নিজস্ব প্রতিনিধি, নয়াদিল্লি: পিস্তলটা একঝলক দেখা মাত্র চকিতে ঝাঁপিয়ে পড়লেন যশবীর সিং। পাঞ্জাব পুলিসের এএসআই। সিদ্ধান্ত নিতে সময় নিলেন এক সেকেন্ডেরও ভগ্নাংশ। আর একটু দেরি হলেই শিরোমণি আকালি দল প্রধান তথা পাঞ্জাবের প্রাক্তন উপ মুখ্যমন্ত্রী সুখবীর সিং বাদলের শরীর এফোঁড়-ওফোঁড় করে দিত খালিস্তানি বুলেট। আর তাও খাস স্বর্ণমন্দিরের অন্দরে। পিস্তল ধরা হাতটা ধরেই উপরদিকে তুলে দিলেন ওই পুলিসকর্মী। লক্ষ্যভ্রষ্ট হল গুলি। তারপর খালিস্তানি জঙ্গি নারায়ণ সিং চৌরাকে কাবু করতে বেশি সময় লাগেনি। সেখানে উপস্থিত আরও দুই পুলিসকর্মী, সেবাদার এবং অকালি দলের কর্মী-সমর্থকরাও ঝাঁপিয়ে পড়েন হামলাকারীর উপর। গ্রেপ্তার করা হয় তাকে।
Advertisement
অমৃতসর। স্বর্ণমন্দির। খালিস্তানি অভিশাপ। গত ৪০ বছরে বহু ঝড়ের সাক্ষী পাঞ্জাব। ফিরে আসতে পারত মুখ্যমন্ত্রী বিয়ন্ত সিং হত্যাকাণ্ডের দুঃস্বপ্ন। ১৯৯২ সালে খালিস্তানি জঙ্গিদের আত্মঘাতী বিস্ফোরণেই প্রাণ দিতে হয়েছিল বিয়ন্ত সিংকে। সেবার গোয়েন্দা ‘ইনপুট’ নিয়ে প্রশ্ন উঠেছিল। এবারও উঠল। তখন দায় চেপেছিল বব্বর খালসার উপর। এবার অভিযোগের তির তাদেরই দিকে। কারণ, বন্দুকবাজ খালিস্তানি জঙ্গি একাধিক গুরুতর অভিযোগে জেলবন্দি ছিল। মুক্তি পাওয়ার পরও উগ্র খালিস্তানি আন্দোলনের প্রকাশ্য সমর্থক। এক বছরের বেশি সময় ধরে কানাডা ও ভারতের মধ্যে খালিস্তান-সন্ত্রাস নিয়ে কূটনৈতিক বিবাদ চরমে উঠেছে। অথচ, খালিস্তান আন্দোলনের আঁতুড়ঘর, খাস পাঞ্জাবে কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা বিভাগের বাঁধন শক্ত নয় কেন? পিস্তল নিয়ে একজন ঢুকে পড়ছে স্বর্ণমন্দিরে, পৌঁছে যাচ্ছে সুখবীর সিং বাদলের কাছে, গুলিও চালাচ্ছে। সুখবীর সিং বাদল কিন্তু জেড প্লাস ক্যাটিগরির নিরাপত্তা পান। অর্থাৎ নিছক রাজ্য পুলিস নয়, কেন্দ্রীয় নিরাপত্তাও তাঁর জন্য বরাদ্দ। কানাডা এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র থেকে যেখানে লাগাতার বব্বর খালসার পক্ষ থেকে ভারতে হামলার হুমকি চলছে, তখন সেই সংগঠনের প্রাক্তন সক্রিয় সদস্য নারায়ণ সিং চৌরার গতিবিধির উপর নজরদারি থাকল না কেন? স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক গত ছ’মাস ধরে পাঞ্জাব পুলিসকে প্রতি মাসেই নির্দেশিকা এবং ইনপুট পাঠিয়েছে। বলা হয়েছে, খালিস্তানি জঙ্গিরা স্লিপার সেলের মাধ্যমে আবার সক্রিয় হয়ে উঠেছে। এই কাজে সহায়তা করছে আইএসআই। গুরুদাসপুরে শুধুমাত্র এই লক্ষ্যেই দ্বিগুণ করা হয়েছে সীমান্ত সুরক্ষা। কিন্তু নজরদারি? সেটা থাকলে কি ২০০৪ সালের জেল ভাঙা অথবা পরবর্তীকালে আরডিএক্স রাখার মতো গুরুতর অপরাধের আসামি খুল্লামখুল্লা ঘুরে বেড়াতে পারে? তার উপর কেন্দ্রীয় গোয়েন্দাদের বিশেষ নজরদারি থাকবে না? এই প্রশ্ন উঠছে।
২০১৫ সালে ক্ষমতার অপব্যবহার করে ডেরা সাচা সৌদার প্রধান গুরমিত রাম রহিমকে ‘সুবিধা’ পাইয়ে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছিল বাদলের বিরুদ্ধে। সেই প্রেক্ষিতে তৎকালীন উপ মুখ্যমন্ত্রীকে দোষী সাব্যস্ত করে সাজা দেয় শিখ ধর্মাবলম্বীদের সর্বোচ্চ সংগঠন ‘অকাল তখত’। বাদলকে স্বর্ণমন্দির সাফাই করার নিদান দেয় তারা। ‘সেবাদারের’ শাস্তি পালন করতে মঙ্গলবারের পর বুধবারও ভাঙা পায়ে হুইলচেয়ারে বসে স্বর্ণমন্দিরে হাজির হন তিনি। সেবাদারের নীল পোশাক পরেই। হাতে ছিল একটি বর্শা। তখনই একেবারে সামনে পৌঁছে যান নারায়ণ। ওই এএসআই সতর্ক না থাকলে খালিস্তানি উত্তেজনার আঁচ আগুনে বদলে যেতে বেশি সময় লাগত না। ইতিমধ্যেই এই ঘটনার তীব্র নিন্দা করেছে ‘অকাল তখত’। জেঠেদার গিয়ানি রঘুবীর সিং বলেছেন, ‘এটা শুধু বাদল নয়, স্বর্ণমন্দিরে সেবাদারের দায়িত্ব পালন করতে আসা এক শিখের উপর হামলা।’ নিয়ম হল, নারায়ণ চৌরার মতো অপরাধীদের নামে কেন্দ্রীয় গোয়েন্দাদের নির্দেশে রাজ্যে এসআইবি ফাইল খোলা থাকে। সেই অনুযায়ী তার উপর নজরদারি চলে। বুধবারের ঘটনার পর বোঝা গেল, সামান্যতম আঁচই পাননি গোয়েন্দারা।
২০১৫ সালে ক্ষমতার অপব্যবহার করে ডেরা সাচা সৌদার প্রধান গুরমিত রাম রহিমকে ‘সুবিধা’ পাইয়ে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছিল বাদলের বিরুদ্ধে। সেই প্রেক্ষিতে তৎকালীন উপ মুখ্যমন্ত্রীকে দোষী সাব্যস্ত করে সাজা দেয় শিখ ধর্মাবলম্বীদের সর্বোচ্চ সংগঠন ‘অকাল তখত’। বাদলকে স্বর্ণমন্দির সাফাই করার নিদান দেয় তারা। ‘সেবাদারের’ শাস্তি পালন করতে মঙ্গলবারের পর বুধবারও ভাঙা পায়ে হুইলচেয়ারে বসে স্বর্ণমন্দিরে হাজির হন তিনি। সেবাদারের নীল পোশাক পরেই। হাতে ছিল একটি বর্শা। তখনই একেবারে সামনে পৌঁছে যান নারায়ণ। ওই এএসআই সতর্ক না থাকলে খালিস্তানি উত্তেজনার আঁচ আগুনে বদলে যেতে বেশি সময় লাগত না। ইতিমধ্যেই এই ঘটনার তীব্র নিন্দা করেছে ‘অকাল তখত’। জেঠেদার গিয়ানি রঘুবীর সিং বলেছেন, ‘এটা শুধু বাদল নয়, স্বর্ণমন্দিরে সেবাদারের দায়িত্ব পালন করতে আসা এক শিখের উপর হামলা।’ নিয়ম হল, নারায়ণ চৌরার মতো অপরাধীদের নামে কেন্দ্রীয় গোয়েন্দাদের নির্দেশে রাজ্যে এসআইবি ফাইল খোলা থাকে। সেই অনুযায়ী তার উপর নজরদারি চলে। বুধবারের ঘটনার পর বোঝা গেল, সামান্যতম আঁচই পাননি গোয়েন্দারা।



