সঞ্জয় সরকার: সালটা ২০১৪। ওসাসুনা যুব দলের জার্সিতে ঝড় তুলছেন ১৮ বছরের এক তরুণ। অল্প দিনের মধ্যেই নজর কাড়েন তৎকালীন সিনিয়র দলের কোচ জান আরবান আর তাঁর সহকারী কিবু ভিকুনার। প্রাক মরশুম প্রস্তুতিতে বার্সেলোনা ‘বি’ দলের বিরুদ্ধে স্কোরশিটে নাম তোলেন তিনি। খুলে যায় সিনিয়র দলের রাস্তা। এরপর আর তাঁকে পিছনে ফিরে তাঁকাতে হয়নি। একের পর এক সিঁড়ি টপকে বর্তমানে স্পেন দলের অন্যতম ভরসার নাম মিকেল মেরিনো। বিশ্বকাপের নক-আউটে পরপর দু’ম্যাচে জাল কাঁপিয়ে রাতারাতি দেশবাসীর কাছে নায়ক হয়ে উঠেছেন তিনি।
ওসাসুনায় থাকাকালীন খুব কাছ থেকে মেরিনোকে দেখেছেন মোহন বাগানের হয়ে আই লিগ জয়ী কোচ কিবু ভিকুনা। বিশ্বকাপের আসরে প্রাক্তন ছাত্রের এই পারফরম্যান্সে তিনি তৃপ্ত। বললেন, ‘ওসাসুনায় খুব কাছ থেকে ওকে দেখেছি। আমরাই মিকেলকে বি’দল থেকে সিনিয়র দলে তুলে আনি। মনে আছে, সেসময় স্পেন অনূর্ধ্ব-১৯ দলের হয়ে ইউরোপিয়ান চ্যাম্পিয়নশিপ জেতে মেরিনো। সেই দলের দায়িত্বে ছিলেন বর্তমান কোচ ফুয়েন্তে।’
ওসাসুনার জার্সিতে শুরুর দিকে ৯০ মিনিট খেলার জায়গায় ছিলেন না মেরিনো। এই প্রসঙ্গে কিবুর মন্তব্য, ‘যুব দলের হয়ে ওকে প্রথম দেখেছিলাম। প্রাক মরশুম প্রস্তুতিতে সিনিয়র দলের হয়ে বার্সেলোনা-বি দলের বিরুদ্ধে গোলও করে। তারপর ওকে সিনিয়র দলে সুযোগ দেওয়া হয়। শারীরিক কারণে শুরুতে ৬০-৭০ মিনিট খেলত। পরে তা কাটিয়ে ওঠে।’
সোনায় বাঁধানো স্পেনের মাঝমাঠ। রড্রি, পেড্রি, ফাবিয়ান রুইজ, জুবিমেন্ডি, গাবি, ওলমো, মেরিনোদের মধ্যে চলছে সুস্থ প্রতিযোগিতা। ভিকুনা অবশ্য এটিকে ইতিবাচক দিক হিসেবেই দেখছেন। বললেন, ‘এটা নতুন নয়। তবে এই দলকে আরও পরিণত ফুটবল খেলতে হবে। মনে রাখবেন, বেলজিয়ামের থেকে অনেক বেশি ভয়ংকর ফ্রান্স। দু’বছর আগে অবশ্য এই ফরাসি ব্রিগেডকে হারিয়েই ইউরোর ফাইনালের টিকিট নিশ্চিত করেছিল স্পেন। আর সেবার কোয়ার্টার-ফাইনালেও ১১৯ মিনিটে জাল কাঁপিয়েছিল মেরিনো।’