


শ্রীনগর, ৩ মার্চ: আয়াতোল্লা খামেনেইয়ের মৃত্যু সংবাদে ফুঁসছে কাশ্মীর উপত্যকা। লাল চক, সইদা কাদাল, বদগাঁও, বান্দিপোরা, অনন্তনাগ এবং পুলওয়ামায় গতকাল রাস্তায় নেমে বিক্ষোভ করতে দেখা যায় বহু শিয়া মুসলিমকে। বিক্ষোভে শামিল হয়েছিলেন মহিলারাও। কারও হাতে খামেনেইয়ের ছবি। আবার কেউ কেউ হাতে লাল-কালো পতাকা নিয়ে বিক্ষোভে সামিল হন। শ্রীনগরের সোনওয়ার এলাকায় রাষ্ট্রসংঘের দপ্তরের সামনে বিপুল সংখ্যক মানুষ জড়ো হয়ে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, ইজরায়েলের বিরুদ্ধে স্লোগান তোলেন। বিক্ষোভকারীরা ইউএন দপ্তরে স্মারকলিপি জমা দেওয়ার চেষ্টা করলেও পুলিশ ও সিআরপিএফের ঘেরাটোপে তা সম্ভব হয়নি। কয়েক ঘণ্টা ধরে চলে অবস্থান বিক্ষোভ। অবরোধ করা হয় রাস্তা।
যদিও বিক্ষোভ শান্তিপূর্ণ রাখার আবেদন জানিয়েছিলেন জম্মু ও কাশ্মীরের মুখ্যমন্ত্রী ওমর আবুদল্লা। আজ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে প্রশাসনের তরফে একাধিক পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। শ্রীনগরসহ একাধিক এলাকায় কড়া বিধিনিষেধ জারি করা হয়েছে।
সম্পূর্ণভাবে ঘিরে ফেলা হয়েছে বিক্ষোভের মূল কেন্দ্রবিন্দু লাল চক । মোবাইল ইন্টারনেট পরিষেবা সীমিত করা হয়েছে এবং কাশ্মীরজুড়ে সমস্ত স্কুল কলেজ দু’দিনের জন্য বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। সোমবার বিভিন্ন ধর্মীয় ও সামাজিক সংগঠনও বন্ধের ডাক দেওয়া হয়েছে। বিক্ষোভস্থলগুলিতে কড়া পুলিশ ও আধাসামরিক বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে। জম্মু ও কাশ্মীর পুলিশের ডিরেক্টর জেনারেল সহ শীর্ষ আধিকারিকরা নিজে উপস্থিত থেকে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করেছেন।
প্রসঙ্গত, শুধুমাত্র কাশ্মীর নয়, বিক্ষোভ দেখা গিয়েছে উত্তরপ্রদেশেও। রবিবার লখনউয়ের ইমামবাড়ার সামনে হাজারো মানুষের জমায়েত দেখা যায়। এমনকি অনেক মহিলাকে হাতে খামেনেইয়ের ছবি নিয়ে আবেগঘন অবস্থায় কাঁদতেও দেখা যায়। পাঞ্জাবের লুধিয়ানাতেও একই চিত্র। ইমাম উসমান রহমানি লুধিনাভির নেতৃত্বে একটি মিছিল বের হয়। খামেনেইয়ের মৃত্যুতে কেন্দ্রের কাছে তিন দিনের রাষ্ট্রীয় শোক ঘোষণার দাবিও জানিয়েছেন তিনি।