Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

ব্যাংককের মতো পরিণতি হতে পারে কলকাতারও? মাটির চরিত্র এক হওয়ায় ভূমিকম্পে বড় বিপর্যয়ের আশঙ্কা বিশেষজ্ঞদের

ব্যাংককের মতো পরিণতি হতে পারে কলকাতারও? মাটির চরিত্র এক হওয়ায় ভূমিকম্পে বড় বিপর্যয়ের আশঙ্কা বিশেষজ্ঞদের
  • ৩১ মার্চ, ২০২৫ ১৭:০৩
Prefer us on Google

কৌশিক ঘোষ, কলকাতা: শুক্রবারের বিধ্বংসী ভূমিকম্পের উৎসস্থল মায়ানমারের সাগাইং শহর। কিন্তু সেখান থেকে প্রায় ৮০০ কিলোমিটার দূরে থাইল্যান্ডের রাজধানী ব্যাংককেও এর মারাত্মক প্রভাব পড়েছে। সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে ব্যাংককে ভূমিকম্পের একাধিক ভয়াবহ ভিডিও। এই আবহে বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, কলকাতারও আশঙ্কার যথেষ্ট কারণ আছে। কারণ, দুই শহরের মাটির চরিত্র একইরকম। দু’টি শহরই দাঁড়িয়ে আছে আলগা ও নরম পলিমাটির উপর। কেন্দ্রীয় সরকারি সংস্থা ‘ন্যাশনাল সেন্টার অব সিসমোলজি’র ডিরেক্টর ও পি মিশ্র জানিয়েছেন, মায়ানমারে সৃষ্ট ওই ভূমিকম্পের তীব্রতা বৃদ্ধির ক্ষেত্রে সহায়ক ভূমিকা পালন করেছে পলিমাটি। মাটির এই ধরনই ভূমিকম্পের তীব্রতা বৃদ্ধির পাশাপাশি উৎসস্থল থেকে কম্পনকে অনেক দূর পর্যন্ত প্রসারিত করেছে। ভূগর্ভে মাটির এমন ‘পলিমাটি প্রবণ’ চরিত্রের জন্যই ব্যাংকক, মায়ানমারের মান্দালয়, নেপি দ শহরে ক্ষয়ক্ষতি বেশি হয়েছে।

Advertisement

জিওলজিক্যাল সার্ভে অব ইন্ডিয়া’র (জিএসআই) অবসরপ্রাপ্ত ডিরেক্টর তথা প্রবীণ ভূতাত্ত্বিক শিখেন্দ্র দে বিশেষ একটি রিপোর্টে কলকাতা ও ব্যাংককের মাটির চরিত্র বিশ্লেষণ করেছেন। সেখানে তিনি দেখিয়েছেন, দু’টি শহরে মাটির চরিত্রের জন্যই কম্পনের তীব্রতা বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। নদীমাতৃক শহর হওয়ায় দু’জায়গাতেই মাটির অনেক নীচ পর্যন্ত নরম পলিমাটি রয়েছে। এর পাশাপাশি, ব্যাপকভাবে ভূগর্ভস্থ জল উত্তোলনের জন্যও দু’টি শহরে ভূমিকম্প হলে ধস নামার আশঙ্কা বেড়ে গিয়েছে। তীব্র ভূমিকম্প প্রবণ এলাকা থেকে দু’টি শহরের দূরত্বও প্রায় এক। মায়ানমারের সাগাইং ফল্ট বা চ্যূতি থেকে ব্যাংককের দূরত্ব প্রায় ৮০০ কিলোমিটার। হিমালয় সংলগ্ন এলাকায় তীব্র ভূমিকম্প সৃষ্টির সম্ভাব্য উৎসস্থল থেকে কলকাতার দূরত্ব প্রায় ৬০০ কিলোমিটার। ভূমিকম্পের উৎসস্থল বা এপিসেন্টার থেকে কম্পন যে এতটা পথ অতিক্রম করে কোনও জায়গায় ধ্বংসলীলা চালাতে পারে, শুক্রবারের ভূমিকম্পই তার প্রমাণ বলে জানিয়েছেন শিখেন্দ্রবাবু। তাই কলকাতার বাড়তি সতর্ক হওয়া প্রয়োজন বলে মনে করেন তিনি। প্রসঙ্গত, শুক্রবার ভূকম্পন উৎসস্থল থেকে উত্তর পূর্ব ভারত বা বাংলাদেশের চট্টগ্রামের দিকে সেবাবে আসেনি। পাহাড়ি এলাকা এবং ভূগর্ভস্থ পাথুরে মাটির বাধার জন্যই এটা হয়েছে বলে মত বিশেষজ্ঞদের। 
ভূমিকম্প প্রবণতার বিচারে কলকাতা ৩ নম্বর সিসমিক জোনের অন্তর্ভুক্ত। কলকাতা সংলগ্ন দক্ষিণ ২৪ পরগনা ছাড়াও উত্তরবঙ্গের বড় অংশ আরও বিপজ্জনক ৪ নম্বর জোনে রয়েছে। কোনও নির্দিষ্ট সিসমিক জোনে নির্মাণের ক্ষেত্রে ভূমিকম্প প্রতিরোধক  কী কী ব্যবস্থা নিতে হবে, তা নির্দিষ্ট কোডের মাধ্যমে ‘ব্যুরো অব ইন্ডিয়ান স্ট্যান্ডার্ড’ নির্দিষ্ট করে দিয়েছে। ২০০২ সালে ভুজ ভূমিকম্পের পর ওই কোড অনুযায়ী নির্মাণ বাধ্যতামূলক করা হয়েছে বলে বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন। পুরসভার বিল্ডিং বিভাগের এক শীর্ষ আধিকারিক জানান, সব বিধি মেনে শহরে বহুতল নির্মাণের অনুমোদন দেওয়া হয়। 
হিমালয় সংলগ্ন এলাকার স্পর্শকাতর ‘ফল্ট’ ছাড়াও কলকাতা সহ গোটা রাজ্যে আরও অনেক সম্ভাব্য উৎসস্থল বা ফল্ট রয়েছে বলে বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন। এসব ‘ফল্ট’ থেকে রিখটার স্কেলে ৪-৫ মাত্রার ভূমিকম্প বহুবার হয়েছে। বড় কোনও ক্ষয়ক্ষতি না হলেও শহরকে কিছুটা নাড়া দিয়েছিল। তাই ভূমিকম্প নিয়ে কলকাতার বিশেষ সতর্ক হওয়া প্রয়োজন বলেই মত বিশেষজ্ঞদের। 

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ