মুম্বই: ভোটের প্রচারে ফের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির নিশানায় গান্ধী পরিবার। তাঁর অভিযোগ, কংগ্রেসকে নিয়ন্ত্রণ করছে ‘শাহি পরিবার’। তারা কখনও দলিত, ওবিসি, আদিবাসীদের উন্নয়ন চায়নি। তাই স্বাধীনতার পর থেকে সমাজের ওই অংশ বঞ্চিতই রয়ে গিয়েছে। মঙ্গলবার মহারাষ্ট্রের চন্দ্রপুর জেলার চিমুরে জনসভা করেন প্রধানমন্ত্রী। সেখানে কংগ্রেসকে সংরক্ষণ বিরোধী বলেও তোপ দেগেছেন বিজেপির এই তারকা প্রচারক। এব্যাপারে প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী প্রয়াত রাজীব গান্ধীর আমলে কংগ্রেসের একটি বিজ্ঞাপনের প্রসঙ্গ তুলে ধরেন মোদি। তিনি বলেন, আশির দশকে যখন রাজীব গান্ধী যখন কংগ্রেসের নেতৃত্ব, তখন একটি বিজ্ঞাপন প্রকাশিত হয়। সেখানে দলিত, অনগ্রসর ও আদিবাসীদের বিশেষ অধিকার নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়েছিল।’ এই বিজ্ঞাপনটি এখন সোশ্যাল মিডিয়ায় ঘুরে বেড়াচ্ছে বলে প্রধানমন্ত্রী দাবি করেছেন। উল্লেখ্য, রাহুল গান্ধী জাতিভিত্তিক জনগণনার দাবিতে ধারাবাহিকভাবে সরব। এর ভিত্তিতে সংরক্ষণে ৫০ শতাংশ ঊর্ধ্বসীমা তুলে দেওয়ার পক্ষেও সওয়াল করছেন। এই পরিস্থিতিতে পাল্টা প্রধানমন্ত্রী কংগ্রেসকে সংরক্ষণ বিরোধী বলে আক্রমণ করেছেন।
Advertisement
মোদি এদিন অভিযোগ করেছেন, কংগ্রেস আদিবাসীদের মধ্যে বিভাজনের চেষ্টা করছে। তিনি বলেন, ‘কংগ্রেস সর্বদা আপনাদের ঐক্য ভাঙতে চায়। আর তা হলে আদিবাসী সমাজ তার শক্তি ও অস্তিত্ব হারাবে।’ কিছুদিন আগে আমেরিকা সফরে গিয়ে ভারতে শিখদের ধর্মাচরণের স্বাধীনতা নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেছিলেন বিরোধী দলনেতা রাহুল। সেইসঙ্গে সংরক্ষণ নিয়ে তাঁর একটি মন্তব্য বিজেপির ব্যাপক আক্রমণের মুখে পড়েছিল। এদিন সেই প্রসঙ্গে ফের তোলেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘কংগ্রেসের যুবরাজ বিদেশে গিয়ে দেশের ঐক্য বিনষ্ট করার চেষ্টা করেছিলেন। তাই আমাদের কংগ্রেসের ষড়যন্ত্রে শামিল হলে চলবে না। আমাদের একতা রক্ষা করতে হবে। এক না হলে কংগ্রেস আমাদের সংরক্ষণ ব্যবস্থা ছিনতাই করে নেবে।’ মহারাষ্ট্রে এবার বিজেপি নেতৃত্বাধীন মহাযুতির লড়াই কংগ্রেসের মহাবিকাশ আঘাড়ি জোটের বিরুদ্ধে। প্রধানমমন্ত্রী বলেন, ‘আঘাড়ি মানেই দুর্নীতি। আঘাড়ি মানেই দুর্নীতির সবচেয়ে বড় খেলোয়াড়।’ মহাযুতি সরকারই রাজ্যের উন্নয়ন সচল রাখবে।



