Bartaman Logo
১৫ আগস্ট, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

স্বদেশীদের লাঠি ও অস্ত্রশিক্ষার কেন্দ্র ছিল কালনার অম্বিকা ব্যায়াম সমিতি

স্বাধীনতা আন্দোলনের বহু কাহিনী স্মৃতির অন্তরালে থেকে গিয়েছে। কালনা শহরের কাঁসারিপাড়ার অম্বিকা ব্যায়াম সমিতিও তেমনই।

স্বদেশীদের লাঠি ও অস্ত্রশিক্ষার কেন্দ্র ছিল কালনার অম্বিকা ব্যায়াম সমিতি
  • ১৫ আগস্ট, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

গণেশ মজুমদার, কালনা: স্বাধীনতা আন্দোলনের বহু কাহিনী স্মৃতির অন্তরালে থেকে গিয়েছে। কালনা শহরের কাঁসারিপাড়ার অম্বিকা ব্যায়াম সমিতিও তেমনই। ১৯২৫ সালে স্থাপিত হয় ভারতের স্বাধীনতা সংগ্রামীদের শরীরচর্চার কেন্দ্র বা আখড়া অম্বিকা ব্যায়াম সমিতি। শতবর্ষের আলোতে আজও অতীত স্মৃতি নিয়ে দাঁড়িয়ে আছে। আগের টিনের চালের আখড়ার বিলুপ্তি ঘটে কংক্রিটের দোতলা ভবন নির্মাণ হয়েছে।

Advertisement

দেশকে পরাধীনতার শৃঙ্খলমুক্ত করতে তখন দেশজুড়ে চরমপন্থীদের আন্দোলনে ইংরেজরা দিশেহারা। কালনা শহর ও শহরতলিতেও সেই চরমপন্থী গুপ্ত সংগঠন গোপনে আন্দোলন শুরু করে। কালনার জ্ঞানানন্দ মঠে স্বাধনতা সংগ্রামীদের উৎসাহ দিতে গোপন বৈঠক করেন নেতাজি। শহরের মহিষমর্দিনীতলায় জনসভাও করেন। শহরে তখন বহু পরিবারের  যুবকরা প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে স্বাধীনতা আন্দোলনে অংশ নিয়েছেন। কোথাও গোপনে চলছে লাঠি খেলা, অস্ত্র চালোনা শিক্ষা। ১৯২০ সাল নাগাদ শহরের কাঁসারিপাড়ার মুখোপাধ্যায় পরিবারের বাগানবাড়িতে গোপনে শুরু হয় লাঠি খেলা ও অস্ত্র শিক্ষার প্রশিক্ষণ। শরীর গঠনের প্রয়োজনে ১৯২৫সালে কাঁসারিপাড়ায় গড়ে ওঠে সর্বজনের জন্য অম্বিকা ব্যায়াম সমিতি। কিশোর-যুবদের শরীরচর্চার পাশাপাশি গোপনে সমিতির অন্দরে চলে স্বাধীনতা আন্দোলনের পাঠ। ব্যায়াম সমিতি গঠনে অগ্রণী ভূমিকা নিয়েছিলেন সত্যকিঙ্কর মুখোপাধ্যায়, কালীপ্রসন্ন দত্ত, রাধাপ্রিয় কর প্রমুখ। পরবর্তীতে বটকৃষ্ণ মুখোপাধ্যায়ের হাত ধরে আরও শক্তিশালী হয় ব্যায়াম সমিতি। ভারত ছাড়ো ও স্বদেশি ভাবধারার আন্দোলনে কালনার বাসিন্দা বহু আন্দোলনকারী জেল খেটেছেন। কেউ কেউ দেশ স্বাধীন হওয়ার পর পেনশন ও সরকারি অন্যান্য সুযোগ সুবিধা নিলেও অনেকে সরকারের পেনশন ও সুবিধা নিতে অস্বীকার করেন।
অম্বিকা ব্যায়াম সমিতির বর্তমান সম্পাদক প্রণব মুখোপাধ্যায় বলেন, পরাধীনতার শৃঙ্খল থেকে দেশকে স্বাধীন করার শপথে শরীর গঠনে অম্বিকা ব্যায়াম সমিতি গঠন হয়েছিল। পাশাপাশি শিক্ষার প্রসারেও জোর দিয়ে দেশ স্বাধীন হওয়ার পর ১৯৬০সালে শিক্ষাকেন্দ্র গড়ে তোলা হয়। শুরুতে সমিতির সদস্যদের মধ্যে গোপন লাঠিখেলা ও তরবারি চালোনার প্রশিক্ষণ চলত। ব্যায়াম সমিতির শতবর্ষের ম্যাগাজিনে কিছুটা অতীত ইতিহাস তুলে ধরার চেষ্টা করা হয়েছে। বর্তমানে শরীরচর্চার পাশাপাশি প্রাথমিক শিক্ষা ও যোগা, অঙ্কন শিক্ষার কেন্দ্র গড়ে তোলা হয়েছে।     
কালনার লেখক সুমাল্য দাস বলেন, স্বদেশী আন্দোলনে কালনাবাসীর ভূমিকার বহু ইতিহাস রয়েছে। নরম ও চরমপন্থীদের আন্দোলনে ইংরেজরা দিশেহারা ছিল। ভারতছাড়ো আন্দোলনে সরকারি দপ্তরে হামলা, অফিস পোড়ানোর ঘটনায় পুলিশি জুলুম সহ্য করেছে অনেক অন্দোলনকারী। অনেকে এলাকাছাড়া হয়েছেন। স্বাধীনতা আন্দোলনে ঝাঁপিয়ে পড়া সংগ্রামীদের আত্মত্যাগ নিয়ে একটি মিউজিয়াম তৈরি হলে ভাল হয়।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ