Bartaman Logo
২৭ মে, ২০২৬

কেন্দ্র: আহেরি: বাবা-মেয়ের লড়াইয়ে আসরে ভাইপো, ত্রিমুখী ‘রাজ-সংঘাত’ বিদর্ভের আদিবাসীভূমে

কেন্দ্র: আহেরি: বাবা-মেয়ের লড়াইয়ে আসরে ভাইপো, ত্রিমুখী ‘রাজ-সংঘাত’ বিদর্ভের আদিবাসীভূমে
  • ৮ নভেম্বর, ২০২৪ ০০:০০
গড়চিরৌলি ও নাগপুর: দল ভেঙেছে। রাজনীতির টানাপোড়েন আছড়ে পড়েছে পরিবারেও। শারদ পাওয়ারের এনসিপি ভেঙেছেন ভাইপো অজিত। গত লোকসভা ভোটেই মহারাষ্ট্রের পাওয়ার সেন্টার দেখেছিল জমজমাট পারিবারিক যুদ্ধ। এবার বিধানসভা ভোটেও বারামতী বিধানসভা আসনে দুই পাওয়ারের সংঘাত। কাকা অজিতকে টক্কর দিচ্ছেন ভাইপো যুগেন্দ্র। এনসিপির এই ভাঙন প্রভাব ফেলেছে আহেরির প্রাক্তন রাজ পরিবারেও। সেই পরিবারের ধরমরাও বাবা আতরাম আগেই অজিতের সঙ্গে হাত মিলিয়ে ধাক্কা দিয়েছেন শারদকে। মহারাষ্ট্রের বিজেপি জোট সরকারে মন্ত্রী পদও পেয়েছেন। এবার গড়চিরৌলি জেলার তফসিলি উপজাতিদের জন্য সংরক্ষিত আহেরি আসনে চারবারের এই বিধায়ককেই টিকিট দিয়েছে অজিতের দল। জবাবে তাঁর মেয়ে ভাগ্যশ্রী আতরাম-হাগলেকরকে প্রার্থী করে কাঁটা দিয়ে কাঁটা তোলার কৌশল নিয়েছে শারদের এনসিপি। এখানে শেষ নয়, বাবা-মেয়ের টক্করে যোগ দিয়েছেন ধরমরাওয়ের ভাইপো অম্বরীশ রাও আতরামও। বিজেপির এই প্রাক্তন মন্ত্রী এবার নির্দল হিসেবে ভোট ময়দানে। ফলে আদিবাসী-ভূমে আতরাম পরিবারের ত্রিমুখী লড়াই নজর কেড়েছে রাজনৈতিক মহলের। 
Advertisement
বিদর্ভ অঞ্চলের মাওবাদী উপদ্রুত শহর আহেরি। এই আসনটি গড়চিরৌলি-চিমুর লোকসভার অন্তর্গত। গত লোকসভা ভোটে এখানে জিতেছেন কংগ্রেস প্রার্থী নামদেও কিরসান। পরাজিত করেছেন এখানকার দু’বারের সাংসদ বিজেপির অশোক নেতেকে। বিদর্ভ অঞ্চলে লোকসভা ভোটের ফল অক্সিজেন জুগিয়েছে বিরোধী মহাবিকাশ আঘাড়িকে। 
এতদিন কার্যত বাবার ছায়াসঙ্গী ছিলেন ভাগ্যশ্রী। তবে ভোটের ময়দানে তিনি একেবারেই আনকোরা নন। ২০১৪ সালে গড়চিরৌলি বিধানসভা আসনে অবিভক্ত এনসিপির প্রার্থী হয়েছিলেন। কিন্তু জয় অধরাই থেকে যায়। তাঁর বাবা ধরমরাও গত লোকসভা ভোটে গড়চিরৌলি-চিমুর আসনে প্রার্থী হতে চেয়েছিলেন। কিন্তু কেন্দ্রটি বিজেপির দখলে থাকায় সেই স্বপ্ন পূরণ হয়নি। কিন্তু সেখানে বিজেপির হারের পর শুরু হয় বাবা ও মেয়ের বাগ্‌যুদ্ধ। 
মেয়ের বিরুদ্ধে বিশ্বাসঘাতকতার অভিযোগ তুলেছিলেন ধরমরাও। পাল্টা ১৯৯১ সালে পরিবারের বিপদে শারদ পাওয়ারের ভূমিকার কথা তুলে ধরে সেই তির ফিরিয়ে দিয়েছেন ভাগ্যশ্রী। তাঁর দাবি, বাবাকে যখন মাওবাদীরা অপহরণ করেছিল, তখন তাঁর নিরাপদ মুক্তির ব্যবস্থা করেছিলেন শারদ। বাবার জীবনরক্ষার কৃতজ্ঞতাস্বরূপ তিনি শারদের দলের প্রার্থী হয়েছেন। এই টক্করে ভোট কাটাকুটির অঙ্ক বেশ ছায়া ফেলেছে। ভাইপো অম্বরীশও কাকা ধরমরাওয়ের ভোটে থাবা বসাবেন বলে মনে করা হচ্ছে। ফ্যাক্টর হয়ে উঠতে পারেন আরও দু’একজন নির্দল। বাবা ও মেয়ের মধ্যে শেষ হাসি কে হাসবেন, সেটাই এখন দেখার!
সম্পর্কিত সংবাদ