Bartaman Logo
২৭ জুলাই, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

কুল ও পেয়ারা চাষে লাভ চাষিদের

কুল ও পেয়ারা চাষে লাভ চাষিদের
  • ২১ জানুয়ারি, ২০২৫ ০০:০০
Prefer us on Google
সংবাদদাতা, কালনা: কুল ও পেয়ারা চাষ করে লাভের মুখ দেখছেন কালনা মহকুমার পূর্বস্থলী ১ ও ২ ব্লকের চাষিরা। দিন দিন এই দু’টি ফল চাষের জমির পরিমাণ বাড়ছে।কালনা মহকুমার সহ-কৃষি অধিকর্তা পবিত্র বিশ্বাস বলেন, প্রথাগত চাষ ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে। বাজারের পরিস্থিতি ও প্রাকৃতিক দুর্যোগে ক্ষতির মুখে পড়তে হয়। তাই বিকল্প হিসেবে পেয়ারা, কুল, কলা, ড্রাগন ফল, প্রভৃতি চাষ করে চাষিরা লাভবান হচ্ছেন। রাজ্যের শস্যগোলা পূর্ব বর্ধমান জেলা। জেলায় ধান, পাট ও আলুর ব্যাপক চাষ হয়। কিন্তু কখনও কখনও প্রাকৃতিক দুর্যোগ ও বাজারে দাম পড়ে যাওয়ায় এসব ফসল চাষ করে চাষিরা লোকসানের মুখে পড়েন। কয়েকবছর ধরে মহকুমা কৃষিদপ্তর চাষিদের প্রথাগত চাষের বদলে বিকল্প ফসল উৎপাদনে চাষিদের উৎসাহিত করছে। ফল চাষ তার মধ্যে অন্যতম। প্রথমদিকে মহকুমার পূর্বস্থলী-১ ও ২ ব্লকের দোগাছিয়া, বিদ্যানগর, জাহান্নগর, সমুদ্রগড়, পূর্বস্থলী প্রভৃতি এলাকার চাষিরা পেয়ারা চাষকে বেছে নিয়েছিলেন। দু’তিনবছর ধরে কুলচাষও এলাকায় জনপ্রিয় হয়েছে। কুল ও পেয়ারা চাষ করে চাষিরা ভালোই লাভ করছেন। একবার গাছ লাগালে তিন-চারবছর অনায়াসে ফল পাওয়া যায়। বাজারে ভালো দামও থাকায় লাভ বেশি হয়। এক বিঘা জমিতে ১০০র বেশি কুলগাছ লাগানো যায়। গাছপিছু ২৫-৩০কেজি কুল পাওয়া যায়। কুল বা পেয়ারা বিক্রির জন্য চাষিদের চিন্তা করতে হয় না। বহু পাইকার বাগানে এসে কুল ও পেয়ারা কিনে নিয়ে যান। স্থানীয় নিমতলা, সমুদ্রগড়, নবদ্বীপের বিভিন্ন আড়তেও বিক্রি করা যায়। দাম ভালো থাকলে এক বিঘা জমির কুল ৬০-৭০হাজার টাকায় বিক্রি করা যায়। বিঘা প্রতি উৎপাদন-খরচ ২০হাজার টাকা। তবে হনুমানের উৎপাতে এখন গাছ পাহারা দিতে অতিরিক্ত শ্রমিক রাখতে হচ্ছে বলে চাষিরা জানালেন। এই এলাকায় তিন জাতের কুল চাষ হয়। সেগুলি হল-বাউ কুল, আপেল কুল ও ভারত সুন্দরী। আপেল কুলের চাহিদাই সবচেয়ে বেশি। বাউ কুল একটু বড় আকারের হওয়ায় ওজনে অনেকটাই বেশি হয়। এক-একটি বাউ কুল ৪০-৬০গ্রাম পর্যন্ত ওজনের হয়। পূর্বস্থলী-১ ব্লকের চাষি অনন্তকুমার দাস, নীলকান্ত দেবনাথ বলেন, ধান, পাট বা আলুচাষ খুবই ঝুঁকিপূর্ণ। চাষ করে অনেকবার লোকসান হয়েছে। কুল বা পেয়ারার চারা একবার লাগালে তিন-চার বছর ফলন দেয়। এবার আবহাওয়া ভালো থাকায় ফলন ভালো হয়েছে। নেট দিয়ে ও পাহারা দিয়ে হনুমানের উৎপাত সামলানো হচ্ছে।
Advertisement
Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ