Bartaman Logo
২৭ মে, ২০২৬

কেন্দ্রকে উপেক্ষা শক্তিকান্তের, সুদ কমবে না, অটল রিজার্ভ ব্যাঙ্ক

কেন্দ্রকে উপেক্ষা শক্তিকান্তের, সুদ কমবে না, অটল রিজার্ভ ব্যাঙ্ক
  • ৭ ডিসেম্বর, ২০২৪ ০০:০০
নিজস্ব প্রতিনিধি, নয়াদিল্লি: অর্থমন্ত্রী, শিল্প-বাণিজ্যমন্ত্রী, সরকারের মুখ্য অথনৈতিক উপদেষ্টা—নরমে গরমে বলেছেন সকলেই। অর্থাৎ বিভিন্ন সভা সম্মেলন অথবা মঞ্চে তাঁরা স্পষ্ট বার্তা দিয়েছেন, রিজার্ভ ব্যাঙ্ক যেন মূল্যবৃদ্ধি নিয়ে বারবার প্রকাশ্যে এত উদ্বেগ না দেখায়। এবং অবশ্যই যেন রেপো রেট কমায়। এই যে সম্মিলিত চাপের কারণ কী? উত্তর একটাই, আরবিআইয়ের সিদ্ধান্ত প্রভাবিত করা। বুঝতে হবে, সরকার এটাই চাইছে। রিজার্ভ ব্যাঙ্ক কিন্তু তারপরও মোদি সরকারের চাপের মুখে আত্মসমর্পণ করল না। কেন্দ্রকে স্রেফ উপেক্ষা করেই জানিয়ে দেওয়া হল, কমানো হবে না 
Advertisement
রেপো রেট। শুক্রবার রিজার্ভ ব্যাঙ্কের নীতি নির্ধারণ কমিটির বৈঠকের পর ঘোষণা, রেপো রেট সাড়ে ৬ শতাংশই থাকবে। অর্থাৎ, অবসরের মুখে পৌঁছেও মূল্যবৃদ্ধি প্রশ্নে প্রত্যাঘাত জারি রাখলেন আরবিআই গভর্নর শক্তিকান্ত দাস। 
মূল্যবৃদ্ধির কাঁটায় আম জনতা যে কতটা জর্জরিত, সেটা তাদের থেকে ভালো কেউ জানে না। তাই ২০২২ সালের মে মাস থেকে ক্রমেই বেড়েছে রেপো রেট। ২০২৩ সালের ফেব্রুয়ারি থেকে থমকে আছে সাড়ে ৬ শতাংশে। আর কমেনি। আরবিআই গভর্নর শক্তিকান্ত দাস বারবার বলেছেন, ‘মূল্যবৃদ্ধির রক্তচক্ষু এখনও যথেষ্ট তীব্র। অতএব আমরা রেপো রেট কমানোর ঝুঁকি নিতে পারি না।’ ঠিক এই কারণেই সরকারের সঙ্গে রিজার্ভ ব্যাঙ্কের মূল্যবৃদ্ধি-যুদ্ধ পৌঁছে গিয়েছে নজিরবিহীন চাপানউতোরে। উল্লেখযোগ্য বিষয় হল, মূল্যবৃদ্ধি নিয়ন্ত্রণের নানাবিধ দাবির পাশাপাশি একেবারে উল্টো পথে হেঁটে সরকারই স্বীকার করেছে, শহর ও গ্রামীণ ভারতে ভোগ্যপণ্য ক্রয় কমে যাওয়ার প্রভাব জিডিপির উপর পড়ছে। তাহলে প্রশ্ন হল, মানুষ পণ্য ক্রয় কমিয়ে দিয়েছে কেন? প্রথমত, মূল্যবৃদ্ধি এবং দ্বিতীয়ত, তার জেরে সঞ্চয় কমে যাওয়া। এরপরও অবশ্য মোদি সরকারের তাবৎ মন্ত্রী এবং আধিকারিক লাগাতার রিজার্ভ ব্যাঙ্কের উপর রেপো রেট কমানোর জন্য 
চাপ বাড়িয়ে গিয়েছে। রেপো কমলে ব্যাঙ্কগুলি কম সুদে ঋণ দেবে। কিন্তু দেশের বর্তমান পরিস্থিতিতে সেটা কি সম্ভব? একমত নয় আরবিআই। খাদ্য মূল্যবৃদ্ধিই যে অর্থনীতির প্রধান সঙ্কট—এই সিদ্ধান্তে এখনও অটল তারা। 
তবে এই রাজায় রাজায় যুদ্ধ হলেও রিজার্ভ ব্যাঙ্কের রেপো রেট না কমানোর সিদ্ধান্তে প্রজাদের প্রাণ ওষ্ঠাগতই থেকে যাবে। কারণ, উচ্চ মূল্যবৃদ্ধি, জিডিপি বৃদ্ধিহারের উদ্বেগজনক কমে যাওয়া এবং আকাশছোঁয়া রেপো রেট। অতএব আম জনতার জীবনই সবথেকে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে চলেছে। জিডিপি বৃদ্ধিহার আচমকা কমে যাওয়ায় অর্থনীতি থমকে যাচ্ছে। অর্থাৎ কর্মসংস্থানের সুযোগ আরও কমবে এবং প্রভাব পড়বে বেতন তথা মজুরিতে। রেপো রেট যথারীতি সাড়ে ৬ শতাংশে রেখে দেওয়ার অর্থ, ব্যাঙ্ক থেকে গাড়ি-বাড়ির জন্য মধ্যবিত্ত যে ঋণ নিয়েছিল, অথবা নেবে মনস্থ করেছে, তার সুদের হার চড়াই থাকছে। তার উপর খাদ্যসামগ্রীর নিয়ন্ত্রণহীন মূল্যবৃদ্ধির জেরে সংসার চালানোই দুষ্কর। অর্থাৎ গরিষ্ঠতা পাওয়া মোদি অথবা গরিষ্ঠতা না পাওয়া মোদি—আচ্ছে দিন আম জনতার ভাগ্যে নেই। রিজার্ভ ব্যাঙ্ক অবশ্য ব্যাঙ্কগুলির উপর দায় কিছুটা চাপাতে ক্যাশ রিজার্ভ রেশিও (সিআরআর) কমিয়েছে। যাতে ব্যাঙ্কগুলির হাতে আরও নগদ থাকে এবং সেই টাকায় তারা আরও বেশি ঋণ দিতে পারে। সুতরাং সেক্ষেত্রে ব্যাঙ্ক চাইলে ঋণের উপর সুদের হার কমাতেই পারে। কিন্তু সেটাও কি তারা করবে? তাহলেও কি সুফল পাবে দেশের আর্থিক বৃদ্ধি? মোদি সরকারের উন্নত অর্থনীতির সঙ্গে এরপরও কিন্তু একমত হতে পারছে না রিজার্ভ ব্যাঙ্ক। কারণ এতদিন তারা বলছিল, বছরের শেষে জিডিপি বৃদ্ধিহার হবে ৭.২ শতাংশ। তারাই কিন্তু শুক্রবার বলেছে, খুব বেশি হলে ৬.৬ শতাংশ হওয়ার সম্ভাবনা। 
এরপরও কি আরবিআই গভর্নর শক্তিকান্ত দাসের এক্সটেনশনের ফাইল পাশ হবে? তাঁর নিজের উত্তর ছিল একটাই, ‘আমার থেকে আপনারা কোনও হেডলাইন পাবেন না।’
সম্পর্কিত সংবাদ