Bartaman Logo
২৭ মে, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

কলকাতা মেট্রোয় লোকসান বেড়ে প্রায় দেড় হাজার কোটি

কলকাতা মেট্রোয় লোকসান বেড়ে প্রায় দেড় হাজার কোটি
  • ২১ ডিসেম্বর, ২০২৪ ০০:০০
নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: কলকাতা শহরে মেট্রো পরিচালনার দায়িত্বে থাকা রেল আধিকারিকদের দক্ষতা নিয়ে ঘুরিয়ে বড়সড় প্রশ্ন তুলে দিলেন রেলমন্ত্রী স্বয়ং। রেলমন্ত্রী অশ্বিনী বৈষ্ণব শুক্রবার রাজ্যসভায় জানান, শেষ তিন অর্থবর্ষে কলকাতা মেট্রো এক হাজার ৩৭৬ কোটি টাকা লোকসান করেছে। অর্থাৎ কেন্দ্রীয় সরকার মেট্রো পরিচালনায় প্রতি বছর যে অর্থ বরাদ্দ করে তার কয়েকগুণ বেশি টাকা খরচ হয়েছে যাত্রী পরিষেবা দিতে। এদিন সংসদের উচ্চকক্ষে বিজেপি সাংসদ শমীক ভট্টাচার্যের প্রশ্নের জবাব দিতে গিয়ে এই হতাশা ব্যক্ত করেন রেলমন্ত্রী। পরিসংখ্যান পেশ করে তিনি বলেন, ২০২১-’২২, ২০২২-’২৩ এবং ২০২৩-’২৪ অর্থবর্ষে নিট লোকসানের পরিমাণ যথাক্রমে ৪৮৭ কোটি, ৪২৪ কোটি ও ৪৬৫ কোটি। একইসঙ্গে বৃহত্তর কলকাতায় নয়া মেট্রো লাইন চালুর লক্ষ্যে শেষ ১০ বছরে ভারত সরকার ২৩ হাজার কোটি টাকার বেশি টাকা খরচ করেছে বলে জানিয়েছেন রেলমন্ত্রী।
Advertisement
এ প্রসঙ্গে মেট্রো ভবনের এক শীর্ষকর্তা বলেন, কিছু ‘অদক্ষ’ অফিসারের সৌজন্যে দেশের প্রথম মেট্রো রেলের এই হাল। সরকারি ‘অর্থ নয়ছয়’ করার অন্যতম পীঠস্থান হয়ে উঠেছে এই সংস্থা। কর্মাশিয়াল ও জনসংযোগ বিভাগের একাধিক কর্মী-অফিসারের কাজ নিয়ে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। সম্প্রতি সংশ্লিষ্ট দুই বিভাগে দীর্ঘদিন উচু পদে থাকা এক অফিসারকে শাস্তিমূলক বদলি করে দক্ষিণ ভারতে পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে। অক্টোবর মাসে মেট্রোর ৪০ বছর পূর্তি উপলক্ষ্যে কোটি কোটি টাকা দুর্নীতি হয়েছে বলেও ওই কর্তার দাবি। জানা গিয়েছে, নিয়ম বহির্ভূতভাবে টেন্ডার পাইয়ে দেওয়া। মেট্রোর নাম ব্যবহার করে টাকা তোলার মত গুরুতর অভিযোগও জমা পড়েছে রেলমন্ত্রীর অফিসে। সূত্রের দাবি, জেনারেল ম্যানেজার পি উদয়কুমার রেড্ডির কাছে গোটা বিষয়টি সম্পর্কে জানতে চাওয়া হতে পারে। কেন না তাঁর সময়ে এই ধরণের দুষ্টচক্র আরও সক্রিয় হয়ে উঠেছিল। স্বভাবতই প্রশ্ন উঠছে, কার বা কাদের প্রশয়ে এই অসাধু মেট্রো কর্মীদের রমরমা বেড়েছে? বিষয়টি সম্পর্কে কর্মী ইউনিয়নের এক নেতা বলেন, মেট্রো ভবনের সংস্কার কাজ নিয়েও অনিয়ম হয়েছে। তাই কলকাতা মেট্রোর কমার্শিয়াল ও জনসংযোগ বিভাগ ঢেলে সাজার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। দুই বিভাগের মাথায় নতুন কর্তাদের বসানো হয়েছে, যাঁদের ভাবমুর্তি অত্যন্ত উজ্জ্বল। ওই নেতার আশঙ্কা, কর্তা বদল হলেও মাঝারি ও নীচুতলার ‘বাস্তুঘুঘু’রা বহাল তবিয়তে রয়েছেন। সেখানেও আমূল সংস্কার প্রয়োজন।
সম্পর্কিত সংবাদ