নিজস্ব প্রতিনিধি, বর্ধমান: মৃণাল সেন, ঋতুপর্ণ ঘোষ থেকে অপর্ণা সেন—টলিপাড়ার বহু পরিচালকই আম বাঙালির সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দিয়েছেন কালিকাপুর রাজবাড়ির সঙ্গে। ‘খণ্ডহর’, ‘থেকে গয়নার বাক্স’, ‘গুপ্তধন রহস্য’ সহ একাধিক বাংলা সিনেমা উপহার দিয়েছে পরমানন্দ রায়ের এই স্থাপত্য সৃষ্টি। সেই বাড়ির পুজো-দর্শন মানে দর্শকদের উপরি পাওনা থাকবে বৈকি। পুজোর চারদিন আউশগ্রামের জঙ্গলঘেরা এই রাজবাড়ি হয়ে ওঠে যেন এক খণ্ড ‘টলিউড’! কলকাতা থেকে কোনও না কোনও সেলিব্রিটি পুজোয় আসবেনই। আবার দল বেঁধেও আসেন বড়-ছোট পর্দার অনেক কুশীলবরা। আসলে, সাক্ষাৎ ইতিহাসের উঠোনে দাঁড়াতে কার না ভালো লাগে! কালিকাপুর রাজবাড়ি সত্যিই একটা আস্ত ইতিহাসই বটে। প্রায় চারশো বছর আগের কথা। পরমানন্দ রায় ছিলেন বর্ধমান রাজার মন্ত্রী। তিনি অসম্ভব দক্ষতার সঙ্গে শাসনকার্যকে এগিয়ে নিয়ে যেতেন। পরমানন্দকে মনে ধরে রাজার। তাঁর কাজের স্বীকৃতি স্বরূপ কাঁকসার বিস্তীর্ণ অঞ্চলের জামিদারিত্ব প্রদান করেন রাজা নিজেই। বনজঙ্গলে ঢাকা কাঁকসা। পরমাননন্দ সে সব সাফ করে পেল্লাই সাতটি প্রাসাদ গড়েন। সাত পুত্র সন্তানের জন্য। পুকুর কাটেন। বিশাল বাগানবাড়ি তৈরি করেন। গড়ে তোলে. দুর্গাদালান। পরে সেটাই সবার কাছে পরিচিতি পায় কালিকাপুর রাজবাড়ি বলে। পরমানন্দের পর সাতজন মিলে বাবার তৈরি দুর্গা দালানে পুজো করতেন ধুমধামের সঙ্গে। বাংলার সেরা পুজোগুলির অন্যতম। এখন রাজমহিমা অস্তমিত। সময়ের সঙ্গে হারিয়েছে পুজোর জৌলুস। শুধু হারিয়ে যায়নি পরমানন্দ ও তাঁর সপ্ত সন্তানের গৌরবগাথা।



