Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

লাশের অপেক্ষায় রাত জেগে কাশীপুর, বাড়ির ধ্বংসস্তূপে পিউর পুতুল খুঁজে চলেছেন জেঠু রবীন্দ্র

ঘুম নেই পূর্বস্থলীর কাশীপুরের বাচ্চা, বুড়ো কারও চোখে। গ্রামের তরতাজা যুবক প্রভাত ও তাঁর নাবালিকা মেয়ে পিউ ঘরে ফিরবে লাশ হয়ে।

লাশের অপেক্ষায় রাত জেগে কাশীপুর, বাড়ির ধ্বংসস্তূপে পিউর পুতুল খুঁজে চলেছেন জেঠু রবীন্দ্র
  • ৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

সংবাদদাতা, কাটোয়া: ঘুম নেই পূর্বস্থলীর কাশীপুরের বাচ্চা, বুড়ো কারও চোখে। গ্রামের তরতাজা যুবক প্রভাত ও তাঁর নাবালিকা মেয়ে পিউ ঘরে ফিরবে লাশ হয়ে। রবিবার রাতে রাহুর গ্রাসে যাওয়া চাঁদের মতোই আঁধার গ্রামে। নুন আনতে পান্তা ফুরনো সংসারে স্বচ্ছলতার ছোঁয়া আনতে দুই দাদার হাত ধরে রাজস্থানে পাড়ি দিয়েছিলেন কাশীপুরের প্রভাত বাগদি। পনেরো বছর ধরে তিনি সেখানে সোনারূপোর গয়নার কারিগর হিসেবে কাজ করছিলেন। সব স্বপ্ন ভেঙে খানখান হয়ে গেল। রাতে বাবার গলা জড়িয়ে ধরে ঘুমোচ্ছিল পিউ। সেই অবস্থাতেই মৃত্যু হয় দুজনের। প্রভাতের স্ত্রী সুমিত্রা কোমর ভেঙে হাসপাতালে। বাবা ও মেয়ের লাশ রাজস্থান থেকে ফেরানোর তোড়জোড় চলছে। পুজোর জন্য নতুন জামা কিনেছিল ছোট্ট পিউ। সেসব এখন ধ্বংসস্তূপের নীচে।  

Advertisement

সুমিত্রার কোমরের হাড় জুড়তে অপারেশন করার পরামর্শ দিয়েছেন জয়পুর এসএমএস হাসপাতালের চিকিৎসক। তাঁর কাছে রয়েছেন ভাসুর রবীন্দ্র বাগদি। এদিন তিনি ফোনে বলেন, সুমিত্রার জ্ঞান ফিরেছে। স্বামী ও মেয়ের মৃত্যুর খবর তিনি জানেন না। বার বার আমাকে জিজ্ঞাসা করছেন তাঁদের কথা। কী বলি বলুন তো, আমি নিজেকে ঠিক রাখতে পারছি না। বুক ফেটে যাচ্ছে। 
জয়পুরে সুভাষচকে শুক্রবার গভীর রাতে টানা বৃষ্টিতে পুরনো চারতলা বাড়ি হুড়মুড়িয়ে ভেঙে পড়ে। ওই বাড়িতেই থাকতেন প্রভাত ও তাঁর পরিবার। প্রভাতের বাবা সুভাষ বাগদি একবছর আগেই মারা গিয়েছেন। প্রভাতরা তিন ভাই। বড়দাদা সুদর্শন ও মেজদাদা রবীন্দ্রও বহু বছর ধরে জয়পুরে কাজ করেন। প্রভাত বিয়ে করে স্ত্রীকেও সেখানে নিয়ে যান। তাঁরা সুভাষচকে একটি পুরনো বাড়িতে থাকেন। প্রভাতের অনেক স্বপ্ন ছিল। পরিযায়ী শ্রমিকের কাজ করে পাকা ঘর করেছিলেন। মেয়ে পিউকে লেখাপড়া শেখানোর ইচ্ছা ছিল। সব শেষ হয়ে গেল নিমেষে। এদিন মৃতের বড়দাদা সুদর্শন ফোনে বলেন, আমি ভাই ও ভাইঝির দেহ নিয়ে গ্রামে ফিরছি। 
পূর্বস্থলীর কাশীপুর গ্রামে বাবা ও মেয়ের ফেরার অপেক্ষায় গোটা গ্রাম রাত জেগে থাকবে। প্রত্যেকেই চোখের জল ফেলছেন। গ্রামের বাসিন্দা প্রহ্লাদ ঘোষ বলেন, দু’ চোখে স্বপ্ন নিয়ে ওরা রাজস্থান গিয়েছিল। এখানে ওদের জমি নেই। তাই ওই কাজের উপরেই পুরো পরিবার নির্ভর করে ছিল। এখব সব শেষ। এর থেকে যন্ত্রণার আর কী আছে! প্রভাতের মা এলোকেশী বলেন, আমার ছেলেটা পুজোর আগে লাশ হয়ে ফিরছে। আমি থাকব কী করে। আমার ছোট্ট নাতনিটাও শেষ হয়ে গেল। রবীন্দ্র আরও বলেন, ধ্বংসস্তূপ থেকে আমি মেয়েটার খেলার পুতুলটা খুঁজছি। যদি পাওয়া যায়। স্মৃতি হিসাবে রাখব। বউমার মোবাইলটাও খুঁজছি। প্রভাতের প্রতিবেশীরা বলছেন, আমরা সারারাত আজ জাগব। উৎসবের আগেই গ্রাম বিষাদের কালো মেঘে ঢেকে গেল।  কাশীপুর গ্রামে শোকার্ত বাসিন্দারা।-নিজস্ব চিত্র

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ