বহু বছর আগে দত্তপুকুরের কালাচাঁদপাড়ায় বাস করতেন বিনয় চক্রবর্তী নামে এক তান্ত্রিক। সেখানেই তিনি প্রতিষ্ঠা করেন মা কালীর মূর্তি। মায়ের স্বপ্নাদেশ পেয়ে সংসার ধর্ম ত্যাগ করে ওই জায়গায় পুজো শুরু করেন। এখানে পঞ্চমুণ্ডীর আসনে অধিষ্ঠান মা কালীর। কথিত আছে, পুজো করতে করতে সেই তান্ত্রিক কখনও শূন্যে উঠে যেতেন। কখনও আবার তাঁর শরীরে অদ্ভুত কিছু পরিবর্তন দেখা যেত। সেই সময় প্রতি অমবস্যায় চলত যজ্ঞ। এখন তান্ত্রিক প্রয়াত হয়েছেন। কিন্তু পুজোর সেই ধারা আজও বজায় রয়েছে। এলাকার মানুষজন দত্তপুকুরের কালাচাঁদপাড়ার তান্ত্রিক বাড়ি হিসেবেই চেনে জায়গাটিকে। কালীপুজোর এক সপ্তাহ আগে মন্দিরের বেদী থেকে মাকে নামানো হয়। মন্দিরেই চলে মায়ের অঙ্গসাজের পর্ব। কালীপুজোর দিন মাকে বেদীতে তোলা হয়। মায়ের প্রাণ প্রতিষ্ঠা করেন সুকুমার চক্রবর্তী। এরপর শুরু হয় পুজো। স্থানীয় মানুষজনের বিশ্বাস, বহু বছর আগে বিনয় চক্রবর্তী রাতে মায়ের পায়ের শব্দ শুনতে পেতেন এই বাড়িতে। এখনও পুজোর দায়িত্বে রয়েছেন গোপাল ভট্টাচার্য সহ আরও কয়েকজন। তাঁরাও রাতে মাঝেমধ্যে বাড়ির মধ্যে এমন রহস্যজনক শব্দ পান, শুনলে মনে হবে পায়ে ঘুঙুর পরে কেউ হেঁটে যাচ্ছে। ‘মা’ বলে ডেকে উঠলেই আচমকা থেমে যায় সেই শব্দ। ভক্তদের দাবি, অমাবস্যার আগে এই ঘটনা বেশি করে ঘটে। দূরদূরান্তের অনেকে মায়ের কাছে মানত করেন। তবে এখানকার পুজোয় বলির প্রথা প্রচলিত নেই।



