Bartaman Logo
১২ আগস্ট, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

একজন শিক্ষিকা দিয়ে চলছে কাঁথির দেশপ্রাণের শিশু শিক্ষাকেন্দ্র, ক্ষোভ

৩৪ জন ছাত্রছাত্রী। মাত্র একজন শিক্ষিকা। এভাবেই চলছে কাঁথির দেশপ্রাণ ব্লকের দারিয়াপুর পঞ্চায়েতের ভোগপুর শিশু শিক্ষাকেন্দ্র

একজন শিক্ষিকা দিয়ে চলছে কাঁথির দেশপ্রাণের শিশু শিক্ষাকেন্দ্র, ক্ষোভ
  • ১২ আগস্ট, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

সংবাদদাতা, কাঁথি: ৩৪ জন ছাত্রছাত্রী। মাত্র একজন শিক্ষিকা। এভাবেই  চলছে কাঁথির দেশপ্রাণ ব্লকের দারিয়াপুর পঞ্চায়েতের ভোগপুর শিশু শিক্ষাকেন্দ্র। শিশু শিক্ষাকেন্দ্রে ঢোকার জন্য যে মাটির সরু রাস্তাটি রয়েছে, সেটিও বর্ষায় জলে ডুবে গিয়েছে। রয়েছে নানা পরিকাঠামোর অভাব। অভিভাবকরা অবিলম্বে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ করার আবেদন জানিয়েছেন। ২০০০সালে প্রশাসন ও শিক্ষাদপ্তরের উদ্যোগে সমুদ্রউপকূলবর্তী ভোগপুর এলাকায় শিশু শিক্ষাকেন্দ্রটি প্রতিষ্ঠা হয়। গ্রামের শীতলা মন্দির সংলগ্ন মাঠেই এই শিশু শিক্ষাকেন্দ্রটি রয়েছে। প্রথম থেকেই তিনজন শিক্ষিকা ছিলেন। ছাত্রছাত্রী সংখ্যাও ভালো ছিল। কিন্তু, বর্তমান পরিস্থিতি অন্যরকম। কয়েকবছর আগে একজন শিক্ষিকা অবসর নেন। বছরচারেক আগে আর একজন শিক্ষিকা অন্য শিশু শিক্ষাকেন্দ্রে বদলি হয়ে চলে যান। তারপর থেকে একাই শিশুপড়ুয়াদের সামলাচ্ছেন ঝরনা রায়। তাদের পড়ানো থেকে শুরু করে লক্ষ্য রাখা, মিড ডে মিল পরিচালনা করা-সবই একার হাতে করতে হয়। আবার প্রশাসনিক কাজে ব্লকে কিংবা পঞ্চায়েতেও যেতে হয়। এদিকে, স্কুলের নলকূপটি দীর্ঘদিন ধরে অকেজো হয়ে পড়ে রয়েছে। মিড ডে মিলের রান্না এবং ছাত্রছাত্রীদের পানীয় জলের প্রয়োজন মেটানোর জন্য ড্রামে জল বয়ে আনা হয়। শৌচালয়ও অনেকদিন ধরে ভাঙাচোরা। কার্যত ব্যবহারের অযোগ্য। 

Advertisement

শিক্ষিকা ঝরনাদেবী বলেন, ‘আমার একজনের পক্ষে খুবই অসুবিধা হয়। এখন বর্ষাকাল। স্কুলের একেবারে পাশেই পুকুর। এতজন ছাত্রছাত্রীকে লক্ষ্য রাখা মুশকিল হয়ে পড়ে। আর একজন শিক্ষিকা নিয়োগ হলে ভাল হবে। ছাত্রছাত্রীদের পড়ানো সহ সবদিক দিয়ে সুবিধা হবে। নলকূপ, শৌচালয়ের ব্যাপারে প্রশাসনিক মহলে জানিয়েও কোনো কাজ হয়নি। খুব সমস্যার মধ্যে ছাত্রছাত্রীদের পড়াতে হয়’। 
এই পরিস্থিতি দেখে অনেক বাবা-মা তাঁদের ছেলেমেয়েদের এখানে পাঠাতে চান না। ওয়েস্টবেঙ্গল এমএসকে অ্যান্ড এসএসকে টিচার্স ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশনের রাজ্য সভাপতি বিকাশ বারিক বলেন, সেই ২০১১ সাল থেকে শিশু শিক্ষাকেন্দ্রগুলিতে নিয়োগ প্রক্রিয়া বন্ধ রয়েছে। পরিকাঠামোও বিশেষ কোনো উন্নতি হয়নি। খুব অসুবিধার মধ্যে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলি চলছে। নতুন সরকার ক্ষমতায় আসার পর আমরা শিক্ষক-শিক্ষিকা নিয়োগ থেকে শুরু করে পরিকাঠামো উন্নয়ন-সমস্ত বিষয় নিয়ে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর দ্বারস্থ হয়েছি। আশা করছি, অদূর ভবিষ্যতে কিছু সমাধান হবে। বিডিও অরুণ পাত্র বলেন, ব্লক এলাকায় বেশকিছু শিশু শিক্ষাকেন্দ্রগুলিতে পরিকাঠামোগত সমস্যা ও শিক্ষিকার অভাব রয়েছে। আমরা আলোচনার মাধ্যমে সমস্যার সমাধান করব।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ