ফিরদৌস হাসান, শ্রীনগর: এক মাসও কাটল না। ফের কাশ্মীরি পণ্ডিতদের টার্গেট করে হুমকি দেওয়া চিঠি সামনে এল। সেই চিঠি ভাইরাল হতেই উপত্যকায় কর্মরত কাশ্মীরি পণ্ডিতদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়েছে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ইউনাইটেড লিবারেশন কাউন্সিল (ইউএলসি) নামে প্রায় অপরিচিত একটি সংগঠনের নামে এই হুমকি দেওয়া হয়েছে। পাকিস্তানি জঙ্গি সংগঠন লস্কর-ই-তোইবার ফ্রন্টাল সংগঠন হিসাবে ইউএলসি কাজ করে থাকতে পারে। ২৩ আগস্ট প্রকাশিত ওই চিঠিতে বেশ কয়েকজন কাশ্মীরি পণ্ডিতের নাম, মোবাইল নম্বর, জম্মুতে তাঁদের বাড়ির ঠিকানা এবং গাড়ির রেজিস্ট্রেশন নম্বরের মতো ব্যক্তিগত তথ্যও তুলে দেওয়া হয়েছে। এই চিঠির উৎস এবং কাদের মাধ্যমে তা ছড়ানো হল, তাই এখন পুলিশ খতিয়ে দেখছে।
কাশ্মীরে পণ্ডিতদের আবার উপত্যকায় ফেরানো শুরু হয়েছে। তাঁদের জন্য প্রাইমিনিস্টার’স রিহ্যাবিলিটেশন প্যাকেজ ঘোষণা করেছে কেন্দ্র। সেই প্রকল্পে সাড়াও মিলেছে। এই অবস্থায় এক মাসের মধ্যে দু’বার হুমকি চিঠি সামনে এল। অবিলম্বে কর্মরত কাশ্মীরি পণ্ডিতদের নিরাপত্তা চেয়ে জম্মু ও কাশ্মীর সরকারকে চিঠি দিয়েছে অল পিএম প্যাকেজ এমপ্লয়িজ ফোরাম নামে একটি কর্মী সংগঠন। সোমবার সংগঠনের পক্ষ থেকে মুখ্যসচিবের সঙ্গে দেখা করে উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়। যেভাবে ব্যক্তিগত তথ্য জনসমক্ষে তুলে ধরা হয়েছে, তা নিয়ে তাঁরা আশঙ্কা প্রকাশ করেন।
ফোরামের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, ‘হুমকি চিঠির সত্যতা এখনও পুলিশ বা নিরাপত্তা সংস্থাগুলির পক্ষ থেকে যাচাই করা হয়নি। তবে বারবার যেভাবে হুমকি দেওয়া হচ্ছে, তাতে অনেকেই চিন্তিত।’ প্রশাসনের তরফে এনিয়ে তদন্ত শুরু হয়েছে। পুরো ঘটনায় প্রশাসনের ভিতরের কারও হাত রয়েছে বলে অনুমান জম্মু ও কাশ্মীরের প্রাক্তন পুলিশ প্রধান এস পি বেদ। তাঁর কথায়, ‘এতটা বিশদ ও ব্যক্তিগত তথ্য ফাঁস হওয়ার পিছনে ভিতরের কোনো ব্যক্তির হাত রয়েছে। কাছাকাছি থাকা কোনো ব্যক্তি কর্মীদের উপর নজরদারি চালাচ্ছে এবং এই তথ্য জঙ্গিদের কাছে পৌঁছে দিচ্ছে।’ মুখ্যমন্ত্রী ওমর আবদুল্লাও এই নিয়ে উচ্চ পর্যায়ের তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন।