Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / বিনোদন

অনড় কমল, ছবি মুক্তি নয় কর্ণাটকে

অনড় কমল, ছবি মুক্তি নয় কর্ণাটকে
  • ৫ জুন, ২০২৫ ১৬:০৬
Prefer us on Google

কোনও ভুল করিনি। ক্ষমা চাওয়ার প্রশ্নই ওঠে না— বিতর্ক, সমালোচনা, হুমকি, কোর্টের পরামর্শ... সবকিছুর পরও নিজের অবস্থানে অনড় থাকলেন অভিনেতা কমল হাসান। কন্নড় ভাষা বিতর্কে ক্ষমা চাইবেন না তিনি। মঙ্গলবার তিনি জানিয়েছেন, আগামী ৫ জুন তাঁর আসন্ন ছবি ‘থাগ লাইফ’ বিশ্বজুড়ে মুক্তি পাবে। কেবল মুক্তি পাবে না কর্ণাটকে। গত মাসে ‘থাগ লাইফ’ ছবির প্রচারানুষ্ঠানে কমল দাবি করেছিলেন, ‘কন্নড় ভাষার জন্ম তামিল ভাষা থেকেই।’ তারপরই কন্নড়পন্থী সংগঠন ও ‘কর্ণাটক ফিল্ম চেম্বার অব কমার্স’ এই ছবির উপর নিষেধাজ্ঞা জারির দাবি করেছিল। এর বিরোধিতা করে হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয়েছিলেন কমল। তাঁর আর্জি ছিল, ছবি মুক্তিতে যাতে কোনও বাধা দেওয়া না হয়। কর্ণাটক সরকার, পুলিস ও বাণিজ্যিক সংস্থাগুলির সাহায্যও চান অভিনেতা। পাশাপাশি লাগাতার হুমকির বিরোধিতাও করেন অভিনেতা। যদিও মঙ্গলবার কর্ণাটক হাইকোর্টে তিনি নিজেই প্রশ্নের মুখে পড়েন। ‘আপনি ইতিহাসবিদ নাকি ভাষাবিদ?’, কন্নড় নিয়ে মন্তব্যে অভিনেতার প্রতি এই প্রশ্ন ছুড়ে দিয়েছিলেন বিচারপতি এম নাগাপ্রসন্ন। 

Advertisement

অভিনেতার কন্নড় মন্তব্য ঘিরে বিতর্কে উত্তাল হয় কর্ণাটক। একাধিক কন্নড়পন্থী সংগঠন কমলের মন্তব্যের বিরোধিতা করে। মুখ খোলেন রাজনৈতিক নেতারাও। অভিনেতাকে ক্ষমা চাওয়ার কথাও বলা হয়। যদিও কমল ক্ষমা চাইতে চাননি। তিনি সাফ বলেন, ‘ভুল না করলে ক্ষমা চাইব না।’ অভিনেতার এই মন্তব্যের বিরোধিতা করেছে হাইকোর্টও। মঙ্গলবার আদালত বলে, ‘পরিস্থিতি কমল হাসান নিজে তৈরি করেছেন। আর এখন তিনি দাবি করছেন ক্ষমা চাইবেন না।’ ভারতের শেষ গভর্নর জেনারেল চক্রবর্তী রাজাগোপালাচারীর প্রসঙ্গ ওঠে কোর্টে। বিচারপতি বলেন, ‘তৎকালীন গভর্নর জেনারেল এধরনের মন্তব্য করার জন্য ক্ষমা চেয়েছিলেন। আপনি কেন ক্ষমা চেয়ে বিতর্ক থামাতে পারবেন না? আপনি কমল হাসান হতে পারেন, কিন্তু জনগণের ভাবাবেগে আঘাত করার অধিকার কোনও নাগরিকের নেই। মতপ্রকাশের স্বাধীনতার দোহাই দিয়ে যেকোনও কথা বলা যায় না। তিনটি জিনিসের প্রতি মানুষ খুবই আবেগপ্রবণ— ভূমি, জল ও ভাষা। আপনি জানেন ভাষাগত কারণে এই রাজ্যগুলির ভাগ হয়েছিল। ভাষার গুরুত্ব সম্পর্কেও আপনি অবগত।’ বিচারপতির প্রশ্ন, ‘কীসের ভিত্তিতে আপনি কর্ণাটকের মানুষের ভাবাবেগে আঘাত করলেন? আপনি কি ইতিহাসবিদ নাকি ভাষাবিদ?’ পাশাপাশি কমলকে ক্ষমা চাওয়ার পরামর্শ দেন বিচারপতি। যদিও মাথা নোয়াতে চাননি অভিনেতা। বরং ছবিটি কর্ণাটকে মুক্তি পাবে না বলে জানিয়ে দেন। আদালত কমলের এই মন্তব্যকে ‘অহঙ্কার’ বলে দাবি করে। যদিও অভিনেতার আইনজীবী জানান, এটা অহঙ্কার নয়। কন্নড় ভাষাকে শ্রদ্ধা করেন অভিনেতা। আপাতত শুনানি স্থগিত রাখার দাবিও জানানো হয়েছে। কর্ণাটক ফিল্ম চেম্বার অব কমার্স (কেএফসিসি)- এর সভাপতি নরসিংহালুকে একটি চিঠি লিখেছেন কমল। সেখানে তিনি বলেন, ‘আমার মন্তব্যকে ভুলভাবে ব্যাখ্যা করা হল। এটা ভীষণ দুঃখজনক। আমরা সবাই এক, একই পরিবারের। কন্নড় ভাষার সমৃদ্ধি, ঐতিহ্য নিয়ে কোনও বিতর্ক থাকতে পারে না।’  

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ