Bartaman Logo
২৭ মে, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

খুনের পর হাওড়ায় এসেছিল ‘সাইকো কিলার’

খুনের পর হাওড়ায় এসেছিল ‘সাইকো কিলার’
  • ১৭ ডিসেম্বর, ২০২৪ ০০:০০
নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: বালির তবলা শিক্ষক সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায়কে কাটিহার এক্সপ্রেসে খুনের পর হাওড়া স্টেশনে এসেছিল অভিযুক্ত রাহুল জাঠ ওরফে ভোলু। এখান থেকে একাধিক ট্রেন পাল্টে পৌঁছেছিল দক্ষিণ ভারতে। রাহুলকে জিজ্ঞাসাবাদ করে এই তথ্য জেনেছে রেল পুলিস। একইসঙ্গে এক প্রত্যক্ষদর্শীর খোঁজও মিলেছে। যিনি ট্রেনে রাহুলের সহযাত্রী ছিলেন, এমনকী সৌমিত্রবাবুকে মৃত অবস্থাতেও দেখেছিলেন। ইতিমধ্যেই আদালতের অনুমতি নিয়ে তদন্তকারীরা অপর একজনকে জেলে নিয়ে যান। তিনি রাহুলকে শনাক্ত করেন (টিআই প্যারেড)। তবে এই সাইকো কিলারের খুনের তালিকায় এই রাজ্যের আর কেউ আছে কি না, তা জানতে তাকে হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করতে চান তদন্তকারীরা।
Advertisement
জেলে গিয়ে রাহুলকে জিজ্ঞাসাবাদ করে তদন্তকারীরা জেনেছেন, সে ভদোদরা থেকে কাটিহারে পৌঁছেছিল। সেখানে কাটিহার এক্সপ্রেসে বিশেষভাবে সক্ষমদের কামরায় উঠে বসে। রাত হতেই সে সৌমিত্রবাবুকে ছুরি দিয়ে কুপিয়ে খুন করে। মোবাইল ও টাকা ভর্তি ব্যাগ নিয়ে পালায়। হাওড়া জিআরপির অফিসাররা কাটিহার এক্সপ্রেস  যে সমস্ত স্টেশনে থামে, সেখানকার সিসি ক্যামেরার ফুটেজ নেন। হাওড়া স্টেশন থেকেও নেওয়া হয় ফুটেজ।  মালদহ স্টেশনে তার ছবি ধরা পড়ে। সেখান থেকে তদন্তকারীরা নিশ্চিত হন, এই স্টেশনে সে নেমেছিল। অফিসাররা জানতে পারেন, খুনের পর সে মালদহ নামে। সেখান থেকে ট্রেন ধরে হাওড়াতে এসে পৌঁছয়। যে কারণে তার ছবি ধরা পড়েছে হাওড়া স্টেশনে। কয়েকশো ফুটেজ দেখে হাওড়া স্টেশনে তার উপস্থিতির প্রমাণ পান তদন্তকারীরা। ধৃত জানায়, স্টেশনেই খাওয়াদাওয়া করে লোকাল ট্রেন ধরে খড়্গপুর আসে। এখানেও ট্রেন থেকে নামা ও স্টেশন চত্বরে ঘুরে বেড়ানোর ছবি ধরা পড়েছে। রাহুল দূরপাল্লার ট্রেনের জন্য অনেকক্ষণ অপেক্ষা করে সেখানে।  এরপর একটি এক্সপ্রেস ধরে বেঙ্গালুরুর দিকে রওনা দেয়। মাঝে অন্য স্টেশনে নেমে সেখান থেকে ম্যাঙ্গালোরগামী ট্রেনের বিশেষভাবে সক্ষমদের কামরায় উঠে এক মহিলাকে শ্বাসরোধ করে খুনের পর জিনিস লুট করে। সেকেন্দ্রাবাদে নেমে যায়।
 তদন্তকারীরা প্রথম থেকেই একজন প্রত্যক্ষদর্শীর খোঁজ করছিলেন। যিনি সৌমিত্রবাবুকে খুন হতে বা বাঙ্কে তাঁর দেহ দেখেছেন। সিসি ক্যামেরার সূত্র ধরে তাঁরা এক যাত্রীকে ওই কামরায় উঠতে দেখেন। প্রযুক্তি কাজে লাগিয়ে তাঁকে  চিহ্নিত করা হয়। ওই ব্যক্তি জানান, তিনি বাঙ্কে সৌমিত্রবাবুর দেহ পড়ে থাকতে দেখেছিলেন। সাইকো কিলারকেও ওই বগিতে দেখেন।
সম্পর্কিত সংবাদ