


বিশেষ সংবাদদাতা, শ্রীনগর: ৩৬ বছর আগে জম্মু ও কাশ্মীরে এক নার্সকে নৃশংসভাবে খুন করেছিল জঙ্গিরা। সেই ঘটনায় মঙ্গলবার মধ্য কাশ্মীরের একাধিক স্থানে তল্লাশি চালাল স্টেট ইনভেস্টিগেশন এজেন্সি বা এসআইএ। জানা গিয়েছে, ওই নার্সের নাম সরলা ভাট। কাশ্মীরি পণ্ডিত ওই মহিলা শ্রীনগরের সৌরার শের-ই-কাশ্মীর ইনস্টিটিউট অব মেডিক্যাল সায়েন্সেসে কর্মরত ছিলেন। তাঁকে খুনের অভিযোগ ওঠে নিষিদ্ধ জঙ্গি সংগঠন জম্মু ও ও কাশ্মীর লিবারেশন ফ্রন্ট (জেকেএলএফ)—এর বিরুদ্ধে। মঙ্গলবার সেই সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত একাধিক ব্যক্তির বাড়িতে তল্লাশি চালিয়েছে এসআইএ। এজেন্সির দাবি, নার্স খুনের তদন্তে এদিন শ্রীনগরের আটটি স্থানে হানা দেন আধিকারিকরা। সেখান থেকে বেশ কিছু নিষিদ্ধ সামগ্রী ও নথি উদ্ধার হয়েছে। জঙ্গিদের ষড়যন্ত্রের পর্দাফাঁস করতে এগুলি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেবে। তার ভিত্তিতে মৃতা ও তাঁর পরিবার সুবিচার পাবে। তদন্তকারী সংস্থা সূত্রে খবর, মঙ্গলবার জেকেএলএফ প্রধান ইয়াসিন মালিক, প্রাক্তন সদস্য জাভেদ মির ছাড়াও আরও ছ’জনের বাড়িতে তল্লাশি চলেছে।
প্রসঙ্গত, ১৯৯০ সালে ১৮ এপ্রিল দক্ষিণ কাশ্মীরের অনন্তনাগের বাসিন্দা সরলাকে অপহরণ করে জঙ্গিরা। ওই নার্সকে সৌরার শের-ই-কাশ্মীর ইনস্টিটিউট অব মেডিক্যাল সায়েন্সেস হাসপাতালের হাব্বা খাতুন হোস্টেল থেকে তুলে নিয়ে যায় তারা। পরদিন সৌরার উমর কলোনি মাল্লাবাগে সরলার গুলিবিদ্ধ দেহ উদ্ধার হয়। সেই সময় উপত্যকায় বেছে খুন করা হচ্ছিল হিন্দু পণ্ডিতদের। রাজনৈতিক নেতা, অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি, সাংবাদিক বাদ যাননি কেউই। হামলা চালানো হয় বাড়ি, দোকান, অফিসেও। প্রাণ বাঁচাতে ভিটে মাটি ছেড়ে কাশ্মীর ত্যাগে বাধ্য হন সিংহভাগ হিন্দু পণ্ডিত।