


লিডস: ২০১৮’র দ্য ওভাল। তিন বছর পর লর্ডস। চলতি মরশুমে লিডস। ইংল্যান্ডের মাটিতে তৃতীয় সেঞ্চুরি হাঁকিয়ে ফেললেন লোকেশ রাহুল। প্রথম ইনিংসে ভালো শুরু করেও বড় রান আসেনি। বরং জো রুটের অবিশ্বাস্য ক্যাচ ডাগ-আউটে ফেরায় রাহুলকে। ক্যাচ উঠেছিল সোমবারও। এক্ষেত্রে ভাগ্য সহায় ছিল তাঁর। টংয়ের বলে রাহুলের ক্যাচ ফেলেন হ্যারি ব্রুক। ‘জীবন’ পেয়ে আর কোনও ভুলচুক করেননি লোকেশ। ২৪৭ বলে ১৩৭ রানের ইনিংস সাজানো ১৮ টি চারে। কেরিয়ারের নবম শতরান একেবারেই ধ্রুপদী। হেডিংলের উইকেটে তাঁবু খাটিয়ে জাঁকিয়ে বসলেন তিনি। অসীম ধৈর্য আর সাধনার প্রতিমূর্তি। বিষাক্ত ডেলিভারিকে দিলেন যোগ্য সম্মান। লুজ বল পত্রপাঠ বাউন্ডারিতে পাঠাতে দ্বিধা করেননি। ব্যাকরণ বই থেকে উঠে আসা ড্রাইভে মুগ্ধ বিশেষজ্ঞরাও। লাঞ্চের আগেই শতরান পূর্ণ করেন লোকেশ। হেলমেট খুলে কপালের নীল ব্যান্ড আলগোছে ঠিক করে ফের মগ্ন হলেন সাধনায়।
অফুরন্ত প্রতিভা। অথচ কেমন যেন নড়বড়ে। ধারাবাহিকতার অভাব স্পষ্ট। লোকেশ রাহুলকে নিয়ে বরাবরই ভ্রু কুঁচকেছে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট। সমালোচকদের খোঁচা, এ কেমন পাখি যার নিজের ডানায় ভরসা নেই? অথচ ১১ বছর আগে মেলবোর্নে অস্ট্রেলিয়ার বিরুদ্ধে হইহই করে অভিষেক ঘটে রাহুলের। বক্সিং ডে টেস্ট। তা’ও আবার রোহিত শর্মার পরিবর্তে দলে সুযোগ। ক’জনের ভাগ্যে এমনটা ঘটে? একটা সময় টিম ইন্ডিয়ার অধিনায়কের দৌড়েও জোরকদমে ছিলেন তিনি। স্বপ্নের ফানুস বাস্তবের কঠিন মাটিতে আছড়ে পড়তে দেরি হয়নি। দু’বছর আগে খারাপ ফর্মের জন্য ডানা ছাঁটা হয় রাহুলের। সহ-অধিনায়কের পদও হারান তিনি। অনেকেই ভেবেছিলেন, ফুরিয়ে যাওয়া স্রেফ সময়ের অপেক্ষা। কিন্তু এইবার সমালোচকদের ভুল প্রমাণ করলেন লোকেশ রাহুল। বিলেতের মাটিতে বিরাট-রোহিতহীন ভারতীয় ব্যাটিং নিয়ে উদ্বেগ ছিলই। মেঘলা আবহাওয়া, সিমিং উইকেট পেস বোলারদের সাম্রাজ্য। টেকনিকে নিখুঁত না থাকলে চোখে সর্ষেফুল দেখা নিশ্চিত। কিন্তু হেডিংলে দেখাল, লোকেশ রাহুল অনেক পরিণত। একই সঙ্গে দায়িত্বশীলও। তাঁর ওপেনিং স্লটও এই ইনিংসের সুবাদে কার্যত পাকা হয়ে গেল।