অধুনা বাংলাদেশের তৃতীয় বৃহত্তম শহর খুলনা। ব্রিটিশ আমলে অবিভক্ত বাংলায় এই শহর হয়ে উঠেছিল ভারতের স্বাধীনতা সংগ্ৰামের অন্যতম ঝটিকা কেন্দ্র। ইংরেজ শাসন বিরোধী আন্দোলন জোরদার করতে এখানে এসেছিলেন নেতাজী সুভাষ চন্দ্র বসুও। এখানকার এক বিপ্লবীর ডাকে একটি বই দোকানের উদ্বোধন করেছিলেন তিনি। দোকানটি এখনও টিকে রয়েছে। তবে বদলেছে নাম ও ব্যবসার ধরন। ১৯৩০ সাল। আইন অমান্য আন্দোলনে উত্তাল সারা দেশ। তার আঁচ পড়ে খুলনাতেও। সংগ্রামে ঝাঁপিয়ে পড়েন এখানকার জমিদার বংশের সন্তান নারায়ণ চট্টোপাধ্যায়। ওই সময় সারা বাংলা ছাত্র আন্দোলনে খুলনা জেলার নেতা ছিলেন তিনি। আইন অমান্য আন্দোলন চলাকালে ব্রিটিশ সরকারের অত্যাচার চরমে ওঠে। গ্রেপ্তার করা হয় নায়ারণকে। দীর্ঘ আট বছর কারান্তরালে ছিলেন তিনি। জেল থেকে বেরোনোর পর খুলনা জেলা কংগ্রেস কমিটির সম্পাদকের দায়িত্বভার দেওয়া হয় তাঁকে। ১৯৩৯ সালে কংগ্রেস ছেড়ে ফরওয়ার্ড ব্লক তৈরি করলেন নেতাজী। নায়ারণও নাম লেখালেন সেই দলে। ব্রিটিশদের চোখে ধুলো দিতে একটি দোকান তৈরির পরিকল্পনা করেন নারায়ণ। ব্যবসার আড়ালে রাজনৈতিক কর্মসূচি এগিয়ে নিয়ে যাওয়াই ছিল মূল উদ্দেশ্য। এজন্য খুলনা শহরের হেলতলা মোড়ে একটি বইয়ের দোকান খুললেন তিনি। নাম ‘চট্টোপাধ্যায় ব্রাদার্স’। তখন নতুন দলের প্রচার ও স্বাধীনতার ভাবধারা ছড়ানোর জন্য সারা বাংলার বিভিন্ন অঞ্চলে ঘুরছেন নেতাজী। সেই সূত্রেই ১৯৩৯ সালের ৩০ ডিসেম্বর বরিশাল হয়ে খুলনায় পৌঁছন তিনি। হাজারো ব্যস্ততার মধ্যেই নারায়ণের দোকান উদ্বোধন করেন সুভাষ চন্দ্র বসু। তারপর কেটে গিয়েছে দীর্ঘ সময়। ভারত স্বাধীন হয়েছে। গঙ্গা-পদ্মার ঘোলা জলে মিশে গিয়েছে দেশভাগের যন্ত্রণা। সময়ের সঙ্গে তাল রাখতে না পেরে একটা সময় বন্ধ হয়ে যায় চট্টোপাধ্যায় ব্রাদার্স। তবে দোকান ভাঙা হয়নি। আজ সেখানে রমরমিয়ে চলছে ফাতিমা জুয়েলার্সের ব্যবসা। কালের নিয়মে দোকানের নাম ও ব্যবসা বদলালেও সেখানে নেতাজীর স্মৃতি এখনও অমলিন।



