Bartaman Logo
৯ জুন, ২০২৬
বর্তমান / খেলা

ইডেনে আজ নাইট রাইডার্সের প্রতিপক্ষ লখনউ সুপার জায়ান্টস, মার্শ-পুরানদের জন্য স্পিন দাওয়াই

চার-ছক্কার সুনামি আছড়ে পড়ছে গ্যালারিতে। অপশনাল প্র্যাকটিস তো কী হয়েছে! কাউকেই রেয়াত করছেন না তাঁরা। নেট বোলাররা কোনওরকমে প্রাণ বাঁচাচ্ছেন।

ইডেনে আজ নাইট রাইডার্সের প্রতিপক্ষ লখনউ সুপার জায়ান্টস, মার্শ-পুরানদের জন্য স্পিন দাওয়াই
  • ৮ এপ্রিল, ২০২৫ ১৫:০৪
Prefer us on Google

সুকান্ত বেরা, কলকাতা: চার-ছক্কার সুনামি আছড়ে পড়ছে গ্যালারিতে। অপশনাল প্র্যাকটিস তো কী হয়েছে! কাউকেই রেয়াত করছেন না তাঁরা। নেট বোলাররা কোনওরকমে প্রাণ বাঁচাচ্ছেন। ফর্মের চুড়োয় লখনউ সুপার জায়ান্টসের দুই তারকা ওপেনার মিচেল মার্শ ও আইডেন মার্করাম। সোমবার বিকেলে ইডেনের নেটে তাঁদের যে মেজাজে পাওয়া গেল, তা কলকাতা নাইট রাইডার্সের বোলারদের কপালে ভাঁজ ফেলার পক্ষে যথেষ্ট। যতই হোক রাহানেদের হোমগ্রাউন্ড, গ্যালারি অবশ্যই মাঝে মধ্যেই গলা ফাটাবে ঋষভদের জন্যও।

Advertisement

লখনউয়ের ব্যাটিং যেন সোনায় মোড়া। দুরন্ত ফর্মে বাঁ হাতি নিকোলাস পুরান। তিনিই এলএসজি’র ব্যাটিংয়ের মূল চালিকাশক্তি। ৪ ম্যাচে ঝুলিতে ২০১ রান। স্টাইকরেট দুশোর উপর। ক্যাপ্টেন ঋষভ পন্থ কখন জ্বলে উঠবেন বলা কঠিন। আর আয়ূশ বাদোনি ও ডেভিড মিলারের খুনে ব্যাটিংয়ের সঙ্গে পরিচিত ক্রিকেট দুনিয়া। ব্যাটিংই লখনইয়ের বড় শক্তি। ঘরের মাঠে জয়ের ধারা অব্যাহত রাখতে মঙ্গলবার ইডেনে কেকেআরকে রীতিমতো কাঠখড় পোড়াতে হবে। 
নাইটদের সহকারী কোচ ওটিস গিবসন অবশ্য পুরানদের বাড়তি গুরুত্ব দিতে নারাজ। তিনি সাফ জানিয়ে দিলেন, ‘গত ম্যাচে সানরাইজার্সের টপ অর্ডার কী খারাপ ছিল! তবুও আমরা ওদের হারিয়েছি।’ আসলে গত ম্যাচে জয়ে ফেরায় নাইটরা ফুরফুরে মেজাজে। খুব সম্ভবত উইনিং কম্বিনেশন নিয়েই নামবেন ক্যাপ্টেন রাহানে। দুপুরে খেলা। কৌশল কিছুটা বদলাবে। কাঠফাটা রোদে পিচ হবে মন্থর। বল টার্ন করার সম্ভাবনা প্রবল। সেটাই আশায় রাখছে নাইট ব্রিগেডকে। 
গত ম্যাচে হেড-অভিষেকের জন্য বৈভব দাওয়াই ছিল যথেষ্ট। তবে নাইটদের মহড়া দেখে মনে হল, মার্শ-পুরানদের জন্য তৈরি স্পিনের ইন্দ্রজাল। শুরুতে দুই পেসার বৈভব অরোরা ও হর্ষিত রানা উইকেট নিতে পারলে ভালো, না হলে মিস্ট্রি স্পিনার বরুণ চক্রবর্তীর সঙ্গে জুড়ে দেওয়া হবে সুনীল নারিনকে। জোড়া ফলায় লখনউয়ের ব্যাটিংয়ে ধস নামানোই হবে কেকেআরের কৌশল। ব্যাক-আপ হিসেবে মঈন আলিকেও তৈরি রাখা হচ্ছে। 
তিন স্পিনার খেলালে তো দরকার পছন্দের উইকেট। তাই আগের ম্যাচের পিচ চেয়েছিলেন রাহানেরা। কিন্তু তা মানা হয়নি। দেওয়া হয়েছে পাশের উইকেট। ইডেনের কিউরেটরকে সহজে বাগে আনা কঠিন। তাই কেকেআরের সিইও বেঙ্কি মাইসোর ময়দানে। তিনি সিএবি সভাপতিকে অনুরোধ করেন কিউরেটকে বোঝাতে। শেষ পর্যন্ত প্র্যাকটিসের ফাঁকে মাঠেই হলো ত্রিপাক্ষিক বৈঠক। পরে সিএবি সভাপতি ডেকে নেন কেকেআরের কোচকে। দেখে মনে হল, সমাধান সূত্র মিলেছে।
সব দলই হোম ম্যাচ খেলার সুবিধা চায়। কেকেআরের দাবি তাই অমূলক নয়। তবে ইডেনের পিচ নিয়ে একটু বেশিই মাথা ঘামাচ্ছে নাইট রাইডার্স টিম ম্যানেজমেন্ট, যা ফোকাস নড়িয়ে দিতে পারে ক্রিকেটারদের। তবে স্বস্তি একটাই, লখনউয়ের বোলিং বড়ই নির্বিষ। স্পিনার রবি বিষ্ণোই ফর্মে নেই। ধারাবাহিকতার অভাব শাহবাজের খেলায়। একমাত্র ভরসা দিগবেশ রাঠি। লখনউয়ের বোলিংয়ে তিনিই সবেধন নীলমণি।
দল জিতলে অনেক ত্রুটি চোখে পড়ে না। যেমন ডি’কক ও নারিনের অফ ফর্ম ঢাকা পড়ে যাচ্ছে। ওপেনিং জুটি একেবারেই জমাট বাঁধছে না। তবে রাহানে, রঘুংবশীরা রানের মধ্যে থাকায় তা নিয়ে আলোচনা অপ্রয়োজন। গত ম্যাচে ২৩.৭৫ কোটির বেঙ্কটেশও ঝড় তুলেছিলেন। অপরাজিত থেকে দলকে জিতিয়েছিলেন রিঙ্কু সিং। ব্যাটিং ক্রমশ জমাট বাঁধছে। বেড়েছে বোলিংয়ের ধারও। ঘরে মাঠে খেলার বাড়তি সুবিধা। লখনউকে হারিয়ে পয়েন্ট তালিকায় প্রথম চারে ঢুকে পড়ার জন্য এর চেয়ে ভালো মঞ্চ আর কী হতে পারে!

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ