Bartaman Logo
২৪ জুলাই, ২০২৬
বর্তমান / খেলা

রাহানে-নায়ারদের বিদায় দিক কেকেআর

প্রিয় দলের আইপিএল প্লে-অফে উঠতে না পারা নিয়ে বিন্দুমাত্র বিস্মিত নন কলকাতা নাইট রাইডার্সের সমর্থকরা। এটাই তো প্রত্যাশিত।

রাহানে-নায়ারদের বিদায় দিক কেকেআর
  • ২৬ মে, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

সুকান্ত বেরা, কলকাতা: নেই আপশোস। নেই হা-হুতাশ। প্রিয় দলের আইপিএল প্লে-অফে উঠতে না পারা নিয়ে বিন্দুমাত্র বিস্মিত নন কলকাতা নাইট রাইডার্সের সমর্থকরা। এটাই তো প্রত্যাশিত।

Advertisement

এবারের কোটিপতি লিগে কেকেআরের পারফরম্যান্সের মূল্যায়ন করলে দেখা যাবে, গ্লাসের অর্ধেক ফাঁকা আর অর্ধেক পূর্ণ। কারণ, একটা দল প্রথম ছ’টি ম্যাচে জয়ের মুখ দেখেনি। তারাই কিনা পরের ম্যাচগুলিতে দুর্দান্ত পারফর্ম করে জাগিয়ে তুলেছিল প্লে-অফে ওঠার আশা। যদিও তা স্বপ্নই থেকে গিয়েছে। নিয়মরক্ষার ম্যাচে জয় দেখতে চেয়েছিলেন নাইট রাইডার্স সমর্থকরা। কিন্তু তাও অধরা। হার দিয়ে শুরু, হার দিয়ে টুর্নামেন্ট শেষ। সপ্তম স্থানেই সন্তুষ্ট থাকতে হল শাহরুখ খানের দলকে।
কথায় আছে, সকাল দেখেই বোঝা যায় দিনটা কেমন যাবে। বাংলাদেশের পেসার মুস্তাফিুজর রহমানকে নিয়ে বিতর্ক শুরুতেই ফোকাস নড়িয়ে দিয়েছিল কেকেআরের। তারপর চোট সমস্যায় আরও দুর্বল হয়ে পড়ে পেস আক্রমণ। হর্ষিত রানার ছিটকে যাওয়া নাইট শিবিরের কাছে ছিল বড় ধাক্কা। একই পথের পথিক আকাশ দীপ। তাঁদের অভাব ঢাকা সহজ ছিল না। তাই কার্তিক ত্যাগীর মতো নবাগতদের দিয়েই কাজ চালাতে হয়েছে। সেই সঙ্গে মাথিশা পাথিরানার ফিটনেস ইস্যু এবং দলে থেকেও ক্যামেরন গ্রিনের বল না করা নাইট রাইডার্সের চলার পথকে শুরুতেই কঠিন করে তোলে। সেই সঙ্গে ফিন অ্যালেন, টিম সেইফার্টদের চূড়ান্ত ব্যর্থতা। তারই ফলস্বরূপ, প্রথম ছ’টি ম্যাচের মধ্যে একটিতেও জয় মেলেনি। সেটাই নাইট রাইডার্সের ব্যর্থতার মূল কারণ।
বলা হয়, একটা দল ততটাই ভালো, যতটা তার অধিনায়ক। এক্ষেত্রে অজিঙ্কা রাহানে অনেকটাই পিছিয়ে। তিনি আসলে ‘অ্যাক্সিডেন্টাল’ ক্যাপ্টেন। কাউকে হাতের সামনে না পেয়ে ধরেবেঁধে সিংহাসনে বসিয়ে দিয়েছিলেন শাহরুখ খান অ্যান্ড কোং। কিছু করারও ছিল না। কলকাতা নাইট রাইডার্স দলে ক্যাপ্টেন হওয়ার মতো ক্রিকেটার কোথায়? রাহানের বিকল্প হিসেবে ভাবা হচ্ছে রিঙ্কু সিংকে। এটা কতটা সঠিক পদক্ষেপ, তা সময় বলবে। তবে শ্রেয়স আয়ারকে ছেড়ে দেওয়া যে কত বড় ভুল ছিল, সেটা নিশ্চয়ই টের পাচ্ছেন কিং খান। আইপিএল জিততে গেলে দরকার তুখোড় বুদ্ধির ক্যাপ্টেন ও কোচ। এতদিন দল চালানোর পরেও সেটা যদি তিনি না বুঝতে পারেন, তাহলে কিছু বলার নেই।
ঠান্ডা ঘরে বসে কি দল পরিচালনা করা সম্ভব? বেঙ্কি মাইসোর কলেজ জীবনে সামান্য ক্রিকেট খেলতেন ঠিকই। কিন্তু আইপিএলের মতো কঠিন টুর্নামেন্টে ক্রিকেটার চয়ন থেকে সাপোর্ট স্টাফদের কড়া মার্কিংয়ে রাখার ব্যাপারটি তাঁর পক্ষে সম্ভব হয়ে ওঠেনি। রাহানের মতো ক্রিকেটারকে ক্যাপ্টেন এবং অভিষেক নায়ারকে কোচ করার সিদ্ধান্তটাই ভুল। আগেও একই ভুল করেছিলেন কেকেআরের সিইও বেঙ্কি মাইসোর। চন্দ্রকান্ত পণ্ডিতের হাতে দায়িত্ব তুলে দিয়েছিলেন তিনি। নিন্দুকেরা বলতেই পারেন, এই পণ্ডিতই তো চ্যাম্পিয়ন করেছিলেন নাইট রাইডার্সকে। ঠিক কথাই। তবে এটাও মনে রাখতে হবে, সেই দলের মেন্টর ছিলেন গৌতম গম্ভীর।
পাঁচবারের চ্যাম্পিয়ন চেন্নাই এবং মুম্বইও এবার চূড়ান্ত ব্যর্থ। তাই ভেঙে পড়ার কিছু নেই। ভুল থেকে শিক্ষা নিতে হবে। রামনদীপ সিংদের মতো কোটার ক্রিকেটারদের খেলানো অবিলম্বে বন্ধ হওয়া দরকার। প্রয়োজনে হেড কোচ করা হোক শেন ওয়াটসনকে। ১৪ ম্যাচে ২৫.৭৭ গড়ে ৩৩৫ রান করেছেন রাহানে। তাঁর থেকে এর চেয়ে আর বেশি কী আশা করা যায়! তাই সবার আগে কেকেআরের কোচ ও ক্যাপ্টেন বদল হওয়া দরকার।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ