Bartaman Logo
২৭ মে, ২০২৬

কেন্দ্রের কেনা ওষুধের ১০ শতাংশই জাল, ছাড় নেই সুগার-প্রেশারের রোগীদেরও

কেন্দ্রের কেনা ওষুধের ১০ শতাংশই জাল, ছাড় নেই সুগার-প্রেশারের রোগীদেরও
  • ১ জানুয়ারি, ২০২৫ ০০:০০
সন্দীপ স্বর্ণকার, নয়াদিল্লি: মাসকাবারি বাজারের সঙ্গে এখন প্রত্যেক সংসারে প্রায় আবশ্যিক হয়ে দাঁড়িয়েছে ওষুধ। সুগার, প্রেশার, পেটের রোগ, শ্বাসকষ্ট... এমন কোনও ঘর নেই, যেখানে ছোটবড় রোগ বাসা বাঁধেনি। কিন্তু যদি দেখেন, গাদা গাদা ওষুধ খাওয়ার পরও কাজ হচ্ছে না? প্রশ্ন উঠবেই যে, তাহলে কি সবটাই জাল? এবং সেই ঘটনাও বিরল নয়। বহু রাজ্যেই কয়েক বছরে জাল ওষুধ নিয়ে অভিযোগ উঠছিল। এবার তাতেই সিলমোহর দিল খোদ কেন্দ্র। মান যাচাইয়ে নেমে স্বাস্থ্য ও রসায়ন মন্ত্রক যে অভ্যন্তরীণ রিপোর্ট দিয়েছে, তাতে কপালের ভাঁজ বাড়তে বাধ্য। কারণ ‘ন্যাশনাল সার্ভে অব ড্রাগসে’র তথ্য জানাচ্ছে, কেন্দ্রীয় প্রকল্পের জন্য খোদ সরকারি ব্যবস্থায় কেনা ওষুধের ১০ শতাংশ নিম্নমানের। সেখানে, খোলা বাজারের নমুনা পরীক্ষায় নিম্নমানের ওষুধ মিলেছে মাত্র ৩ শতাংশ। সুগার-প্রেশার তো বটেই, তালিকায় রয়েছে ক্যান্সার চিকিৎসার ওষুধও। 
Advertisement
একদিকে এই রিপোর্ট। আর অন্যদিকে সংসদীয় কমিটির চাপ। সার ও রসায়ন সংক্রান্ত সংসদীয় কমিটির সভাপতি তথা তৃণমূলের এমপি কীর্তি আজাদ সম্প্রতি এই জাল ওষুধের বিষয়েই রিপোর্ট দিয়েছেন। তারপর বাধ্য হয়েই সক্রিয় হতে হয়েছে কেন্দ্রকে। আঞ্চলিক জোনগুলি লাগাতার অভিযানে নেমেছে। সেন্ট্রাল ড্রাগস স্ট্যান্ডার্ড কন্ট্রোল অর্গানাইজেশনের (সিডিএসসিও) বিহার এবং উত্তরপ্রদেশে গাজিয়াবাদ শাখার তৎপরতায় ভেজাল ওষুধ পাকড়াও করেছে। কেন্দ্রীয় গবেষণাগারে পরীক্ষা করে তার ১১১টি নমুনায় ভেজাল মিলেছে। কলকাতাতেও তল্লাশি চালিয়েছে সিডিএসসিও এবং ড্রাগস কন্ট্রোল ডিরেক্টরেট। ৬ কোটি ৬০ লক্ষ টাকার নিম্নমানের ওষুধ বাজেয়াপ্ত হয়েছে।  
লক্ষ করার মতো বিষয় হল, ভেজাল ওষুধের বাড়তে থাকা এই জাল বহু দূরে ফেলে এসেছে ইউপিএ জমানাকেও। নরেন্দ্র মোদি সুযোগ পেলেই ইউপিএ এবং এনডিএ আমলের তুলনা করেন। কিন্তু ভেজাল তথা নিম্নমানের ওষুধের ক্ষেত্রে সরকারি রিপোর্টের তুলনা ভুলেও করেন না। অথচ তাঁর সরকারের তথ্যই বলছে, নিম্নমানের ওষুধ মনমোহন জমানার চেয়ে মোদির শাসনকালে অনেক বেশি। 
সরকারের অভ্যন্তরীণ রিপোর্টে বলা হয়েছে, ২০১৫-১৬ থেকে ২০১৮-১৯ অর্থবর্ষে ২ লক্ষ ২৩ হাজার ওষুধের নমুনা পরীক্ষা করা হয়েছে। তাতে দেখা গিয়েছে, ৫৯৩টি ওষুধ ভেজাল এবং ৯ হাজার ২৬৬টি নিম্নমানের। একে মন্ত্রকের ভাষায় বলা হয়, ‘নট অব স্ট্যান্ডার্ড কোয়ালিটি’। যদিও স্বাস্থ্যমন্ত্রক জানিয়েছে, ভেজাল তথা নিম্নমানের ওষুধ বিক্রিতে যে চক্র মাথাচাড়া দিয়েছে, তারা পার পাবে না। তল্লাশি আরও বাড়বে। ততদিন? ভেজাল থেকে রেহাই নেই।
সম্পর্কিত সংবাদ