নিজস্ব প্রতিনিধি, চুঁচুড়া: চলন্ত ট্রেনের শৌচাগারে গিয়ে প্রসব যন্ত্রণায় কাতরাচ্ছিলেন গৃহবধূ। সেখান থেকে উঠেও আসতে পারেননি। শৌচাগারেই সন্তানের জন্ম দেন। ট্রেনের অন্য যাত্রীরা বিষয়টি লক্ষ করে ওই গৃহবধূর পাশে দাঁড়ান। খবর পেয়ে সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দেয় জিআরপিও। শেষপর্যন্ত হুগলির কামারকুণ্ডু জিআরপির কর্তাদের উদ্যোগে ওই গৃহবধূ ও সদ্যোজাতকে সিঙ্গুর গ্রামীণ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সোমবার রাতে কাঞ্চনকন্যা এক্সপ্রেসে ওই ঘটনা ঘটেছে। জিআরপি কর্তাদের উদ্যোগের জন্য কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন গৃহবধূর স্বামী। বছর তেইশের নয়ন মোল্লা কলকাতার উল্টোডাঙার বাসিন্দা। তিনি বলেন, জিআরপির কর্তারা যা করেছেন তার জন্য কোনও কৃতজ্ঞতাই যথেষ্ট নয়। স্ত্রী সন্তানসম্ভবা ছিলেন। চিকিৎসকরা প্রসবের জন্য তারিখও নির্দিষ্ট করেছিলেন। হাতে সময় থাকায় স্ত্রীকে নিয়ে ট্রেনযাত্রায় বেরিয়েছিলাম। পথে এমন হবে ভাবতে পারিনি। গৃহবধূও বলছেন, আসলে আমার প্রথম সন্তান। রাতেই প্রসব যন্ত্রণা শুরু হবে বুঝতে পারিনি। চিকিৎসক আরও কিছুদিন পরে যেতে বলেছিলেন। শৌচাগারে খুবই অসহায় অবস্থায় পড়েছিলাম। আমার সন্তান সুস্থ আছে সেটাই সুখের কথা। কামারকুণ্ডু জিআরপির পুলিশ জানিয়েছে, সদ্যোজাতের নানারকম সমস্যা হতে পারে। মায়েরও সমস্যা হয়। ঠিকঠাক চিকিৎসা হওয়া প্রয়োজন। সেই জন্যেই ওই গৃহবধূকে ট্রেন থেকে নামিয়ে হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। আইসি শুভাশিস মুখোপাধ্যায় বলেন, আমরা সকলে মিলে একটি মানবিক দায়িত্ব পালন করেছি। এর বাইরে কিছু বলার নেই।



