Bartaman Logo
২৮ জুলাই, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

খাবারের দোকানে মানা হচ্ছে না স্বাস্থ্যবিধি, দুই স্বাস্থ্য জেলায় অভিযানে ভ্রাম্যমাণ খাদ্য পরীক্ষাগার

খাদ্য সুরক্ষায় অভিনব পদক্ষেপ নিল স্বাস্থ্য ও খাদ্য সুরক্ষা দপ্তর। এবার থেকে বাজারে খাদ্য সামগ্রী, সব্জি ও ফলের গুণগত মান নিয়ে প্রশ্ন উঠলে তা যাচাই করার জন্য দীর্ঘ অপেক্ষার দিন শেষ। ‌এখন তৎক্ষণাৎ পরীক্ষা করেই গুণমানের ফলাফল জানা যাবে।

খাবারের দোকানে মানা হচ্ছে না স্বাস্থ্যবিধি, দুই স্বাস্থ্য জেলায় অভিযানে ভ্রাম্যমাণ খাদ্য পরীক্ষাগার
  • ২৩ জানুয়ারি, ২০২৫ ০০:০০
Prefer us on Google
সংবাদদাতা, বোলপুর: খাদ্য সুরক্ষায় অভিনব পদক্ষেপ নিল স্বাস্থ্য ও খাদ্য সুরক্ষা দপ্তর। এবার থেকে বাজারে খাদ্য সামগ্রী, সব্জি ও ফলের গুণগত মান নিয়ে প্রশ্ন উঠলে তা যাচাই করার জন্য দীর্ঘ অপেক্ষার দিন শেষ। ‌এখন তৎক্ষণাৎ পরীক্ষা করেই গুণমানের ফলাফল জানা যাবে। তার জন্য বীরভূমের দুই স্বাস্থ্য জেলা পেল ভ্রাম্যমাণ খাদ্য পরীক্ষাগার যান। এই যানের মাধ্যমে খাদ্যের নমুনা দ্রুত পরীক্ষা করে ফলাফল জানা যাবে। অভিযোগ উঠলে, অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে পারবে খাদ্য সুরক্ষা ও স্বাস্থ্য দপ্তর। এই যান এবার থেকে নিয়মিত অভিযান চালাবে বলে জানিয়েছেন মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিক হিমাদ্রি আড়ি। স্বাস্থ্যদপ্তরের এই পদক্ষেপে খুশি এলাকাবাসী। 
Advertisement
পথচলতি জীবনে সাধারণ মানুষ দোকান, হোটেল, রেস্তরাঁ প্রভৃতি জায়গায় মাঝেমধ্যেই খেয়ে থাকেন। সব্জি, ফলমূল কেনাও দৈনন্দিন জীবনের অঙ্গ।‌ এই সুযোগকেই কাজে লাগায় অসাধু ব্যবসায়ীরা। ‌ফলমূল ও সব্জিকে তরতাজা দেখাতে কৃত্রিম রং, মোম প্রভৃতি মেশানো হয়। সেসব খেয়ে দুরারোগ্য রোগে আক্রান্ত হন সাধারণ মানুষ। হোটেল, রেস্তরাঁয় বাসি খাবারও অবলীলায় ক্রেতাদের বিক্রি করা হয়। তাতে অনেকেই অসুস্থ হয়ে পড়েন। সম্প্রতি বোলপুরের অভিজাত এক মিষ্টির দোকানে দইবড়া খেয়ে অনেকেই গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েছিলেন। ‌সেই তালিকায় ছিলেন খোদ ফুড সেফটি অফিসার। এমনকী, মেলা ও উৎসবে অনেকে বাসি খাবার বিক্রি করেন। তাই অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে এবার তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা শুরু করল খাদ্য সুরক্ষা দপ্তর। অভিযান আগেও চালানো হতো। সন্দেহজনক দোকানগুলিতে খাবারের নমুনা সংগ্রহ করার পর সেগুলি রাজ্যের বিভিন্ন ল্যাবরেটরিতে টেস্টের জন্য পাঠানো হতো। ফলাফল ১৪ দিনে জানা যেত। এর ফলে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে সংশ্লিষ্ট দপ্তরের অনেক সময় যেত। কিন্তু এখন থেকে অপেক্ষার দিন শেষ। কারণ, বীরভূমের দু’টি স্বাস্থ্য জেলা বীরভূম ও রামপুরহাটকে একটি করে ভ্রাম্যমাণ খাদ্য পরীক্ষাগার যান দিয়েছে স্বাস্থ্য দপ্তর। সেখানে অত্যাধুনিক পদ্ধতিতে খাদ্যের গুণমান তৎক্ষণাৎ জানা যাবে। ৫১ লক্ষ টাকা খরচে এই যান তৈরি করা হয়েছে। সেখানে রয়েছে রিফ্রাক্টোমিটার, যা ঠান্ডা পানীয়তে চিনির পরিমাণ জানাবে। এছাড়া দুধে জলের পরিমাণ জানতেও এই যন্ত্র ব্যবহার করা হবে।‌ পানীয় জল পরীক্ষার জন্য রয়েছে পিএইচ মিটার। দুধের গুণগত মান নির্ণয়ের জন্য রয়েছে ল্যাক্টোমিটার। হোটেল ও রেস্তরাঁর তেল যাচাই করার জন্য রয়েছে ফ্রাইং অয়েল মনিটর। পাশাপাশি, লামিনার এয়ার ফ্লোর সেকশন যন্ত্রের মাধ্যমে মাইক্রো বায়োলজি টেস্ট করা হয় বা খাবারের মধ্যে জীবাণুর উপস্থিতি জানা যাবে। এছাড়া, ফুড সেফটি ম্যাজিক বক্স টুলস ও কেমিক্যাল রাখারও ব্যবস্থা রয়েছে। দপ্তরের এই যান পেতেই সোমবার থেকেই বিভিন্ন জায়গায় অভিযান শুরু করেছেন আধিকারিকরা। নেতৃত্বে ছিলেন ফুড সেফটি অফিসার সঞ্জুয়ারা খাতুন। এছাড়াও মহম্মদবাজার ও সাঁইথিয়ার ফুড সেফটি অফিসার শেখ হানিফুল ও রণিত সরকার ওই দলে ছিলেন। বোলপুরের বিভিন্ন প্রান্তে তারা ফল ও সব্জির দোকানে অভিযান চালান।
Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ