নিজস্ব প্রতিনিধি, নয়াদিল্লি ও কলকাতা: জল্পনাই সত্যি হল! রাজ্যসভার সদস্য পদ থেকে বৃহস্পতিবার ইস্তফা দিলেন তৃণমূলের রুক্মিনী মল্লিক। কোয়েল নামেই রূপালি পর্দায় যিনি পরিচিত। শপথ নেওয়ার তিন মাসের মাথায় তাঁর এই ইস্তফায় সংসদের উচ্চকক্ষে তৃণমূলের সাংসদ সংখ্যা কমে দাঁড়াল ৯। আগে যা ছিল ১৩। গত ৬ এপ্রিল শপথ নিয়েছিলেন কোয়েল। একদিনও রাজ্যসভার কক্ষে বসেননি। যোগ দেননি কোনো অধিবেশনে। রাজ্যে পালবদলের পর গত জুন মাসে ইস্তফার ইচ্ছাপ্রকাশ করে রাজ্যসভা সচিবালয়ে ইমেল পাঠিয়েছিলেন কোয়েল। তবে তা গৃহীত হয়নি। ইস্তফা দিতে গেলে ব্যক্তিগতভাবে আসতে হয়।
সেই মতো এদিন সংসদ ভবনে রাজ্যসভার চেয়ারম্যান সি পি রাধাকৃষ্ণানের সামনে ইংরেজিতে লেখা চিঠি জমা দিয়ে ইস্তফা দেন। তারপরই কোয়েল চলে যান নির্বাচনি পর্বে পশ্চিমবঙ্গ বিজেপির দায়িত্বে থাকা অমিত শাহ ঘনিষ্ট কেন্দ্রীয় পরিবেশ মন্ত্রী ভূপেন্দ্র যাদবের বাংলোয়। আর এই সাক্ষাতের পরেই রাজনৈতিক মহলে শুরু হয়েছে গুঞ্জন। তবে কি সুখেন্দুশেখর রায়, সুস্মিতা দেব, প্রকাশ চিক বরাইকদের মতোই কোয়েল মল্লিকও বিজেপিতে পা বাড়ালেন? সাংসদ পদ ছেড়ে দেওয়ার পরই ফেসবুক লাইভে এসে প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, কোয়েল ভালো শিল্পী ছিলেন। ও অনেকদিন আগেই ই-মেল করেছিল সাংসদ পদ ছেড়ে দেওয়ার জন্য। এদিন সশরীরে হাজিরা দিয়ে ইস্তফা দিল। বিজেপি নেতার সঙ্গে বৈঠকও করেছে শুনলাম।
ঠিক এর পরই মমতা সরাসরি অভিযোগ আনেন বিজেপির বিরুদ্ধে। তাঁর অভিযোগ, বিজেপি, ইডি, সিবিআই, পুলিশের চাপের কাছে অনেকেই আত্মসমর্পণ করছেন। তবে আমি তাঁদের সকলকে বলব, যাদের যাওয়ার তাঁরা একুশে জুলাইয়ের আগেই লোটা কম্বল নিয়ে চলে যান। তৃণমূলকে কলঙ্কিত করবেন না। আমি আবার নতুন করে লড়াই শুরু করব। নতুন করে পথচলা শুরু হবে ২০২৬ সালের ২১ জুলাই থেকে। তবে মমতার তীর্যক মন্তব্য, বিজেপি কেন্দ্রের উপর ভর করে চলছে। দিল্লি টলমল হলে, এখানেও ঢলমল হবে। কোয়েলের রাজ্যসভার পদ ছাড়া নিয়ে খোঁচা দিতে ছাড়েননি বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য। তাঁর বক্তব্য, কোয়েলও তৃণমূল ছাড়লেন...! তৃণমূল নির্মূল, আমি এটুকু বলতে পারি। আর রাজ্যের বিরোধী দলনেতা ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, তৃণমূলের চারজন রাজ্যসভার সাংসদ পদ ছেড়েছেন। আকাশে-বাতাসে আরও নাম শোনা যাচ্ছে।
ঘটনাচক্র কোয়েল যেদিন সাংসদ পদ ছাড়লেন, সেদিনই কালীঘাট তৃণমূলে আরো একটি বড় ধাক্কা দিলেন রাজ্যের প্রাক্তন মন্ত্রী মণীশ গুপ্ত। ১৯৯৩ সালে ২১ জুলাই গুলি চালনার ঘটনায় রাজ্য প্রশাসনের তৎকালীন শীর্ষ কর্তা মণীশ গুপ্তের বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছিল। মণীশ জানিয়েছেন, আমি রাজনীতির সঙ্গে এখন যুক্ত নেই। আর তৃণমূলের সঙ্গেও কোনো পদ বা কোনো কিছুতে থাকতে চাই না। তা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে চিঠি লিখে জানিয়ে দেব। সঙ্গে এটাও বলেন, রাজ্যের নতুন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী একজন দক্ষ প্রশাসক।