর, দ্বারকেশ্বর, অজয় ও রূপনারায়ণ নদ, মুন্ডেশ্বরী, কপালেশ্বরী, কংসাবতী, ওল্ড কাঁসাই, শিলাবতী, সুবর্ণরেখা এমনকি ভাগীরথী-হুগলি নদীর জল বেশ কয়েকটি জায়গায় বিপদসীমার উপর দিয়ে বইছে। বাঁকুড়া-১ ও ২ নম্বর এবং মেজিয়া ব্লকের একাধিক কজওয়ে জলের তলায় চলে যাওয়ায় যান চলাচল বন্ধ হয়ে গিয়েছে। আরামবাগ মহকুমাজুড়ে কাল, শুক্রবার ও শনিবার বন্যা পরিস্থিতি তৈরির সতর্কতা জারি করা হয়েছে। শিলাবতী ও ঝুমিসহ আরও কয়েকটি নদীর জলে ঘাটালের ইড়পালা এবং মনশুকা-১ নম্বর গ্রাম পঞ্চায়েতের বেশ কিছু এলাকা প্লাবিত হয়েছে। সুবর্ণরেখা নদীর জল ঢুকছে দাঁতন-১ নম্বর ব্লকের ১০টি গ্রামে। ঝাড়খণ্ডের গালুডি বাঁধ থেকে জল ছাড়ার পরিমাণ বাড়ায় বিপত্তি বেড়েছে সুবর্ণরেখা অববাহিকায়। খড়্গপুর-বালেশ্বর জাতীয় সড়কের দু’পাশের নীচু এলাকাতেও সুবর্ণরেখার জল ঢুকতে শুরু করেছে। 

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ