প্রয়াগরাজ, ১০ জানুয়ারি: আগামী ১৩ জানুয়ারি থেকে শুরু হবে পূর্ণকুম্ভ। শেষ হবে ২৬ জানুয়ারি। চলছে শেষ মূহুর্তের প্রস্তুতি। কুম্ভমেলাকে ঘিরে কার্যতই সাজ সাজ রব। বিশ্বের নানা প্রাপ্ত থেকে বহু মানুষ এই কুম্ভমেলায় যোগ দিতে আসছেন। লক্ষ লক্ষ মানুষের এই জমায়েতের সময় নিরাপত্তায় কোনও ফাঁক রাখতে চাইছে না উত্তরপ্রদেশের যোগী সরকার। মেলা চত্বরে ইতিমধ্যেই বসে গিয়েছে প্রায় ২৭০০ সিসিটিভি। তৈরি করা হয়েছে ১২৩টি ওয়াচ টাওয়ার। এগুলিতে থাকবে অত্যাধুনিক দূরবিনও। যার মাধ্যমে মেলার সর্বত্র নজরদারি চালাবে পুলিস। পাশাপাশি সেখানে মোতায়েন থাকবেন প্রায় ৩৭ হাজার পুলিস কর্মী। এছাড়াও থাকবেন এনএসজি, এটিএস এবং এসটিএফ। অত্যাধুনিক অগ্নিনির্বাপক ব্যবস্থা নিয়ে উপস্থিত থাকবে দমকলও। মেলায় বসে গিয়েছে বড় বড় এলএইডি স্ক্রিনও। এছাড়া প্রতিবারের মতোই তৈরি হয়েছে অনুসন্ধান কেন্দ্র। নাম ‘ভুলে-ভাটকে’। মেলায় কেউ হারিয়ে গেলে তাঁকে খুঁজে দেওয়ার জন্যই মূলত এই কেন্দ্রটি তৈরি করা হয়। কিন্তু এবার গতানুগতিক সেই নিয়মের সঙ্গে যোগ হয়েছে এআই পদ্ধতিও। মেলায় নিখোঁজ হয়ে যাওয়া ব্যক্তির ছবি প্রথমে সোশ্যাল মিডিয়া বা পরিজনদের কাছ থেকে সংগ্রহ করা হবে। এরপর কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআইয়ের সাহায্যে ওই ছবির সঙ্গে মিল রয়েছে এমন ব্যক্তিকে মেলায় খোঁজা শুরু হবে। নিখোঁজ সেই ব্যক্তিকে মেলায় কোথায় দেখা গিয়েছে তা সিসিটিভি-র মাধ্যমে খুঁজে দেবে এই প্রযুক্তি। যদি সেই ব্যক্তির খোঁজ পাওয়া যায় তাহলে তাঁর ছবি কেন্দ্রের বাইরে থাকা এলইডি স্ক্রিনে ফুটে উঠবে। এর ফলে কেন্দ্রের বাইরে অপেক্ষারত উদ্বিগ্ন নিখোঁজ ব্যক্তির পরিজনেরা তাঁর খোঁজ সহজেই পেয়ে যাবেন। মেলা প্রাঙ্গনজুড়ে এইরকম মোট ১২টি কেন্দ্র তৈরি করা হয়েছে। প্রতিটির বাইরে লাগানো হয়েছে একটি করে এলইডি স্ক্রিন। অন্যদিকে, ডিআইজি বৈভব কৃষ্ণ জানিয়েছেন, মেলার ৭টি প্রধান প্রবেশপথ রয়েছে। মনে করা হচ্ছে এবারের কুম্ভমেলায় প্রায় ৪৫ কোটি পুণ্যার্থী আসতে পারেন। সেজন্য সুরক্ষাব্যবস্থায় কোনওরকম ফাঁক রাখতে চাইছে না প্রশাসন।



