রাজগির: এশিয়া কাপ হকির প্রথম দুই ম্যাচে ২০ গোল খেয়েছিল কাজাখস্তান। প্রথমে জাপান দেয় সাত গোল। দ্বিতীয় ম্যাচে চীনের বিরুদ্ধে ১৩ গোল হজম করে তারা। আর সোমবার আয়োজক দেশ ভারত লিগের শেষ ম্যাচে রীতিমতো ছেলেখেলার মেজাজে ১৫-০ ব্যবধানে চূর্ণ করল তাদের। হ্যাটট্রিক সহ চারটি গোল করলেন অভিষেক (৫, ৮, ২৯, ৫৯ মিনিট)। প্রতিটাই ফিল্ড গোল। হ্যাটট্রিক করলেন সুখজিৎ সিং (১৫, ৩২, ৩৮ মিনিট) এবং যুগরাজ সিংও (২৪, ৩১, ৪৭ মিনিট)। বাকি গোলগুলি আসে ক্যাপ্টেন হরমনপ্রীত সিং (২৬ মিনিট), অমিত রোহিদাস (২৯ মিনিট), রাজিন্দার সিং (৩২ মিনিট), সঞ্জয় (৫৪ মিনিট), দিলপ্রীত সিংয়ের (৫৫ মিনিট) স্টিক থেকে। প্রথম দুই ম্যাচে পাঁচ গোল ছিল হরমনপ্রীতের। তাঁর গোলসংখ্যা দাঁড়াল ছয়।
চীন ও জাপানকে হারিয়ে আগেই সুপারে ফোরে জায়গা নিশ্চিত করেছিল ভারত। তবে কোনও ম্যাচেই মসৃণ জয় আসেনি। প্রতিযোগিতার শীর্ষ বাছাই হয়েও তেমন জমাট দেখায়নি কোচ ক্রেগ ফুলটনের দলকে। বরং গত দু’টি ম্যাচেই ধরা পড়েছিল রক্ষণের দুর্বলতা। এদিন অবশ্য সেরা ছন্দে দেখা গেল ভারতকে। বিশ্ব র্যাঙ্কিংয়ে সাতে থাকা হরমনপ্রীতরা যে অনায়াসে কাজাখস্তানকে হারাবেন, সেটা প্রত্যাশিতই ছিল। প্রশ্ন ছিল, কত গোলে জয় আসবে? এদিনই অন্য গ্রুপের ম্যাচে মালয়েশিয়া ১৫-০ ব্যবধানে হারিয়েছে চাইনিজ তাইপেকে। ভারত কি তা ছাপিয়ে যেতে পারবে, সেই চর্চায় মশগুল ছিলেন সমর্থকরা। দুর্বল প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে শুরু থেকেই দাপট দেখায় টিম ইন্ডিয়া। প্রথম কোয়ার্টারে হয় তিন গোল। দ্বিতীয় কোয়ার্টারের শেষে স্কোর ছিল ৭-০। তৃতীয় কোয়ার্টারে আরও চার গোল। অর্থাৎ, স্কোর তখন ১১-০। চতুর্থ কোয়ার্টারেও হয় চারটি গোল।
এশিয়া কাপে কাজাখস্তান তিন ম্যাচে খেল ৩৫ গোল। কাজাখদের দুর্দশা প্রশ্ন তুলল প্রতিযোগিতার মান নিয়েই। অথচ অদ্ভুতভাবে বিশ্ব র্যাঙ্কিংয়ে তারা রয়েছে ১৪ নম্বরে। যাইহোক, সুপার ফোরে ভারত খেলবে মালয়েশিয়া, কোরিয়া ও চীনের বিরুদ্ধে। উল্লেখ্য, এশিয়া কাপের বিজয়ী দল আগামী বছর বেলজিয়াম ও নেদারল্যান্ডসে অনুষ্ঠেয় বিশ্বকাপে সরাসরি খেলবে।
ম্যাচ শেষে ভারতীয় দলের কোচ ক্রেগ ফুলটন বলেন, ‘সব ম্যাচে জিতে সুপার ফোরে জায়গা করে নেওয়াটা নিঃসন্দেহে খুশির ব্যাপার। তবে সামনে আরও কঠিন লড়াই অপেক্ষা করছে। তাই আত্মতুষ্ট হলে চলবে না। চ্যাম্পিয়ন হতে গেলে বাকি ম্যাচগুলিতেও ধারাবাহিকতা বজায় রাখা জরুরি। ছেলেদের উপর আমার পূর্ণ আস্থা রয়েছে।’