Bartaman Logo
১৭ জুলাই, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

কামারপুট সমবায় সমিতির নির্বাচনে প্রার্থীই দিতে পারল না জোড়াফুল

কামারপুট সমবায় সমিতির নির্বাচনে প্রার্থীই দিতে পারল না জোড়াফুল
  • ১৯ জানুয়ারি, ২০২৫ ০০:০০
Prefer us on Google
নিজস্ব প্রতিনিধি, কাঁথি: কন্টাই কো-অপারেটিভ ব্যাঙ্কে তৃণমূলের দুই গোষ্ঠীর সংঘাতে ইতি টেনেছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। গত প্রায় এক মাস ধরে এই ব্যাঙ্কের রাশ কোন দিকে থাকবে, তানিয়ে তপ্ত ছিল কাঁথির রাজনীতি। শাসক দলের দুই গোষ্ঠীর ফোকাস ছিল কন্টাই কো-অপারেটিভ ব্যাঙ্কের ডেলিগেট ও ডিরেক্টর নির্বাচন নিয়ে। সেই সুযোগে কাঁথি-১ব্লকের মাজিলাপুর পঞ্চায়েতের অধীন কামারপুট সমবায় সমিতির ভোটে নজর দেওয়ার সুযোগ পায়নি শাসক দল। সেখানে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় বাম-বিজেপি জোটের সকল প্রার্থী জয়ী হয়েছেন। তৃণমূল একটিও আসনে প্রার্থী দেয়নি। গোটা ঘটনায় এলাকায় শোরগোল পড়ে গিয়েছে।
Advertisement
মুগবেড়িয়া সেন্ট্রাল কো-অপারেটিভ ব্যাঙ্কের অধীনে কামারপুট সমবায় সমিতির মোট আসন সংখ্যা ন’টি। ২০১৭সালে শেষবার বোর্ড গঠন হয়েছিল। ২০২২সালে সেই বোর্ডের মেয়াদ শেষ হয়। গত ৩০ডিসেম্বর ওই সমবায় সমিতির সাধারণ সভার মিটিং হয়। সমিতির বোর্ড গঠন উপলক্ষ্যে ভোট প্রক্রিয়া নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। এরপর ৯জানুয়ারি মনোনয়নপত্র বিতরণ হয়। ১০ জানুয়ারি মনোনয়ন জমা হয়। ১৪জানুয়ারি মনোনয়নপত্র স্ক্রুটিনি হয়। বাম ও বিজেপির পক্ষ থেকে প্রগতিশীল জোট গড়ে ওই সমবায় সমিতিতে প্রার্থী দেওয়া হয়। শাসক দলের পক্ষ থেকে কোনও প্রার্থী না থাকায় জোটের ন’জনকে জয়ী ঘোষণা করা হয়।
শ্যামরাইবাড়, কামারপুট, হরিপুর, ভুঁইয়াপাদা প্রভৃতি এলাকায় ওই সমবায় সমিতির কাজকর্ম চলে। জানুয়ারি প্রথম ও দ্বিতীয় সপ্তাহ নাগাদ ভোট প্রক্রিয়া চলাকালীন শাসক দল ব্যস্ত ছিল কন্টা‌ই কো-অপারেটিভ ব্যাঙ্কের ডিরেক্টর নির্বাচন নিয়ে। গত ১৫ডিসেম্বর কন্টাই কো-অপারেটিভ ব্যাঙ্কের ডেলিগেট নির্বাচনে শাসক দল ১০৮টির মধ্যে ১০১টি আসনে জয়ী হয়। তারপরই শাসক দলের আসল লড়াই শুরু হয়। বৃহৎ ওই ব্যাঙ্কের বোর্ডের রাশ কোন গোষ্ঠীর হাতে থাকবে তানিয়ে অখিল গিরি গোষ্ঠীর সঙ্গে উত্তম বারিক গোষ্ঠীর জোর লড়াই শুরু হয়। দলের ফোকাস শুধুমাত্র কন্টা‌ই কো-অপারেটিভ কেন্দ্রিক হওয়ায় কামারপুট সমবায় সমিতির দিকে নজর দেওয়ার সময় পাননি নেতৃত্ব। কাঁথি-১ব্লক তৃণমূল সভাপতি সুনীত পট্টনায়েক নিজে কন্টাই কো-অপারেটিভ ব্যাঙ্কের ডিরেক্টর হয়েছেন। ওই ভোট প্রক্রিয়া নিয়ে ব্যস্ত সুনীতবাবু নিজের এলাকায় সমবায় সমিতির একটি আসনেও প্রার্থী দিতে পারেননি। তাছাড়া মাজিলাপুর গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকার তৃণমূল নেতা আমিন সোহেল কাঁথি-১পঞ্চায়েত সমিতির বিরোধী দলনেতা। নিজের এলাকায় সমবায়ে প্রার্থী দিতে তাঁর পক্ষ থেকেও তদ্বির দেখা যায়নি বলে অভিযোগ। শাসক দলের নেতৃত্বের এই নিস্পৃহ থাকার সুযোগে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় জয়ী হয়েছে বাম-বিজেপি জোট।
এনিয়ে তৃণমূল কংগ্রেসের ব্লক সভাপতি সুনীতবাবু বলেন, কামারপুট সমবায় সমিতির ভোট প্রক্রিয়া নিয়ে সেভাবে আমাদের কাছে খবর ছিল না। স্থানীয় অঞ্চল নেতৃত্বও সেভাবে খোঁজখবর রাখেনি। ওই সোসাইটির অবস্থাও ততখানি ভালো নয়। তাই নির্বাচন নিয়ে সেভাবে উৎসাহ দেখানো হয়নি। সোসাইটির ম্যানেজার দীপক শ্যামল বলেন, সোসাইটি আগের চেয়ে অনেক ভালো অবস্থায় রয়েছে। এখানে শাসক দলের সংগঠন দুর্বল। সম্ভবত সেকারণে ওরা প্রার্থী দেয়নি। ওই সোসাইটির বিনা ভোটে জয়ী সদস্য তথা শ্যামরাইবাড়ের বিজেপির পঞ্চায়েত সদস্য দিলীপকুমার ভুঁইয়া বলেন, তৃণমূল সাংগঠনিক দুর্বলতায় এখানে প্রার্থী দিতে পারেনি। আমরা বিনা ভোটে জয়ী হয়েছি।
Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ