Bartaman Logo
২৩ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

বেঙ্গল শক্তিপীঠ সার্কিটে নবগ্রামের কিরীটেশ্বরী

রাজ্য সরকারের বেঙ্গল শক্তিপীঠ সার্কিটে নবগ্রামের কিরীটেশ্বরী যুক্ত। পর্যটন উন্নয়নে নতুন উদ্যোগ, বিস্তারিত পড়ুন।

বেঙ্গল শক্তিপীঠ সার্কিটে নবগ্রামের কিরীটেশ্বরী
  • ২৩ জুন, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

সংবাদদাতা, লালবাগ: রাজ্যের ঐতিহ্যবাহী শক্তিপীঠগুলিতে পর্যটনের উন্নয়নে ‘বেঙ্গল শক্তিপীঠ সার্কিট’ গড়ে তোলার উদ্যোগ নিল রাজ্য সরকার। ঘোষিত বেঙ্গল শক্তিপীঠ সার্কিটের মধ্যে রয়েছে মুর্শিদাবাদ জেলার নবগ্রামের কিরীটেশ্বরী শক্তিপীঠও। রাজ্যজুড়ে ঐতিহ্যবাহী বিভিন্ন স্থান পুনরুদ্ধার করে পর্যটক টানতে হেরিটেজ কমিশন পুনর্গঠনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। এদিন রাজ্য বাজেটে ‘বেঙ্গল শক্তিপীঠ সার্কিট’-এ কিরীটেশ্বরীর নাম ঘোষণা হতেই খুশির হাওয়া জেলাজুড়ে। 

Advertisement

কিরীটেশ্বরী মন্দির কমিটির সম্পাদক আনন্দকুমার মণ্ডল বলেন, ২০২৩ সালে কেন্দ্রের পর্যটন মন্ত্রক কিরীটেশ্বরীকে দেশের সেরা পর্যটন গ্রাম হিসাবে স্বীকৃতি দিয়েছিল। তারপর প্রায় তিন বছর কেটে গিয়েছে। পর্যটন পরিকাঠামোর কোনো উন্নতি হয়নি। রাজ্য সরকার ‘বেঙ্গল শক্তিপীঠ সার্কিট’ গড়ে তোলার উদ্যোগ নিয়েছে। খুব ভালো খবর। রাজ্য সরকারের এই উদ্যোগে কিরীটেশ্বরী আরও পরিচিতি লাভ করবে এবং সেই সঙ্গে এখানকার পর্যটন চাঙ্গা হবে। মুর্শিদাবাদ জেলা হেরিটেজ অ্যান্ড কালচারাল ডেভেলপমেন্ট সোসাইটির সম্পাদক স্বপন ভট্টাচার্য বলেন, শুধু সার্কিটে অন্তর্ভুক্ত করলেই হবে না। লাইট অ্যান্ড সাউন্ডের মাধ্যমে কিরীটেশ্বরীর ইতিহাস এবং সতীপীঠের ইতিহাস মানুষের কাছে তুলে ধরতে হবে। হোম স্টে-র জন্য সরকারিভাবে গ্রামবাসীকে উৎসাহিত করতে হবে। পর্যটক টানতে প্রচারে জোর দিতে হবে। রাজ্যের মন্ত্রী তথা মুর্শিদাবাদ কেন্দ্রের বিজেপি বিধায়ক গৌরীশঙ্কর ঘোষ বলেন, এর আগে পূর্বতন কোনো সরকার ঐতিহ্যবাহী শক্তিপীঠগুলিতে পর্যটক টানতে কোনো উদ্যোগ নেয়নি। বর্তমান সরকার শক্তিপীঠগুলিকে এক সুতোয় বেধে ‘বেঙ্গল শক্তিপীঠ সার্কিট’ গড়ার উদ্যোগ নিয়েছে। এরফলে শক্তিপীঠগুলির মানোন্নয়ন হবে এবং সেই সঙ্গে পর্যটক সমাগম অনেক গুণ বৃদ্ধি পাবে।  কিরীটেশ্বরী মন্দির হল হিন্দু শাক্ত মতের পবিত্র তীর্থ পীঠগুলির অন্যতম। মুর্শিদাবাদ জেলার নবগ্রাম থানার কিরীটেশ্বরী মৌজায় কিরীটেশ্বরী মন্দির সম্ভবত এই জেলার প্রাচীনতম মন্দির। দেবীর নাম অনুসারে গ্রামের নাম হয়েছে কিরীটেশ্বরী। তান্ত্রিকমতে এবং পীঠনির্ণয় ও পুরাণ কাহিনি অনুসারে এখানে দেবী দক্ষিয়ণী সতীর কিরীট অর্থাৎ মুকুটের কণা পতিত হয়েছিল। এইজন্য এই স্থানটিকে মহাপীঠ বলে। পাঠান-মুঘল শাসনকালেও এই স্থানের খ্যাতি ছিল।  ১৪০৫ সালে আদি দক্ষিণমুখী মন্দিরটি তৈরি হয়েছিল বলে জানা যায়। আদি মন্দিরটি বর্তমানে লুপ্তপ্রায়। গ্রামের দক্ষিণ অংশের কয়েক বিঘা জায়গাজুড়ে  কিরীটেশ্বরী বর্তমান মন্দির এবং আরও কয়েকটি মন্দির অবস্থিত। মন্দিরের গর্ভগৃহে বিগ্রহ নেই, মন্দিরের ভিতরে একটি মর্মরবেদীর উপর কালো পাথরের পীঠিকা। সম্ভবত তার উপর ছিল দেবীর কিরীট। বর্তমানে ওই কিরীট গ্রামের একধারে ‘গুপ্তমঠ’ নামে একটি মন্দিরে লাল রেশমি কাপড়ে মুড়ে একটি কলসে রাখা আছে।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ