Bartaman Logo
২৭ মে, ২০২৬
বর্তমান / ব্ল্যাকবোর্ড

খাঁ পীরের মেলা

খাঁ পীরের মেলা
  • ২০ জানুয়ারি, ২০২৫ ০০:০০
শীতের মিঠে রোদ গায়ে মেখে মেলায় ঘুরতে কার না ভালো লাগে। তার সঙ্গে যদি মেলে হাতে গরম আলুর দম! রসনা তৃপ্তির এমন বাড়তি আমেজই উদয়নায়ারণপুরের সিংটি গ্রামের মেলার অন্যতম আকর্ষণ। প্রতি বছর মাঘ মাসের প্রথম দিন হাওড়া জেলার এই গ্রামে বসে খাঁ পীরের মেলা। হিন্দু-মুসলিম উভয় সম্প্রদায়ের যোগদানে মেলা হয়ে ওঠে মিলন তীর্থভূমি। প্রাচীন এই মেলায় গ্রামবাসীরা নিয়ে আসেন মুড়ি ও নুতন আলু। কেউ কেউ বাড়ি থেকেই আলুর দম তৈরি করে আনেন।  আবার অনেকেই মেলার মাঠে বসে রাঁধেন। দাম প্রতি কেজি পঁচিশ থেকে ত্রিশ টাকা। শুধু কি আলুর দম! সেইসঙ্গে থাকে কাঁকড়াও। এজন্য তা কাঁকড়া মেলা নামেও লোকমুখে পরিচিত।  
Advertisement
ক্যানিং, হাসনাবাদ থেকেও এখানে কাঁকড়া বিক্রেতারা আসেন। বছরের বিশেষ দিনটিতে আলুর দমের পাশাপাশি কাঁকড়া কিনতেও দূর-দূরান্ত থেকে অনেকেই আসেন সিংটিতে। কথিত আছে, আনুমানিক ৭০০ বছর আগে আরব দেশ থেকে ইসলাম ধর্ম প্রচারের জন্য  সিংটি গ্ৰামে এসেছিলেন এক মুসলমান পীর। তিনি গ্ৰামের একপ্রান্তে বসবাস শুরু করেন। তাঁর আসল নাম কেউই জানত না। শিশুদের অত্যন্ত স্নেহ করতেন তিনি। ছোটদের কাছে তিনি ‘ভাই খাঁ’ নামে পরিচিত হয়ে উঠেছিলেন। ভাই খাঁ অলৌকিক ক্ষমতার অধিকারী ছিলেন বলে লোকশ্রুতি। তাই সবাই তাঁকে অত্যন্ত শ্রদ্ধা করত। তিনিই পরে ‘ভাই খাঁ পীর’ নামে পরিচিত হয়ে ওঠেন। ৩০ পৌষ ভাই খাঁ পীরের মৃত্যু হয়। পরদিন তাঁকে সমাধিস্থ করা হয়েছিল। তাঁর শেষকৃত্য অনুষ্ঠানে লক্ষাধিক মানুষ উপস্থিত হয়েছিলেন। সেটি ছিল মাঘ মাসের প্রথম দিন। ওইদিন বহু মানুষের সমাগমে গ্রামে নাকি একটা মেলাই বসে গিয়েছিল। তখন থেকেই প্রত্যেক বছর ওই দিনটিতে ভাই খাঁ পীরের নামে মেলা বসে। এই মেলা মাত্র একদিনের। চলে সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত।
সম্পর্কিত সংবাদ