Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

খড়্গপুরে রেলের জমিতে উচ্ছেদ নোটিস, ক্ষোভ  

খড়্গপুরে রেলের জমিতে উচ্ছেদ নোটিস, ক্ষোভ
 
  • ৮ ফেব্রুয়ারি, ২০২৫ ০০:০০
Prefer us on Google
সংবাদদাতা, মেদিনীপুর: খড়্গপুর শহরের দরবেশচক ও রাঘবপুর এলাকায় বাসিন্দাদের উঠে যাওয়ার জন্য নোটিস দিয়েছে রেল। তার প্রতিবাদে শুক্রবার ডিআরএম অফিসের সামনে বিক্ষোভ দেখান বাসিন্দারা। দেওয়া হয় ডেপুটেশনও। ‘রেলওয়ে বস্তি সংগ্রাম কমিটি’-র ব্যানারে বিক্ষোভকারীদের পক্ষে বিপ্লব ভট্ট বলেন, এই এলাকায় প্রায় এক হাজার পরিবার স্বাধীনতার আগে থেকে বসবাস করছে। তাঁর দাবি, জমিটি রেলের নয়। খাস জমি। তিনি বলেন, রেল নোটিস দিয়ে পনেরো দিনের মধ্যে উঠে যেতে বলেছে। ফলে বাসিন্দাদের মধ্যে আতঙ্ক দেখা দিয়েছে। বাসিন্দাদের মধ্যে বেশ কয়েক জন মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষার্থী আছে। তারাও উদ্বেগের মধ্যে দিন কাটাচ্ছে। আমরা রেল কর্তৃপক্ষকে বলেছি, রেল, রাজ্য সরকার ও বাসিন্দাদের নিয়ে ত্রিপাক্ষিক বৈঠক হোক।  
Advertisement
এদিকে বালিচকে প্রায় ১৫টি পরিবারকে রেলের জায়গা খালি করে দেওয়ার নোটিস দেওয়া হয়েছে। বৃহস্পতিরবার বাড়িতে বাড়িতে নোটিস সেঁটে দিয়ে গিয়েছে রেল। বাসিন্দাদের জানিয়ে দেওয়া হয়েছে, সাত দিনের মধ্যে জায়গা খালি করে না দিলে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। নোটিস পেয়ে পরিবারগুলির মাথায় হাত পড়েছে। এই কম সময়ের মধ্যে কোথায় যাবেন তাঁরা, সেই প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। বাসিন্দারা স্থানীয় পঞ্চায়েত ও শাসকদলের দ্বারস্থ হয়েছেন। রেলের এক আধিকারিক বলেন, দক্ষিণ-পূর্ব রেলের হাওড়া-খড়্গপুর শাখার বালিচক স্টেশনের কাছে রেলের জমিতে পাওয়ার হাউস হবে। তার জন্য রেল বোর্ডের অনুমোদন মিলেছে। খুব শীঘ্রই কাজ শুরু হবে। এলাকা পরিদর্শন করতে গিয়ে দেখা যায়, রেলের ওই জমিতে বেআইনি নির্মাণ হয়েছে। তাদেরই নোটিস দেওয়া হয়েছে। 
জানা গিয়েছে, ডুঁয়া ২ পঞ্চায়েত এলাকার ভোগপুর ও জলিবান্দা পঞ্চায়েত এলাকার রঘুনাথপুর গ্রামে এই নোটিস দেওয়া হয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দা নমিতা রানি সিংহ বলেন, বালিচক আরপিএফ অফিস থেকে দু’জন ও খড়্গপুর থেকে দু’জন এসেছিলেন। তাঁরা নোটিস দিয়ে বলে যান, সাত দিনের মধ্যে উঠে যেতে হবে। নয়তো উচ্ছেদ করা হবে। তিনি বলেন, এত কম সময়ের মধ্যে আমরা কোথায় যাব। আমাদের কিছুদিন সময় দেওয়া হোক। বিষয়টি আমরা স্থানীয় পঞ্চায়েত ও তৃণমূল ব্লক সভাপতিকে জানিয়েছি। আর এক বাসিন্দা সরস্বতী উদগিরি বলেন, আমরা এখানে পঞ্চাশ বছর ধরে বসবাস করছি। ছিটে বেড়ার ঘর করে থাকি। হঠাৎ নোটিস দিয়ে গেল। আমরা এখন কোথায় যাব। আমরা রাজ্য সরকারকে বলব আমাদের জমি দেওয়া হোক। তৃণমূলের ব্লক সভাপতি প্রদীপ সরকার বলেন, বাসিন্দারা স্থানীয় পঞ্চায়েতকে জানিয়েছেন। প্রধানদের নিয়ে আমরা বৈঠক করেছি। রেলের সঙ্গে কথা বলব। তারা যাতে সহানুভূতির সঙ্গে বিষয়টি দেখে, তার জন্য রেল কর্তৃপক্ষের কাছে দরবার করা হবে।
Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ