Bartaman Logo
১১ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

লজিক্যিাল ডিসক্রিপেন্সির গেরোয় শুনানিতে ডাক কাজল শেখকেও

সরাসরি বিজেপি ও বিজেপি নিয়ন্ত্রিত নির্বাচন কমিশনকে দায়ী করেছিলেন বীরভূম জেলা পরিষদের সভাধিপতি কাজল শেখ।

লজিক্যিাল ডিসক্রিপেন্সির গেরোয় শুনানিতে ডাক কাজল শেখকেও
  • ২০ জানুয়ারি, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

সংবাদদাতা, বোলপুর: এসআইআরের শুনানি নিয়ে গোটা বাংলার মানুষ চরম ক্ষুব্ধ ও বিভ্রান্ত। এই পরিস্থিতির জন্য সরাসরি বিজেপি ও বিজেপি নিয়ন্ত্রিত নির্বাচন কমিশনকে দায়ী করেছিলেন বীরভূম জেলা পরিষদের সভাধিপতি কাজল শেখ। তাঁর এই মন্তব্যের একদিন না পেরতেই কাজলের কাছে এল শুনানির নোটিশ। তাঁর দাবি, ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের প্রাক্কালে পরিকল্পিতভাবে ভোটারদের হয়রান করার উদ্দেশ্যেই এই প্রক্রিয়া চালু করা হয়েছে। বিজেপির বিরুদ্ধে কথা বলার জন্যই এমনটা করেছে বলে অভিযোগ তাঁর।

Advertisement

উল্লেখ্য, সোমবার সকালে বোলপুর শ্রীনিকেতন ব্লকে এসআইআর শুনানি শিবির পরিদর্শনে আসেন কাজল শেখ। এদিন তিনি সাধারণ মানুষের বিভিন্ন অভিযোগ শোনেন। তারপর সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে জানান,  এসআইআরের নামে মানুষকে দীর্ঘ লাইনে ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করানো হচ্ছে, যার ফলে বহু ভোটারের অকাল মৃত্যু হয়েছে। এই মৃত্যুর সম্পূর্ণ দায় বিজেপিকেই নিতে হবে। তিনি বলেন, এটি একটি সুপরিকল্পিত চক্রান্ত ও ষড়যন্ত্র। এমনকী অশীতিপর মহিলাদেরও হাজিরা দিতে বাধ্য করা হচ্ছে। অথচ তাঁরা ২০০২ সালের আগে থেকে নিয়মিত ভোট দিয়ে আসছেন এবং তাঁদের সমস্ত নথি সঠিক রয়েছে। তিনি আরও অভিযোগ করেন, বোলপুর-শ্রীনিকেতন ব্লকে প্রায় আড়াই লক্ষ ভোটারের মধ্যে ৩৮ হাজার জনকে ডাকা হয়েছে, যদিও তাঁদের নথিপত্র নিখুঁত। বীরভূম জেলার প্রতিটি ব্লকেই একই ছবি দেখা যাচ্ছে। এই পরিস্থিতিতে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের নির্দেশে ভোটারদের পাশে দাঁড়ানোর আশ্বাস দিয়েছে তৃণমূল। আমরা সেইমতো মানুষের পাশে আছি।

কাজল শেখ নানুর বিধানসভার ভোটার। তাঁকে দেওয়া  নোটিসে শুনানিতে আসার কারণ দেখানো হয়েছে, বর্তমান ভোটার তালিকা এবং পূর্ববর্তী এসআইআরের সময়ে প্রস্তুত ভোটার তালিকায় তাঁর বাবার ও তাঁর নামের গরমিল। আগামী ৭ দিনের মধ্যে তাঁকে শুনানির জন্য উপস্থিত হতে বলা হয়েছে। নোটিস পাওয়ার পরই এদিন সন্ধায় বোলপুরে জেলা পরিষদের ডাক বাংলোতে একটি সংবাদিক সম্মেলন করেন তিনি। সেখানে কাজল শেখ বলেন, এই নিয়ে যখনই ভাবছি তখনই মনে হচ্ছে আমরা এখনও পরাধীন। স্বাধীন হয়নি ভারতবর্ষ। আমাকে নোটিশ অনেক দূরের ব্যাপার, অর্থনীতিবিদ নোবেলজয়ী অমর্ত্য সেন, যাঁর পায়ে হাত দিয়ে প্রণাম করলে আমরা নিজেদের ধন্য বলে মনে করি, তাঁকেও নোটিস দেওয়া হয়েছে। তিনি বিভিন্ন সময়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বাংলার যে উন্নয়ন করেছেন, তাঁর শুভ কামনা করেছেন, তাঁর স্বপক্ষে কথা বলেছেন সেই ‘অপরাধ’-এই তাঁকে শুনানির ডাক। সোনালী বিবিকে অন্যায় ভাবে বাংলাদেশে পুশ ব্যাক করা হয়েছিল। তাঁকে বাড়িতে ফিরিয়ে দিয়েছেন সাংসদ সামিরুল ইসলাম, সেই কারণে তাঁকেও নোটিস দেওয়া হয়েছে। আমাকে শুনানিতে ডাকার কারণ আমার পূর্বপুরুষরা এই বাংলাতেই জন্মগ্রহণ করেছেন। বামফ্রন্টের জগদ্দল পাথরকে হটাতে গিয়ে আমি আমার বাবা, দুই দাদাকে হারিয়েছি, সারা বাংলার মানুষ জানে কাজল রোহিঙ্গা নয়, বাংলাদেশ বা পাকিস্তান থেকে আসেনি। বিজেপির বিরুদ্ধে কথা বলার জন্যই এই নোটিস। আমি শুনানিতে অবশ্যই যাব,কিন্তু বিজেপির চক্রান্তকে ধিক্কার জানাই। ইডি, সিবিআইয়ের ভয় দেখিয়ে আমাকে লাভ হবে না।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ