Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / বিনোদন

ক্যারাটে, নস্টালজিয়া ও জ্যাকি চ্যান

ক্যারাটে, নস্টালজিয়া ও জ্যাকি চ্যান
  • ২ জুন, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

ছোটবেলায় মাকড়সার গল্প পড়েছিলাম। সেই যে বারবার উপরে ওঠার চেষ্টা করেও পড়ে যাওয়া। তবু হার না মেনে এগিয়ে চলা। চেষ্টা করা। সফল হওয়া। জ্যাকি চ্যানও যেন সেই মন্ত্রই দিয়ে যান। বারবার। ঠিক যেমন দিয়েছেন তাঁর নতুন ছবি ‘ক্যারাটে কিড: লেজেন্ডস’-এ। ২০১০ সালের ‘ক্যারাটে কিড’ ছবির প্রাণ তিনি। মিস্টার হান। অ্যাকশন দৃশ্যের বৃত্তে চিরতরুণ। ডিগবাজি খেয়ে শত্রুকে দু’ঘা দেওয়া হোক বা হাওয়ার মধ্যে উড়ে এসে কষিয়ে লাথি—তাঁর কাছে জলভাত। আজও। ৭১ বছর বয়সেও। তাঁর প্রতিটি মুভ ঈর্ষনীয়। বডি ফ্লেক্সিবিলিটি চোখ ধাঁধিয়ে দেওয়ার মতো। তিনি স্ক্রিনে এলেই মনে হয়, ম্যাজিক ঘটবে। সেই নস্টালজিয়াকে ফ্রেমবন্দি করে এবারও পুরনো ছাঁচে নতুন গল্পের খোঁজ করেছেন পরিচালক জোনাথন এন্টউইস্টল। সঙ্গে জুড়েছেন দুই সময়কালকে। দুই শিল্পকলাকে। আবেগকে। জ্যাকির সঙ্গেই পর্দায় এনেছেন আরও এক লেজেন্ডকে। তিনি রাল্ফ ম্যাকিও। একেবারে শুরু থেকে এই জার্নির সওয়ার। প্রথম ‘ক্যারাটে কিড’। তাই হয়তো ছবিজুড়ে একটা কথা ফিরে ফিরে আসে— একটি গাছের দু’টি শিকড়।
সেই গাছ ‘ক্যারাটে কিড’। ১৯৮৪ সালে শুরু হওয়া ফ্র্যাঞ্চাইজি। ৪০ বছর ধরে যে ভয়কে জয় করার কথা বলে। বলে গুরু-শিষ্যের গল্প, হেরে গিয়েও উঠে দাঁড়ানোর কাহিনি। দেয় জয়ের অনুপ্রেরণা। আর দু’টি শিকড়? তাঁরা মিস্টার হান (জ্যাকি চ্যান) ও ড্যানিয়েল লারুসো (রাল্ফ ম্যাকিও)। এই দু’জনের টানেই নির্দ্বিধায় দেখা যায় নতুন ছবিটি। নইলে গল্প, চিত্রনাট্য, চরিত্র... সবই তো সেই এক। 
নতুনত্ব কি একেবারেই নেই? তা নয়। এই ছবিতে ‘ক্যারাটে কিড’ লি ফং (বেন ওয়াং) নিজেই একজন প্রশিক্ষক। ছবির প্রথমার্ধের সেই প্লট বেশ উপভোগ্য। পরে লিয়ের ভয় দূর করতে চীন থেকে নিউ ইয়র্ক আসেন মিস্টার হান। সঙ্গে ক্যারাটে প্রশিক্ষক ড্যানিয়েল। একদিকে কুং ফু, অপরদিকে ক্যারাটে। পর্দায় দুই আর্টের সমন্বয় দেখতে বেশ ভালো লাগে। তার সঙ্গে দুই প্রশিক্ষকের খুনসুটি, রসায়ন... অনবদ্য। এই ফ্র্যাঞ্চাইজির প্রধান ইউএসপি অ্যাকশন। তবে এবার যেন অ্যাকশন দৃশ্য তুলনামূলক কম।
দ্বিতীয়ার্ধে গল্প এগিয়েছে পুরনো ফর্মুলা মেনেই। টুর্নামেন্ট বা প্র্যাকটিসের সময় বেন ওয়াং অত্যন্ত সাবলীল। তাঁর সঙ্গে রাল্ফ ম্যাকিও ও জ্যাকি চ্যানের আরও কিছু দৃশ্য থাকলে মন্দ হতো না। প্রেমপর্বের দিকে ফোকাসই করেননি পরিচালক জোনাথন এন্টউইস্টল। তাই গুরুত্বহীন হয়ে পড়ে প্রেমিকা মিয়ার (স্যাডি স্ট্যানলি) চরিত্রটি। বেশ কয়েকটি দৃশ্যে পুরনো ছবিগুলির রেফারেন্স রয়েছে। তবে এই ছবি আদ্যোপান্ত জ্যাকি চ্যানের। এত বছর পর অ্যাকশনের টানে পর্দায় ফিরেছেন তিনি। বডি ডাবল ছাড়াই শ্যুটিং করেছেন। তাঁর ও বাকিদের সৎচেষ্টা সত্ত্বেও নতুনত্বের প্রশ্নের মুখে বারবার পড়তে হবে এই ছবিকে। প্রশ্ন উঠবে, কেন একই ফর্ম্যাটে তৈরি হয় এই ফ্র্যাঞ্চাইজির ছবিগুলি? আজকের প্রজন্মকে মূল্যবোধের শিক্ষা দিতে? নির্মাতারা হয়তো উত্তর দেবেন— পুরনো চাল ভাতে বাড়ে।

Advertisement


শান্তনু দত্ত

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ