ভারত- ১ : ওমান-১
(উদান্তা) (জামিল)
টাই-ব্রেকারে ৩-২ ব্যবধানে জয়ী ভারত
ভারত- ১ : ওমান-১
(উদান্তা) (জামিল)
টাই-ব্রেকারে ৩-২ ব্যবধানে জয়ী ভারত
হিসর: তাজিকিস্তানের সেন্ট্রাল স্টেডিয়াম জুড়ে তিরতিরে টেনশন। টাই-ব্রেকার চলছে। হৃৎপিণ্ডের ধকধকানি স্পষ্ট। ওমানের জামিলের শট গুরপ্রীত রুখতেই পাগলের মতো দৌড় শুরু ছাংতে, আনোয়ার, ভেকেদের। ওমানকে (৭৯) বশ মানিয়ে কাফা নেশনস কাপে তৃতীয় স্থান ছিনিয়ে নিল খালিদ জামিলের ভারত (১৩৩)। সবচেয়ে বড় কথা, এই প্রথম ওমানকে হারাল ব্লু টাইগার্স। ৫৪ ধাপ এগিয়ে থাকা দলের বিরুদ্ধে গুরপ্রীতদের ব্রোঞ্জজয়ের লড়াই লেখা থাকবে ইতিহাসের পাতায়। দেওয়ালে পিঠ ঠেকে যাওয়া ভারতীয় ফুটবলকে গর্বিত করল ব্লু টাইগার্স। কোমায় ধুঁকতে থাকা ফুটবলে এই জয় এক আকাশ অক্সিজেন। পাশাপাশি ইরানকে ১-০ গোলে হারিয়ে টুর্নামেন্ট জিতে নিল উজবেকিস্তান।
ওমানের ফিফা র্যাঙ্কিং ৭৯। এদিন প্রবল প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে পছন্দের আল্ট্রা-ডিফেন্সিভ ফর্মেশনেই দল সাজান খালিদ। চোটের কারণে সন্দেশ ঝিংগান নেই। তাই আফগানিস্তান ম্যাচের মতোই আনোয়ারের সঙ্গে জুটি বাঁধেন রাহুল ভেকে। আগের চেয়ে শ্লথ হলেও অভিজ্ঞতায় কাজ চালাচ্ছেন ভেকে। মাঝমাঠে ডাবল পিভটের ভূমিকায় দানিশ ফারুখ ও নিখিল প্রভু। বল ফিডিংয়ের দায়িত্বে নাওরেম মহেশ ও ছাংতে। এদিন বিক্রম প্রতাপের সঙ্গে ক্রমাগত শাফল করে প্রতিপক্ষকে বিব্রত করলেন ছাংতে। ১৫ মিনিটে প্রথম সুযোগ পায় খালিদ ব্রিগেডই। এক্ষেত্রে উভেসের লম্বা থ্রো ছোঁ মেরে হেড করেছিলেন আনোয়ার। কোনওরকমে ক্লিয়ার করে ওমান রক্ষণ। ২৬ মিনিটে সহজতম সুযোগ মিস ওমানের। এক্ষেত্রে গতিতে রাহুল ভেকেকে টপকে যান নাসের সুলতান। বিভ্রান্ত গুরপ্রীতও থমকে গিয়েছিলেন। কিন্তু নাসেরের প্লেসিং বাইরে যায়। বিরতির আগে ছাংতের মাইনাস থেকে জাল কাঁপাতে ব্যর্থ হন ইরফান। সিঙ্গল স্ট্রাইকারের ভূমিকায় একেবারেই দাগ কাটতে পারছেন না চেন্নাইয়ান এফসি’র এই ফুটবলার।
শুধু রক্ষণ জমাট করে ম্যাচ বাঁচানো অসম্ভব। বিশেষ করে দানিশ ও নিখিল প্রভু দক্ষ ট্যাকলার। কিন্তু ডিস্ট্রিবিউশন শূন্য। বড় চেহারার ওমান ফুটবলারদের সঙ্গে এঁটে উঠতে পারছিলেন না মহেশ। তাই খালিদকে পরিকল্পনা বদলাতেই হতো। গতি বাড়াতে বিক্রম প্রতাপের বদলে জিতিন এমএসকে নামান ভারতীয় কোচ। অন্যদিকে, আক্রমণের ধার বাড়াতে তুরুপের তাস জামিল সালিমকে ব্যবহার করেন ওমান কোচ কার্লোস কুইরোজ। ডেডলক ভাঙলেন সেই জামিলই। ৫৫ মিনিটে ছোট্টা চাঁটায় গুরপ্রীতকে হার মানান তিনি (১-০)। এক্ষেত্রে দায় এড়াতে পারেন না উভেসও। দুর্বল আক্রমণ নিয়ে ওমান দুর্গে ফাটল ধরানো কঠিন। খালিদের ডাগ-আউটের শক্তিও সীমিত। তবু লড়তে জানেন তিনি। অতীতে বহুবার বড় দলের মুখের গ্রাস কেড়ে নিয়েছেন খালিদও। তাজা ঘোড়া রোশান ও উদান্তা মাঠে আসতেই প্রাণ পেল ভারত। ৮০ মিনিটে রাহুল ভেকের লম্বা থ্রো থেকে চিলের মতো ছোঁ মেরে জাল কাঁপান সেই উদান্তা (১-১)। তবে ৯৭ মিনিটে লাল কার্ড দেখেন ওমানের আল গুসাইতি।
টাই-ব্রেকারে পরের পর নাটকীয় মুহূর্ত। আনোয়ার ও উদান্তা গোল করতে ব্যর্থ হলেও জাল কাঁপান ছাংতে, ভেকে ও জিতিন। শেষপর্যন্ত জামিলের স্পটকিক রুখে ভারতের ত্রাতা হলেন সেই গুরপ্রীত। কাফা নেশনস কাপে ভারতের ব্রোঞ্জজয়ের মতো তাঁরও প্রত্যাবর্তনের মাইলস্টোন হয়ে রইল। ম্যাচের পরেই উচ্ছ্বাস শুরু ফুটবল মহলে। ইস্ট বেঙ্গলের তরফে অভিনন্দন বার্তা পাঠানো হয় ফেডারেশনের কাছে। শীর্ষকর্তা দেবব্রত সরকারের মন্তব্য, ‘খালিদের হাত ধরে নতুন দল আরও এগিয়ে চলুক। পাশাপাশি সঞ্জয় সেনকেও এবার কাজে লাগানোর কথা ভাবুক ফেডারেশন।’
ভারত: গুরপ্রীত, ভালপুইয়া, ভেকে, আনোয়ার, উভেস (রোশান), নিখিল (সুরেশ), দানিশ, নাওরেম মহেশ (মনবীর), ছাংতে, বিক্রম প্রতাপ (জিতিন) ও ইরফান (উদান্তা)।