নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট ফ্রিজ মামলায় আপাতত স্বস্তি কালীঘাট তৃণমূলের। প্রয়োজনে ওই তিনটি ফ্রিজ হওয়া অ্যাকাউন্টের টাকা ব্যবহার করতে পারবে তারা। সেগুলি থেকে প্রয়োজনীয় আইনি খরচও নিতে পারবে কালীঘাট তৃণমূল। বৃহস্পতিবার অন্তর্বর্তী নির্দেশে এমনটাই জানিয়েছে হাইকোর্ট। তবে অ্যাকাউন্ট পরিচালনার ক্ষমতা হাতে থাকছে না তাদের। অ্যাকাউন্ট পরিচালনার দায়িত্বে প্রাক্তন বিচারপতি সুব্রত তালুকদারকে স্পেশ্যাল অফিসার নিয়োগ করেছে আদালত। আপাতত আগামী ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত তিনিই ওই ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টগুলি পরিচালনা করবেন।
বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্য জানিয়েছেন, ফ্রিজ হওয়া অ্যাকাউন্টের টাকা স্পেশাল অফিসারের মাধ্যমেই তুলতে হবে কালীঘাট তৃণমূলকে। তিনটি ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টের অনুমোদিত স্বাক্ষরকারীদের মধ্যে যে কোনও দু’জনের সই করা চেকে খতিয়ে দেখে স্পেশাল অফিসারের তাতে স্বাক্ষরের করলে তবেই ব্যাঙ্ক থেকে অর্থ তোলা যাবে। অন্তর্বর্তী নির্দেশে বিচারপতি আরও জানিয়েছে, দলের দৈনন্দিন কাজকর্ম পরিচালনার জন্য অর্থ দিতে পারবেন স্পেশ্যাল অফিসার। আইনি খরচও নিতে পারবে কালীঘাট তৃণমূল। তবে কেউ চাইলেই বড় কোনও অর্থ দিতে পারবেন না স্পেশাল অফিসার। বিচারপতি ভট্টাচার্য জানিয়েছেন, ভবিষ্যতে তৃণমূলের দুই গোষ্ঠীর মধ্যে কমিশন কাউকে চূড়ান্ত স্বীকৃতি দিলে এই নির্দেশের পরিবর্তন চেয়ে আদালতের দৃষ্টি আকর্ষণ করা যাবে। আগামী ২১ সেপ্টেম্বর এই মামলার পরবর্তী শুনানি। এদিন কালীঘাট তৃণমূলের আইনজীবী অভিষেক মনু সিঙ্ঘভি সওয়ালে বলেন, এ ভাবে ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট ফ্রিজ হওয়ায় দলের কাজ অচল হয়ে যেতে পারে। একটি রাজনৈতিক দলের অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখতে টাকার প্রয়োজন। দলের প্রতিটি টাকার হিসাব নির্বাচন কমিশন এবং আয়কর দপ্তরের নিয়ন্ত্রণ ও নজরদারির মধ্যে থাকে। এগুলি নগদ লেনদেনের অ্যাকাউন্ট নয়। দলের মোট ৯টি ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট ফ্রিজ করে দেওয়া হয়েছে। কোনও রাজনৈতিক দলের ক্ষেত্রে এর আগে এমন ঘটনা কখনও ঘটেনি।’ অন্যদিকে, বিক্ষুব্ধ তৃণমূল শিবিরের অভিযোগকারী বিধায়ক বিশ্বনাথ দাসের হয়ে আইনজীবী নীরজ কিশান কউল এবং কে পরমেশ্বর বলেন, ‘আমাদের দলত্যাগী বলা হচ্ছে। কিন্তু আমরাই আসল তৃণমূল। তাই দল নিয়ে অধিকার আমাদেরই থাকবে।’