


নিজস্ব প্রতিনিধি কৃষ্ণনগর: কল্যাণী বিশ্ববিদ্যালয়কে বায়োডাইভার্সিটি ক্যাম্পাস হিসেবে গড়ে তোলার কথা ভাবছে বায়োডাইভার্সিটি বোর্ড। রাজ্যে কল্যাণী বিশ্ববিদ্যালয়ের মুকুটেই প্রথম এই পালক জুড়তে চলেছে। যদিও এখনও পর্যন্ত চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি। সময়মতো তা ঘোষণা করা হবে বলে জানা গিয়েছে। কল্যাণী বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিতরেই তৈরি হয়েছে বায়োডাইভার্সিটি পার্ক। সেখানে নানা রকমের বিরল প্রজাতির গাছপালা বসানো হয়েছে। প্রায় ৩ হেক্টর এলাকাজুড়ে তৈরি সেই পার্কে বসতে চলেছে হিজল গাছ। আজ মঙ্গলবার সেই গাছ বসানো হবে বলে বিশ্ববিদ্যালয় সুত্রে জানা গিয়েছে। আপাতত মোট ২৮টি হিজল গাছের চারা বসানো হবে। হিজল গাছ বর্তমানে হারিয়ে যেতে বসেছে পরিবেশ থেকে।
২০১৬ সালে কল্যাণী বিশ্ববিদ্যালয়ে বায়োডাইভার্সিটি পার্ক তৈরি হয়। বর্তমানে সেই পার্কের বয়স প্রায় দশ বছর। এই পার্ক কল্যাণী বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবেশকে আরও মোনোরম করে তুলেছে। জানা অজানা গাছপালায় ঘেরা বিশ্ববিদ্যালয়ের এই পার্ক নজর কেড়েছে বায়োডাইভার্সিটি বোর্ডের। পার্কে রয়েছে বিভিন্ন ইউনিট। কোনও ইউনিটে বনৌষধির গুল্ম চোখে পড়ে। আবার ওষুধ তৈরিতে ব্যবহার করা যায় এমন বড় গাছও রয়েছে কোনও ইউনিটে। এছাড়াও পার্কে রয়েছে প্রজাপতির বাগান। পার্কের কোথাও দেখা যায় রান্নায় ব্যবহৃত মশলাজাতীয় গাছের বাগান। এমনকী সেই পার্কে রয়েছে ডাই গার্ডেন। এই বাগান যেখানে প্রাকৃতিক রং তৈরির জন্য গাছপালা রয়েছে। লিপস্টিক, মেহেন্দি, তৈরি করা যায় এমন গাছ রয়েছে সেখানে। এছাড়াও পলাশ, ক্যাসিয়ার মতো গাছ দেখা যায়। এছাড়াও বাদাম, নাট ফল, পানিফলের গাছ রয়েছে বায়োডাইভার্সিটি পার্কে। বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গিয়েছে, ওই পার্কের আট রকমের তুলসী গাছ এবং তিন রকমের বাসক গাছও বসানো হয়েছে। এছাড়াও বিভিন্ন রকমের হারিয়ে যাওয়া দেশীয় ফল, কামরাঙা, গোলাপজাম, করমচার মতো বহু গাছ নিয়ে পার্কের মধ্যে বাগান তৈরি করা হয়েছে। এছাড়াও ওই পার্কের ভিতর আফ্রিকান গাছও রয়েছে। দেখা যায় সাত রকমের বাঁশ গাছ। পার্কের ভিতর বট বাগানে দেখা যায় ছ’ রকমের বাট গাছ।
বিশ্ববিদ্যালয়ের বোটানি বিভাগের অধ্যাপিকা তথা বায়োডাইভার্সিটি পার্কের কোঅর্ডিনেটর নীরা সেন সরকার বলেন, পার্কের ভিতরে একটা পুকুর রয়েছে। পুকুরপাড়ে সুন্দরবনের কিছু ম্যানগ্রোভ বসানো হয়েছে। সেগুলো লবণাক্ত জলের ম্যানগ্রোভ। কিন্তু হিজল হল মিষ্টি জলের ম্যানগ্রোভ। হিজল গাছ আমাদের সাহিত্য-সংস্কৃতির সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে। কিন্তু সেই গাছটা হারিয়ে যাচ্ছে। যার জন্য হিজল বসানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
কল্যাণী বিশ্ববিদ্যালয়ের বায়োডাইভার্সিটি পার্কের এই বৈচিত্র্য বোর্ডের প্রশংসা কুড়িয়েছে। যার জন্য কল্যাণী বিশ্ববিদ্যালয়কে বায়োডাইভার্সিটি ক্যাম্পাস হিসেবে তৈরি করার ভাবনাচিন্তা করা হচ্ছে। সবদিক থেকে কল্যাণী বিশ্ববিদ্যালয় তার জন্য আদর্শ বলেই মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। -নিজস্ব চিত্র