অগ্নিভ ভৌমিক, কৃষ্ণনগর: কর্ণাটকের কলার গোল্ড ফিল্ড নিয়ে তৈরি সিনেমা কেজিএফ। রকি ভাইয়ের আঙ্গুলিহেলনে দেশ-বিদেশে অবৈধ সোনার বিস্কুটের ব্যবসা করে নিজের সাম্রাজ্য গড়ে তুলেছিল। এবার সিনেমার সেই কেজিএফের হদিশ মিলেছে সাইবার প্রতারণাতেও। কলকাতা থেকে প্রতারণা চক্রের দুই পাণ্ডা, সোমানাথ বাউর আর মেটিয়াবুরুজের জিতুকে অ্যারেস্ট করতেই, এই কেজিএফের কথা জানতে পেরেছে গোয়েন্দারা। যার ভালো নাম ইফতিখার। ঝাড়খণ্ডের জামতারা গ্যাংয়ের সঙ্গে তাঁর ভালো যোগাযোগ রয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে রাজ্য থেকে বিপুল পরিমাণ ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট ও এটিএম সেখানে পাচার করে এসেছে এই কেজিএফ। যদিও পশ্চিমবঙ্গ সাইবার শাখা ইতিমধ্যেই তাকে গ্রেপ্তার করেছে। এদিকে সোমানাথ বাউর আর মেটিয়াবুরুজের জিতুকে সাইবার থানার পুলিশ গত সপ্তাহের গ্রেপ্তার করেছে। যাকে প্রতারণা চক্রের চেইন ব্রেক করার ক্ষেত্রে কৃষ্ণনগর পুলিশ জেলার সাইবার থানার বড়ো সাফল্য বলেই মনে করছে পুলিশ মহল।
দেশজুড়ে ১ লক্ষ ৭২ হাজার অ্যাকাউন্টে ক্রেডিট হওয়া চলতি বছরে সাইবার প্রতারণার ৬৭৫ কোটি টাকার তদন্তে নেমে নদীয়া জেলায় কৃষ্ণনগর পুলিশ জেলায় ৬০০টি ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টের হদিশ পাওয়া গিয়েছে। সেইমতো জেলাজুড়েই লাগাতার ধরপাকড় চালাচ্ছে পুলিশ। ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টের সূত্র ধরে বিভিন্ন থানায় চক্রের সদস্যদের গ্রেপ্তার করা হচ্ছে। যার মধ্যে সাইবার থানাতেই দুই মামলায় প্রায় ১১৫টি ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টের তালিকা তৈরি করে তদন্ত চলছে। সেই সূত্র ধরেই কয়েক সপ্তাহ আগেই নাকাশিপাড়া থানা এলাকা ছেড়ে তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে সাইবার থানার পুলিশ। যাদের মধ্যে ছিল আশিস মজুমদার নামে এক ব্যক্তি। সরকারি প্রকল্পের টাকা ঢুকবে, এই প্রলোভনে গ্রামের মানুষকে ফুঁসলিয়ে ব্যাঙ্কের বই আর এটিএম ভাড়া নেওয়া শুরু করে সে।
হেফাজতে নিয়ে আশিসকে জিজ্ঞাসাবাদ করে গোয়েন্দারা জানতে পারে যে ব্যাঙ্কের বই আর এটিএম সে কলকাতায় পাঠাত। সেই মতো তাঁদের ধরতে পুলিশ আশিসকে দিয়েই সোমনাথকে টোপ দেয়। টালিগঞ্জে গিয়ে আশিস, সোমনাথকে ফোন করে জানায়, সে কিছু ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট আর এটিএম কার্ড নিয়ে এসেছে। আশিসের সঙ্গে দেখা করতেই সোমনাথকে পুলিশ পাকড়াও করে। তারপর সোমনাথ প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে পুলিশকে জানায়, সে ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট আর কার্ডগুলো মেটিয়াবুরুজের জিতুকে দেয়। সেইমতো সোমনাথের মাধ্যমে জিতুকে টোপ দিয়ে ধর্মতলায় আনা হয়। ব্যাঙ্কের বই আর কার্ড হস্তান্তরের সময়েই হাতেনাতে জিতুকে পাকড়াও করে কৃষ্ণনগর পুলিশ জেলার সাইবার থানার গোয়েন্দারা। এইভাবেই রীতিমতো ফিল্মি কায়দায় গত সপ্তাহতেই চক্রের দুই পাণ্ডাকে সাইবার থানার গোয়েন্দারা গ্রেপ্তার করে।
কিন্তু জিতুকে কাকে সেই ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট আর এটিএম কার্ড সরবরাহ করত, তা তখনও পর্যন্ত পুলিশ জানতে পারেনি। সেই মতো জিতুকে জিজ্ঞাসাবাদ করে চক্রের মাথার কাছে পৌঁছানোর চেষ্টা করতেই, ‘কেজিএফে’র কথা প্রথমবার জানতে পারে সাইবার থানার গোয়েন্দারা। এই কেজিএফ অর্থাৎ ইফতিকারের বাড়ি পার্ক সার্কাসের তপসিয়ার কাছে। দীর্ঘ সময় ধরেই রাজ্যেই বিভিন্ন প্রান্তে ব্যাঙ্কের বই আর এটিএম কার্ড সংগ্রহকারীদের নিয়ে সিনেমার রকি ভাইয়ের মতোই সাম্রাজ্য গড়ে তুলেছিল সে।
যদিও পশ্চিমবঙ্গ সাইবার শাখার জালে ইতিমধ্যেই সেই কেজিএফ ধরা পড়েছে। পুলিশের দাবি, এই ইফতিখার রাজ্যের বিভিন্ন জায়গা থেকে ব্যাঙ্কের বই আর এটিএম কার্ড সংগ্রহ করে জামতাড়ায় পাঠাতো।