সুকান্ত বসু, কলকাতা: উত্তর কলকাতার টালার তারাশঙ্কর সরণিতে প্রাচীন জয় মা তারা আশ্রম মন্দিরে প্রতিষ্ঠিত কালীমূর্তিকে ঘিরে জড়িয়ে ইতিহাস। জনশ্রুতি, এক কাপালিক হোগলা চাটাই দেওয়া এক ছোট্ট কুটিরে দক্ষিণা কালী ও শ্যামা মায়ের দু’টি মাটির মূর্তিতে শুরু করে ছিলেন মাতৃ আরাধনা। পরবর্তী সময় কাপালিক ওই স্থান ত্যাগ করেছিলেন। তারপর বেশ কিছুদিন মন্দির ওই অবস্থায় পড়েছিল। পরে ধীরে ধীরে স্থানীয় মানুষজনের উদ্যোগে এই কালীমন্দির পাকাপাকিভাবে তৈরি হয়। সেখানে মাটির কালী মূর্তির বদলে তৈরি হয় সিমেন্টের মূর্তি। বর্তমানে দেখভালের জন্য রয়েছে একটি পরিচালন কমিটি। মন্দিরে নিত্য পুজোর জন্য রয়েছেন একজন পুরোহিত ও চারজন সেবায়েত। তাঁরা পালা করে এই মন্দিরে পুজো করেন। মন্দির কমিটির প্রবীণ সভাপতি সর্ব্বজিৎ ঘোষ চৌধুরী জানান, এই মন্দিরে প্রতিষ্ঠিত মা দক্ষিণা কালীকেই ‘তারা মা’ হিসাবে পুজো করা হয়ে থাকে। পুজো হয় তন্ত্রমতে। কাপালিকের সময় থেকেই একই রীতিতে এই পুজো হয়ে আসছে। একটা সময় কালীপুজোর রাতে এই মন্দিরে ছাগ বলি দেওয়া হত। সে প্রথা বন্ধ হয়ে গিয়েছে অনেক বছর আগেই। বর্তমানে বলি দেওয়া হয় চালকুমড়ো, আখ সহ বিভিন্ন ফল। তিনি জানান, মন্দিরে কালীর আরাধনা ছাড়া দুর্গা, জগদ্ধাত্রী, অন্নপুজো হয়ে থাকে মাটির প্রতিমায়। দুর্গা মূর্তি তৈরি হয় একচালার। তবে প্রতিটি পুজোর আগে হয় মন্দিরে প্রতিষ্ঠিত দুই কালী মায়ের আরাধনা। তারপরেই অন্য দেবীর আরাধনা হয়ে থাকে। এই মন্দিরের অন্যতম বৈশিষ্ট্য হল, মায়ের প্রতিষ্ঠিত ঘট গামছা দিয়ে সর্বদা ঢেকে রাখা হয়। এ ক্ষেত্রে মন্দিরের এক সেবায়েতের ব্যাখ্যা, মানুষ যেমন নিজের লজ্জা নিবারণের জন্য পোশাক পরে থাকেন। তেমনই এখানে পূজিতা ঘটকে মাতৃজ্ঞানে প্রতিদিন পুজো করা হয়। আর সেই কারণেই লাল টকটকে সিদুঁর মাখা ঘটকে গামছা দিয়ে সর্বদা ঢেকে রাখা হয়। মন্দিরে প্রতিষ্ঠিত রয়েছে শিবলিঙ্গ। শিবরাত্রির দিন ঘটা করে হয় শিবরাত্রি ব্রত। স্থানীয় মানুষজনের বক্তব্য, এই মন্দিরটি বড়ো জাগ্রত। আর সেই কারণে রাজ্যের বিভিন্ন জেলা থেকে আজও বহু মানুষজন আসেন এই মন্দিরে দুই কালীমাকে দর্শন করে পুজো দিতে। মন্দিরের তরফে জানানো হয়, এখানে কালী পুজোর রাতে রাত ১২টায় শুরু হয় পুজো। চলে বেশ কয়েক ঘণ্টা। পুজোর পরদিন ভোর ছ’টা থেকে শুরু হয় ভোগ বিতরণ। চলে সকাল দশটা পর্যন্ত। এখানে মাকে আমিষ ভোগের মধ্যে দেওয়া হয় মাগুর, শোল, বোয়াল সহ একাধিক পদের মাছের ভোগ।



