Bartaman Logo
১৮ জুলাই, ২০২৬

ওয়াংচুককে সমর্থন জানালেন কেন-বেতওয়ার অনশনকারী, আমাদের লড়াই একই, মন্তব্য অমিত ভাটনাগরের

মধ্যপ্রদেশের ছাতারপুরে অনশনে অমিত ভাটনাগর ওয়াংচুকের সমর্থন জানালেন। ক্ষতিগ্রস্তদের অধিকার রক্ষার লড়াই চলছে। বিস্তারিত পড়ুন।

ওয়াংচুককে সমর্থন জানালেন কেন-বেতওয়ার অনশনকারী, আমাদের লড়াই একই, মন্তব্য অমিত ভাটনাগরের
  • ১৮ জুলাই, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

ভোপাল: থরে থরে সাজানো কাঠ। ‘চিতা আন্দোলনে’ শামিল গ্রামের মহিলারা। নদীর জলে কাঠ দিয়ে তৈরি শয্যায় প্রতীকী মৃতদেহ সেজে ভাসছেন পুরুষরা। মাটি ও জল সত্যাগ্রহ পেরিয়ে শুরু হয়েছে আমরণ অনশনও। মধ্যপ্রদেশের ছাতারপুর জেলায় গান্ধী মতাদর্শে আন্দোলনে শামিল আদিবাসী জনতা। কেন-বেতওয়া নদী সংযোগ প্রকল্পে ক্ষতিগ্রস্ত এই মানুষগুলির দাবিদাওয়ার সমর্থনে অনশনে বসেছেন সমাজকর্মী অমিত ভাটনাগর। তাঁর এই অনশন কর্মসূচি শুক্রবার ১৬তম দিনে পড়েছে। ছাতারপুরের এই প্রতিবাদ স্থল থেকেই এদিন ভাটনাগর সমর্থন জানালেন ৬৪০ কিমোলিটার দূরে দিল্লিতে চলা সোনাম ওয়াংচুকের অনশন কর্মসূচিকে। সোনামের অনশন ২০তম দিনে পড়েছে। তাঁর পাশে দাঁড়িয়ে অনশনরত ভাটনাগর এদিন বলেন, ‘আমাদের লড়াই একই। আমরা সোনামের পাশে আছি।’

Advertisement

‘চিতা আন্দোলন’ থেকে স্লোগান দেওয়া হচ্ছে, ‘সুবিচার দাও, নাহলে মেরে ফেল।’ ভাটনাগর বলছেন, ভেঙে চুরমার হয়ে পড়া সিস্টেমের বিরুদ্ধে মানুষের অধিকার রক্ষার লড়াই এটা। খ্যাতনামা বিজ্ঞানী তথা গঙ্গা নদী সংরক্ষণকর্মী জি ডি আগরওয়ালকে দীর্ঘ অনশনে প্রাণ দিতে হয়েছে। দেশকে যেন সোনাম ওয়াংচুকের মতো আরও এক পরিবেশকর্মীকে হারাতে না হয়। ওয়াংচুকের প্রাণরক্ষা করা সরকারের দায়িত্ব। শান্তিপূর্ণভাবে প্রতিবাদকারীরা যেসব উদ্বেগের কথা বলছেন, সেগুলির সমাধানের দায় ক্ষমতাসীনদের নিতে হবে।
ক্ষতিগ্রস্তদের দাবিদাওয়া পূরণে সরকারের প্রতিশ্রুতিতে ভরসা রেখে এর আগে এপ্রিল মাসে প্রতিবাদ কর্মসূচি স্থগিত করেছিল ভাটনাগরের জয় কিষান সংগঠন। কিন্তু সরকার কথা রাখেনি, এই অভিযোগে চলতি মাস থেকে ফের শুরু হয়েছে আন্দোনল। বারানা নদীর কাছে ফের চিতা সাজিয়ে বসে পড়েছেন আদিবাসী মহিলারা। ভাটনাগরের অভিযোগ, আন্দোলন স্থগিত করার পরই ভুয়ো মামলায় আমাদের জেলে ভরেছিল। জামিনে মুক্তি পাওয়ার পর ২৫০ জন আন্দোলনকারীর উপর নতুন আরও ভুয়ো মামলা হয়েছে। আইনকে নির্লজ্জভাবে লঙ্ঘন করে প্রকল্প-প্রভাবিত গ্রামগুলিতে কোনো গ্রামসভা অনুষ্ঠিত হয়নি। স্থানীয় মানুষের সম্মতিও নেওয়া হয়নি।
কেন্দ্রীয় সরকার বলছে, বন্দেলখণ্ড অঞ্চলের এই প্রকল্পের ফলে ১০.৬২ লক্ষ হেক্টর জমিকে (মধ্যপ্রদেশে ৮.১১ লক্ষ হেক্টর এবং উত্তরপ্রদেশে ২.৫১ লক্ষ হেক্টর) সেচের আওতায় আনা যাবে, প্রায় ৬২ লক্ষ মানুষকে পানীয় জলদেওয়া যাবে এবং ১০৩ মেগাওয়াট জলবিদ্যুৎ ও ২৭ মেগাওয়াট সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদন করা সম্ভব হবে। তবে সরকারি হিসাবই বলছে, এই প্রকল্পের কারণে ৬ হাজার ৬০০ পরিবার বাস্তুচ্যুত হবে এবং প্রায় ৪৫ লক্ষ গাছ কাটা পড়বে। ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলি বিকল্প হিসাবে ৩ একক করে জমি সহ বিভিন্ন দাবি জানিয়েছে। একইসঙ্গে অভিযোগ উঠছে, প্রকৃত ক্ষতিগ্রস্তদের বঞ্চিত করে অযোগ্যদের সরকারি সাহায্য পাইয়ে দেওয়া হচ্ছে। ভাটনাগর বলছেন, বুন্দেলখণ্ডের মানুষ ভিক্ষা চাইছেন না। আমরা রাষ্ট্রকে তার নিজের তৈরি আইনই মেনে চলতে বলছি। 

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ