


নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: দেশে উৎপাদিত চিনির ২০ শতাংশ চটের বস্তাবন্দি করতেই হবে। কেন্দ্রীয় জুট প্যাকেজিং আইনের এই নিদানকে কোনওভাবেই বাতিল করতে চাইল না কর্ণাটক হাইকোর্ট। চিনিকল মালিকদের একাধিক সংগঠনের করা মামলায় সম্প্রতি এই রায় দিয়েছে উচ্চ আদালত। কেন্দ্রীয় বস্ত্রমন্ত্রকের অধীন জুট কমিশনারের অফিস সহ একাধিক সরকারি সংস্থা ও জুটমিল মালিকদের সংগঠন আইজেএমএ-কে পার্টি করে চিনিকল মালিকরা বেশ কয়েক মাস আগে এব্যাপারে একটি মামলা করেছিল। দীর্ঘ শুনানির পর তাদের সেই আবেদন খারিজ করে উৎপাদিত চিনির ২০ শতাংশ চটের বস্তাবন্দি করতে হবে বলে স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে হাইকোর্ট। আদালত আরও জানিয়েছে, পাট চাষি ও চটকল শ্রমিকদের জীবিকার থেকে চিনিকল মালিকদের ব্যবসায়িক স্বার্থ কখনওই অগ্রাধিকার পেতে পারে না। চটের বস্তায় চিনি প্যাকেজিং করা নিয়ে চিনিকল মালিকদের বহুদিন থেকেই আপত্তি রয়েছে। তাঁদের যুক্তি, প্লাস্টিকের থেকে চটের বস্তা তুলনামূলক ব্যয়বহুল। পাশাপাশি, আর্দ্রতা এবং জুট ব্যাচিং অয়েলের দূষণ সংক্রান্ত সমস্যাও রয়েছে। যদিও তাদের এই যুক্তি এর আগে সুপ্রিমকোর্টও আমল দেয়নি। এবার কর্ণাটক হাইকোর্টও এনিয়ে তাদের মামলা খারিজ করে চিনি বস্তাবন্দি করার ক্ষেত্রে কেন্দ্রীয় আইনকেই যুক্তিপূর্ণ ও বৈধ বলে রায় দিয়েছে। আইজেএমএ’র প্রাক্তন চেয়ারম্যান ও বাংলার চটশিল্পের অন্যতম মুখ সঞ্জয় কাজারিয়া এই রায়কে স্বাগত জানিয়ে দাবি করেন, ‘সুগার লবি দীর্ঘ দিন ধরে এই কেন্দ্রীয় আইন মেনে চলছে না। সরকারকে এই বিষয়টি নিয়ে কঠোর পদক্ষেপ করতে হবে এবার।’